সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের “বাবার হাট”, যে দুঃখ সিলেটবাসীর

ওয়েছ খছরু:: সিলেটে কাস্টঘর। মাদকের হাট। এখনো এটি জমজমাট। রাত হলেই বাংলা মদ খেতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মাদকসেবীরা। কিন্তু এই কাস্টঘর এখন পরিচিত ‘বাবার হাট’ নামে। দক্ষিণ সুরমা থেকে আসে ইয়াবার চালান।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে আসে ইয়াবা। দক্ষিণ সুরমার কলোনি এলাকা নয়, পার্শ্ববর্তী খোজারখলা ও বরইকান্দিসহ কয়েকটি এলাকায় রয়েছে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আস্তানা। সিলেটের বিমানবন্দর সড়কে চা-বাগান এলাকা। রাত হলেই মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়ে। এই মাদক আস্তানাগুলো সিলেটের মানুষের দুঃখ। কিন্তু এগুলো এখনকার না। যুগ যুগ ধরে মাদক বিক্রি হচ্ছে এসব হাটে। মাদক বলতে এখানে কেবল চোলাই মদ। বাগানি কুলি ও মেথরদের জন্য এসব হাট। বৈধতা আছে ওদের। কিন্তু চোলাই মদই শেষ কথা নয়- এসব চোলাই মদের হাট এখন পরিণত হয়েছে বাবার হাটে। সিলেটে স্থানীয় ভাষায় ইয়াবাকে মাদকসেবীরা বাবা বলেই ডাকে। ফলে ইয়াবা বিক্রির নিরাপদ এলাকায় পরিণত হয় সিলেট। নগরীর মীরাবাজারে বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া ও তার ছেলে রোকন খুনের ঘটনার পর সিলেটের ইয়াবা হাটের নতুন সন্ধান মিলে। সুন্দরী নারীরা জড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা বিক্রিতে। এই রকম এক সুন্দরী নারী ছিল সিলেটের তানিয়া আক্তার। ইয়াবা বিক্রির ভাগবাটোয়ারা এবং অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে তানিয়া ও তার স্বামী মামুন নির্মমভাবে খুন করেছিল রোকেয়া ও তার ছেলেকে। এ ঘটনার পর সিলেট পুলিশ ইয়াবা সিন্ডিকেটের সন্ধানে নামে। খবর নিয়ে জানা যায়- নগরীর ভদ্রবেশী কয়েকজন নারী সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে অসামাজিক ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রোকেয়া খুনের ঘটনার পর তারা অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে। সিলেট নগরীর হাওয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করে দিলারা নামের এক নারী। সে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। মুন্সিপাড়ার এক পুলিশ কর্মকর্তার শেল্টারে দিলারা সিলেটে ইয়াবা বিক্রিতে বেপরোয়া হয়। দিলারার আস্তানা থেকে উত্থান ঘটে তানিয়ার। সিলেট নগরীতে এরকম বহু রমনী রয়েছে যারা সম্প্রতি সময়ে ইয়াবা ব্যবসা জড়িয়ে পড়ে। ইয়াবা চালান চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার নিয়ে নিয়ে আসা হতো সিলেটে। শহরতলীর দর্শা গ্রামের ইলিয়াস নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। প্রায় ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ সিলেটের কলাপাড়া ডহর এলাকার বাউল আবুল কালামকে হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর আবুল কালামের মেয়ে রহিমা আক্তার রুহী সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছিলেন ইলিয়াস আলীকে। রুহি জানিয়েছিলেন, তার পুরো পরিবারকে ইলিয়াস গানের কথা বলে কক্সবাজার নিয়ে গিয়েছিলেন। তারা ইলিয়াসের জিপে করে কক্সবাজার থেকে ফিরছিলেন। তিনি বলেন, ওই ইয়াবার চালান ইলিয়াস তাদের গাড়িতে দিয়েছিল। সিলেটের এই ইলিয়াস এখন ফেরারি। দ্বিতীয় স্ত্রী হোসনেআরাকে নিয়ে সে বসবাস করতো শহরতলীর টুকেরবাজারের পীরগাঁও গ্রামে। সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে ইয়াবারহাট গড়ে তুলেছিল ইলিয়াস। সিলেটের জালালাবাদ থানার পুলিশ ইলিয়াসের ওই আস্তানার খবর পায়। এরপর থেকে ইলিয়াস স্ত্রী সহ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এদিকে কাস্টঘরের চোলাইমদ বিক্রির আড়ালে বাঘা লাল, রতন লাল, পান্নু লাল, লিপি লাল ইয়াবা বিক্রি করে। তারা প্রতি সপ্তাহে দুটি থেকে তিনটি ইয়াবার চালান ঢুকায়। এই চার জনের বাইরে হিরন লাল, রুবেল লাল, রাজেশ লাল, রাঙ্গা লাল, সুজন লাল, চোলাই লালসহ কয়েকজন। সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা পুলিশের কাছে নেই। সিলেট মহানগরের ৬টি থানা ও জেলার ১৩টি থানায় সে তালিকা রয়েছে সেগুলো অনেক পুরনো। বিভিন্ন সময় মামলা ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পরিপ্রেক্ষিতে ওইসব তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. আব্দুল ওয়াহাব মানবজমিনকে জানিয়েছে- মাদকের বিরুদ্ধে সিলেট পুলিশের অবস্থান সব সময় সক্রিয়। আগের চেয়ে অনেক মাদক বিক্রি কমেছে। কয়েকটি আস্তানা পুলিশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখনো পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। তবে সিলেটের পুলিশ ক্রমেই অভিযান জোরদার করছে। যেখানেই মাদকের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে ও গ্রেপ্তার করছে। কয়েক দিনে পুলিশ মহানগর এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানান তিনি। এদিকে কয়েক মাস আগে সিলেটের কোতোয়ালি থানার পুলিশ তার নিয়ন্ত্রিত এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিল। ওই এলাকায় অনেকেরই নাম উঠে এসেছে। পুলিশের ওই তালিকা থেকে জানা গেছে- সিলেট নগরীর জল্লারপাড় এলাকায় কালামের নেতৃত্বে ২০ জনের একটি মাদক বিক্রির টিম রয়েছে। ওই টিম ইয়াবা, হেরোইন, মদ ও ফেনসিডিল বিক্রি করে। বিরানীহাটের মাহবুব হোসেন ইয়াবা বিক্রি করে। তার সঙ্গে রয়েছে ১০ জন। গোয়াইনঘাটের শনিরগ্রাম গ্রামের মাইনুদ্দিনের ছেলে ফয়েজ আহমদের বর্তমান আস্তানা নগরীর পশ্চিম কাজল শাহ এলাকায়। তার ৫ সহযোগীকে নিয়ে কাজলশাহ এলাকায় সে মাদকের আস্তানা গেঁড়ে ছিল। এরপর সে একবার পুলিশের হাতে ধরাও পড়ে। পারভিন আক্তার নামের এক মহিলা মাদক বিক্রেতা ছিল ঢাকার ডিএমপি এলাকায়। ডিএমপিতে তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের হওয়ার পর সিলেটে এসেছিল। সিলেটে মামলা হওয়ার পর ঢাকা পালিয়ে যায়। এখন সে ১৫ জনের টিম নিয়ে ঢাকা ও সিলেটে ব্যবসা করে আসছে। সিলেট নগরীর শেখঘাটের চাক্কু রব নামের এক মাদক বিক্রেতার ৫ সহযোগী রয়েছে মাদকসহ ধরা পড়ার পর তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। সিলেট নগরীর বারুতখানা এলাকার আরেক মাদক বিক্রেতা সাইদুজ্জামান লাভলু। সে গোলাপগঞ্জের মাদক আইনের একটি মামলার আসামি। বর্তমানে বাসা ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে থেকে ৫ সহযোগীসহ মাদক বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। চট্রগ্রামের রাউজান এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন ওরফে বাবলু সিলেট নগরীতে ২০ জনের টিম নিয়ে মাদক বিক্রি করে বেড়াতো। ইয়াবা বিক্রি ছিল তার মূল ব্যবসা। বাবলুকে বর্তমানে সিলেটে দেখা না গেলে তার সিন্ডিকেটের অনেকেই খুচরো হারে মাদক বিক্রি করছে। নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার আশিক, মাসুক, সাবু, রুবেল, রমজানসহ কয়েক জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। শাহেদ আহমদ নামের আরেক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি নগরীর তালতলা এলাকায়। সে নিজেকে সোর্স সাহেদ বলে পরিচয় দেয়। সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানার বাইরে আরো কয়েকজন দুর্ধর্ষ মাদক বিক্রেতা রয়েছে। এরা বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হলেও বেরিয়ে এসে পুনরায় মাদক বিক্রি শুরু করে। এরমধ্যে রয়েছে হাতিমবাগ এলাকার মাসুম মিয়া, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শামীম আহমদ কবির, সালুটিকর এলাকার ধরাকুল গ্রামের কমলা বেগম, তাহিরপুরের শ্রীপুর এলাকার উজ্জ্বল মিয়া। সিলেট নগরীর কাস্টঘরের জমাদার আজকর বাবুও একজন মাদক ব্যবসায়ী বলে খোদ পুলিশের তালিকা থেকে জানা যায়। তার শেল্টারে কাস্টঘর এলাকায় পান্নু লাল, রতন লাল, অমর লাল, ঘাম বাসপর, রামু বাসপুর, সবুজ লাল, বিরোজ লালসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সিলেট নগরীর রেলওয়ে স্টেশন ও ক্বীন ব্রিজের দক্ষিণ এলাকায় ফরিদা, নাসিমা, বুলু, মহিদ, আনোয়ারসহ কয়েকজন মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করে। এছাড়া কাজিটুলা এলাকায় শফিক, স্বপন ও সমুন, মধুবন এলাকায় হোসাইন আহমদ মাদক বিক্রি করে বলে পুলিশ জেনেছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: