সর্বশেষ আপডেট : ৪৮ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের ঈদ বাজার: ব্যবসায়ী বাড়লেও, বাড়েনি ব্যবসা

জীবন পাল:: নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বন্দর টু জিন্দাবাজার। অফিস খোলার দিন বা সপ্তাহিক ছুটির দিন বলে কিছু নেই, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পায়ের চিহ্ন পড়ে এ এলাকার ফুটপাতে।

বন্দর পয়েন্ট থেকে অগ্রগামী স্কুল এলাকার পাশ্ববর্তী ফুটপাত সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থাকে মানুষের ঠাসাঠাসি। এ ফুটপাতে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে পোশাকের ব্যবসা করছেন আব্দুর রশিদ। বরাবরের মতো এবারও ঈদের জমজমাট বিক্রির আশায় বাহারি নতুন পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

ঈদকেন্দ্রিক বিক্রি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এ ব্যবসায়ী ডেইলি সিলেটকে বলেন, ‘মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি কম। গত বছর প্রথম ১০ রোজায় যা বিক্রি করেছি, এবার ১৫ রোজা পর্যন্ত তার অর্ধেকও বিক্রি হয়নি।’

‘প্রতি বছরই ঈদ আসলে ব্যবসায়ীরা বিক্রি গত বছরের তুলনায় কম- এমন অভিযোগ করেন। এটা কি আপনাদের মুখস্থ কথা’- এমন প্রশ্নে আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ভাই মনে রাখবেন, যায় দিনই ভালো, আর আসে দিন খারাপ। ব্যবসা নিয়ে মিথ্য কথা বলব ক্যান। আসলেই এবার বিক্রি পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় কম। সব ব্যবসায়ীর একই অবস্থা।’

বিক্রি পরিস্থিতি খারাপ কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষই বেশি আসেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে ঈদের আমেজ আগের মতো নেই। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো নয়। এসব কারণেই বিক্রি দিনদিন কমে যাচ্ছে।’ এর মধ্যে যে হারে ব্যবসায়ী বেড়েছে, সেই হারে বাড়েনি ব্যবসা। এখন হলো প্রতিযোগিতার বাজার।’

মেয়েদের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মো. মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষরাই আমাদের কাছে মার্কেট করতে আসেন। তাই আমরাও তাদের সামর্থ ও পছন্দের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পণ্য আনি। আমার এখানে মেয়েদের কামিজ,টপস,ফ্রক ও শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। কামিজ বিক্রি করছি ৩৫০ টাকায়,যা বড় মার্কেটে ৫০০ টাকার কমে পাওয়া যাবেনা। অন্যদিকে যে টপস ২৫০ টাকায় বিক্রি করছি তা বড় মার্কেটে কিনতে হলে গুনতে হবে ৩৫০-৪০০ টাকা। তাছাড়া আমার এখানে এক পিস ফ্রক বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়।

ছেলেদের বাহারি শার্ট নিয়ে বসেছেন ইমন আহমেদ। তিরি বলেন, ৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। মূলত মধ্যবিত্ত,নিম্নবিত্তরাই আমাদের কাস্টমার। তারা এখান থেকে শার্ট কেনেন। তাছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও কোচিং করতে আসা ছাত্ররা আমাদের কাছ থেকে শার্ট সংগ্রহ করেন, সাধারণ মানুষও কেনেন। সাধারণের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা মাল আনি। ।

বিক্রি পরিস্থিতি সম্পর্কে এ ব্যবসায়ী বলেন, বিক্রি মোটামুটি। তবে গত বছরের তুলনায় কম। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মাসের মাঝামাঝি সময় রোজা শুরু হয়েছে। এ কারণে কারও হাতে তেমন টাকা-পয়সা নেই। মাসের বেতন পাওয়ার পর কেনাকেটা অনেকটাই বাড়বে বলে আশিাবদি বলে জানান তিনি।

শুধু বন্দর নয় ঈদ সামনে রেখে সিলেট নগরীর প্রায় প্রতিটি ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বাহারি নতুন পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। নগরীর যে কয়টি এলাকায় ফুটপাতে ঈদকেন্দ্রিক জমজমাট বিকিকিনি হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বন্দর, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, রেজিষ্ট্রি মাঠ, পুলের মুখ, ষ্টেডিয়াম, আম্বরখানা।

বন্দরেরর মতো এসব অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাও এবার ঈদকেন্দ্রিক বিক্রি কম বলে জানান।

চৌহাট্টা ব্যবসায়ী মিঠু রায় ডেইলি সিলেটকে বলেন, গত বছর পাঁচ রোজার পর ১৫ রোজা পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে যে বিক্রি হয়েছে এবার ১৫ রোজায় সব মিলিয়ে তার সমান বিক্রি হয়নি।

আমার এখানে অধিকাংশ কাষ্টমারই বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজের শিক্ষার্থী। যেসব শিক্ষার্থী আসেন তাদের বড় অংশই টিউশনি করেন। সুতরাং তাদের টিউশনির টাকা পেতে ৫-৭ তারিখ লেগে যাবে। আশা করছি তখন বেচাবিক্রি ভালো হবে। তাছাড়া সাধারন মানুষও যারা চাকুরী করেন তাদেরও তো এখনো বেতন-বোনাস হয়নি। বেতন-বোনাসের পরই বেচা-বিক্রি বাড়বে বলে আা ব্যক্ত করেন তিনি।

ছেলেদের পাঞ্জাবী বিক্রেতা মো.নূর হোসেন বলেন, গত বছর ১০ রোজার পর ভালই বিক্রি হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তেমনটা ভীড় দেখা যাচ্ছেনা। শেষ রোজার পর হয়তো বেচা বিক্রি বাড়তে পারে।

জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী মো. রনি ডেইলি সিলেটকে বলেন , ‘ভাই বিক্রির পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়।। বেচা বিক্রির অবস্থাটাই প্রতিদিনের মতই। আগের বছরের অর্ধেকও বিক্রি হয়নি। তবে আমরা আশা করছি, শেষ ১০ রোজায় ভালো ব্যবসা করব। কারণ আমাদের কাছ থেকে যারা পোশাক কেনেন তাদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। তারা বেতন-বোনাস পাওয়ার পর রোজার শেষপর্যায়ে এসে কেনাকাটা করেন। অনেকে আবার চাঁদরাতের অপেক্ষায় থাকেন। ভাবেন ওইদিন কম দামে পাওয়া যাবে।’




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক: লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: