সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভবিষ্যতে আমাদের বাড়তি খাবারের চাহিদা মেটাবে এটাই!

নিউজ ডেস্ক:: আমাদের দেশে অ্যালজি নামে সামুদ্রিক শৈবাল খাওয়ার খুব একটা প্রচলন নেই। তবে এগুলো আয়োডিনসহ বিভিন্ন পুষ্টির উৎস। ওজন কমানোর সময় দেহের হরমোনের মাত্রা ঠিক রাখাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এটি। আর একেই ভবিষ্যতের খাবার হিসেবে মনে করছেন গবেষকরা।

শুধু পুষ্টিকর হিসেবেই নয়, আরেকটি বড় কারণে অ্যালজিকে ভবিষ্যতের খাবার বলা হচ্ছে। কারণটা হলো এর ব্যাপক উৎপাদন সম্ভাবনা। ভবিষ্যতে পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সে তুলনায় কৃষিভূমি অপ্রতুল হয়ে পড়ছে। এছাড়া গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের মতো প্রাকৃতিক বিষয় রয়েছে, যার কারণে কৃষিভূমির উৎপাদনও অনিশ্চিত। শৈবাল জলাভূমিতে হয়। আর পৃথিবীর অধিকাংশ এলাকাতেই সমুদ্র বা জলাভূমি থাকায় সে অংশে সহজেই এই অ্যালজি চাষ করা সম্ভব।

২০১৫ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ১০ বিলিয়নে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়তি জনসংখ্যাকে খাওয়ানোর জন্য বিশ্বের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ৭০ শতাংশ। আর এ চাহিদা মেটাতে না পারলে বড়ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বিশ্ব।

গবেষকরা বলছেন, তারা এ বিশাল সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। আর এ সমাধানই হলো অ্যালজি নামে সামুদ্রিক শৈবাল। ক্ষুদ্র সবুজ প্রোটিনসমৃদ্ধ উদ্ভিদটি বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করলেই তা মানুষের ক্ষুধা দূর করতে পারবে।

ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন ভূমি স্বল্পতা। বিশ্বের প্রায় ৩৭ শতাংশ ভূমি কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। অবশিষ্ট ভূমি পাহাড়-পর্বতসহ নানা কারণে ব্যবহার উপযোগী নয়। কিন্তু এ ভূমির ওপরও মানুষের প্রভাব বাড়ছে। সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে কৃষিভূমি।

অ্যালজির বিষয়টি অবশ্য কৃষিভূমির থেকে আলাদা। শুধু সমুদ্রেই নয়, এটি মরুভূমিতেও চাষ করা যায়। এজন্য এমনকি স্বাদু পানিরও প্রয়োজন নেই। সামুদ্রিক পানি পাম্প করেও কাজ চালানো যায়। এভাবে বিশ্বের বিপুল বিস্তৃত মরুভূমিতেও উৎপাদন করা সম্ভব অ্যালজি। এর ফলে মানুষের খাদ্যের চাহিদাও মেটানো সম্ভব।

৪০ শতাংশ প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ থাকার পরেও অ্যালজি অবশ্য অনেকেই খেতে চান না। এর পেছনে রয়েছে মানুষের অভ্যাস গড়ে না ওঠা। তবে গবেষকরা বলছেন, একই ভূমি ব্যবহার করে সয়াবিনের তুলনায় অ্যালজি চাষে সাত গুণ প্রোটিন পাওয়া সম্ভব।

বর্তমানে অ্যালজি বহু ফুড সাপ্লিমেন্টে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিভাবে এটি মানুষের খাবারের মেনুতে প্রবেশ করানো যায়, এটি নিয়ে এখন অনেক বিজ্ঞানী কাজ করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো রাজ্যে এটি নিয়ে গবেষণা করছে গ্রিন স্ট্রিম ফার্মস নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তারা অ্যালজি ব্যবহার করে একটি উন্নতমানের বিস্কুটও বানিয়েছে, যা খেতেও বেশ সুস্বাদু। ভবিষ্যতে এ ধরনের খাবারের প্রসার আরো বাড়বে বলে আশা করছেন গবেষকরা।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: