সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মোবাইলেই বানান সিনেমা

নিউজ ডেস্ক:: আপনার পকেটের স্মার্টফোনটির সঙ্গে অল্প কিছু অ্যাপ আর গ্যাজেট যোগ করে সেরে ফেলতে পারবেন শুটিং করা থেকে ভিডিও সম্পাদনার কাজও। এসব দিয়ে চাইলে সহজেই যে কেউ ইউটিউব ভিডিও থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র পর্যন্ত শুট করতে পারবেন।

চাই ভালো ক্যামেরা ফোন

স্মার্টফোনে ভিডিও করতে চাইলে আপনার ফোনের ক্যামেরাটি হওয়া চাই ভালো মানের। বাজারে হুয়াওয়ে পি২০ প্রো, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস এস৯+, গুগল পিক্সেল এক্সএল, স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৮, ওয়ান প্লাস ৬, আইফোন ৮+, আইফোন ১০, এলজি ভি৩০ ইত্যাদি ফ্ল্যাগশিপ ফোন ক্যামেরার রাজা। তবে যদি বাজেট কম থাকে, তাহলে শাওমি রেডমি এ১, শাওমি রেডমি নোট ৩, হুয়াওয়ে নোভা ২ আই, মটরোলা জি৫এস প্লাস, অপো এফ৭, ভিভো ৯ ইত্যাদি ফোন দেখতে পারেন। এ ছাড়া বাজারে আরো অনেক ভালো ক্যামেরা ফোন রয়েছে। যদি আপনার বেশি ভিডিও ব্লগ করতে হয়, তাহলে সেলফিকেন্দ্রিক ফোন কেনা উচিত।

 

ক্যামেরা ফোন ভিডিও স্ট্যাবিলাইজার গিম্বল

ফোনে ভিডিও করার মূল চ্যালেঞ্জ সেটি স্থিরভাবে ধরে রাখা এবং দৃশ্যপট বদলানোর সময় সাবলীলভাবে প্যান করা। দুটি কাজ করার জন্যই প্রয়োজন একটি স্ট্যাবিলাইজার, যাকে ক্যামেরার ভাষায় ‘গিম্বল’ বলা হয়। সেলফি স্টিকের মতো দেখতে ডিভাইসটিতে ফোন রেখে ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযোগ করে গিম্বল চালু করে দিলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনকে স্থির রাখবে। শুধু তা-ই নয়, শাটার বাটন ও ক্যামেরা  ঘোরানোর জন্য এতে আছে হ্যান্ডল। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গিম্বল পাওয়া যায়। তার মধ্যে চীনের ঝিউন ব্র্যান্ডটি উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠানটির স্মুথ কিউ মডেলের স্ট্যাবিলাইজারটি দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮ হাজার টাকায়। এ ছাড়া ব্র্যান্ড ও মডেল অনুযায়ী বাজারে গিম্বলের দাম শুরু হয়েছে ১৫ হাজার টাকা থেকে।

 

ব্লুটুথ নিয়ন্ত্রিত মটোরাইজড ট্রাইপড

ইনডোর শুটিংয়ের জন্য ট্রাইপড একটি অপশন। ক্যামেরা যদি বেশি নাড়াচাড়া না করতে হয় ,তাহলে ট্রাইপডই শেষ কথা। এটার দাম গিম্বলের চেয়ে বেশ কম। দুই ধরনের ট্রাইপড বাজারে পাওয়া যায়। ব্লুটুথহীন ও ব্লুটুথসংবলিত। ব্লুটুথহীন ট্রাইপড হাত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দাম পড়বে এক হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ব্লুটুথসংবলিত ট্রাইপডে ফোন রেখে ব্লুটুথ রিমোটের মাধ্যমে ফোনের অ্যাঙ্গেল ও প্যান বদলাতে রয়েছে শাওমি ট্রাইপড। এই ট্রাইপডে ভিডিও কল অথবা লাইভ কাস্ট ঝাঁকুনি ছাড়াই করা যাবে। তবে ট্রাইপডটির উচ্চতা কিছুটা কম, মূলত ডেস্কে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ডিভাইসটি এক হাজার ৯৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

 

মোবাইল ক্যামেরার লেন্স

স্মার্টফোনে ছবি কিংবা ভিডিও আরো সুন্দর করে তুলতে বাজারে পাওয়া যায় কিছু পোর্টেবল লেন্স। এসব লেন্স প্রফেশনাল ডিএসএলআর ক্যামেরা লেন্সের মতো না হলেও স্মার্টফোনের ফটোগ্রাফিতে খানিকটা হলেও এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ফোনের জন্য সাধারণত ম্যাক্রো লেন্স, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স, ফিশ আই লেন্স—এই তিন ধরনের লেন্স পাওয়া যায়।

ম্যাক্রো লেন্সের সাহায্যে খুব কাছ থেকে অর্থাৎ ২-৩ সেন্টিমিটার সামনের কোনো বস্তুকে ফোকাস করে ছবি তোলা যায়। ফিশ আই লেন্স দিয়ে ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ছবি তোলা যাবে। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স দিয়ে কোনো দৃশ্যে আরো একটু বেশি প্রশস্ততায় ধারণ করা যাবে।

মডেল ও ব্র্যান্ড অনুযায়ী এগুলোর দাম পড়বে ২৫০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা।

 

সেলফি স্টিক

স্মার্টফোনের সাহায্যে নিজেই নিজের কোনো দৃশ্য ধারণ ও ভিডিও ব্লগিং করার জন্য সেলফি স্টিক বেশ সহায়ক। ছোট ফোনের জন্য ছোট স্টিক আর বড় ফোনের জন্য বড় স্টিক ব্যবহার করাই ভালো। না হলে ফোনের আকার বেশি বড় হয়ে গেলে স্টিকের হোল্ডারে ঠিকমতো আটকাবে না, ফ্রেমিংয়েও ঝামেলা হবে। যত লম্বা স্টিক তত ভালো ছবি ও ভিডিও করা যাবে।

সেলফি স্টিকে যদি ক্যামেরা (গো প্রো) বা ভিডিও ক্যামেরা বসাতে চান, তাহলে স্টিকে মাউন্ট অপশন আছে কি না দেখে নিন। এটি আসলে মোটা একটি স্ক্রু, যা দিয়ে ক্যামেরার পজিশন ঠিক করা যায়।

বাজারে বিভিন্ন দামের ও নানা রকমের সেলফি স্টিক পাওয়া যায়। মূল্য শুরু ২০০ টাকা থেকে।

 

লাইটিং

মোবাইল ভিডিও করার সময় লাইট বা আলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যদি আলো কম থাকে, তাহলে ভিডিও ভালো হবে না। যদি ইনডোর শুট হয়, তাহলে অবশ্যই লাইটের ব্যবহার করতে হবে।

মোবাইল ক্যামেরার জন্য এলআইডি ফ্ল্যাশ লাইট কিনতে পাওয়া যায়। আকারে ছোট ও সহজেই বহনযোগ্য এই এলইডি ফ্ল্যাশ লাইটগুলো চার্জ করতে হয়। তারপর ফোনের ৩.৫ এমএম পোর্ট সংযোগ করতে হয়। তাহলে এটি চালু হয়ে আলো দেবে। এতে ভিডিওতে আলোর স্বল্পতা অনেকখানিই দূর হবে। এ ধরনের এলইডি ফ্ল্যাশ লাইট ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে মডেল অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ছবি তোলা বা ভিডিওতে ব্যবহারের জন্য বড় আকারের লাইট সেটআপ বাজারে পাওয়া যায়। প্রয়োজনে সেগুলো কিনতে পারেন। ডিভাইসগুলোর দাম মডেল অনুযায়ী এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু।

সম্পাদনাও করা যাবে মোবাইলেই

মাইক্রোফোন

ভিডিওতে সাউন্ড বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদি এমন কোনো ভিডিও তৈরি করতে চান—সেখানে ভয়েজের প্রাধান্য থাকবে, সে ক্ষেত্রে ফোনের বিল্ট ইন মাইক্রোফোন খুব একটা কাজে আসবে না। এ জন্য আলাদা একটি মাইক্রোফোন ব্যবহার করতেই হবে।

ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাইক্রোফোন কেনাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যদি বাজেট হয় সীমাবদ্ধ, তাহলে এমন একটি মাইক্রোফোন কিনুন, যা আপনি বেশির ভাগ কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। ভিডিওর ক্ষেত্রে কনডেনসার মাইক্রোফোন ব্যবহার করা উচিত।

২৫০ থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকার বেশি দামের মাইক্রোফোন রয়েছে।

অনেক সময় এসব মাইক্রোফোন অনেক স্মার্টফোনে সমর্থন না-ও করতে পারে। ফলে মোবাইলের বিল্টইন ক্যামেরার বদলে অন্য কোনো ভিডিও রেকর্ডিংয়ের অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

 

কোথায় পাবেন

ঢাকার বিসিএস কম্পিউটার সিটি, মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার, বসুন্ধরা সিটি, বায়তুল মোকাররম, যমুনা ফিউচার পার্ক শপিং সেন্টার, স্টেডিয়াম মার্কেটে এসব গেজেট কিনতে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট থেকেও এসব কেনা যাবে।

 

ভিডিও এডিটিং অ্যাপ

ভিডিও তো শুট করলেন। এবার পালা ভিডিও এডিটিং বা সম্পাদনার। এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেননা সম্পাদনা না করে ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও আপলোড করলে একটা খামতি থেকেই যায়। ভিডিও সম্পাদনার জন্য কম্পিউটার উপযোগী অনেক চমৎকার সফটওয়্যার রয়েছে। সেসবের সাহায্যে দ্রুত ও সুন্দরভাবে ভিডিও সম্পাদনা করা যায়। কম্পিউটার না থাকলেও চিন্তা নেই। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও ভিডিও সম্পাদনার কাজটা করা যায়। তেমনি একটি অ্যাপ হতে পারে ‘অ্যাডোবি প্রিমিয়ার ক্লিপ’। ছবি সম্পাদনার সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যার ফটোশপের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডোবির মোবাইলের ভিডিও সম্পাদনার অ্যাপ এটি। এই অ্যাপে ফোনের মেমোরির পাশাপাশি গুগল ড্রাইভ কিংবা ক্লাউড স্টোরেজ থেকে সরাসরি ভিডিও বা ছবি নিয়ে সম্পাদনা করা যাবে। অ্যাপের সাহায্যে চাইলে সরাসরি ভিডিও বা ছবি তুলেও সম্পাদনা করা যাবে। অ্যাপটির সুবিধা হচ্ছে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপনার ভিডিও সম্পাদনা করে দেবে। সে ক্ষেত্রে ছবি বা ভিডিওগুলো নির্বাচন করে ‘Automatic’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপর ‘Replace soundtrack’ অপশনে ক্লিক করে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যুক্ত করা যাবে। চাইলে ভিডিওতে নানা কালারের ফিল্টার সংযুক্ত করা যাবে। এ ছাড়া কত সময় ধরে ভিডিওটি চলবে তা-ও নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে।

ভিডিও তৈরি হয়ে গেলে তা রেন্ডার করা যাবে অ্যাপের ওপরে থাকা শেয়ার বাটনে ক্লিক করে। অ্যাপটির সাহায্যে সরাসরি ইউটিউব, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করা যাবে। এ ছাড়া ফোনের ইন্টারনাল মেমোরিতেও সংরক্ষণ করা যাবে। ৩.৯ রেটিং প্রাপ্ত অ্যাপটি ৫০ লাখেরও বেশি ডাউনলোড হয়েছে গুগল প্লেস্টোর থেকে। এই ঠিকানা (https://bit.ly/2LiFis0) থেকে অ্যাপটি বিনা মূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

মজার কোনো ভিডিও নানা ইফেক্ট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে চান অনেকে। তাঁদের জন্য চমৎকার একটি ভিডিও এডিটিং অ্যাপ ‘ফানিম্যাট ভিডিও এডিটর’। অ্যাপটিতে ভিডিওর তালে নানা চমৎকার ইফেক্ট ও টেক্সট সংযুক্ত করা যায়। এতে বিল্ট ইন কিছু ভিডিও টেমপ্লেট রয়েছে। সেগুলো নির্বাচন করে ভিডিও যুক্ত করে দিলে অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পাদনা করবে। এ ছাড়া অ্যাপটিতে রয়েছে বিল্ট ইন মিউজিক। চাইলে সেগুলোও ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে ফোনে। কিভাবে এই অ্যাপের সাহায্যে ভিডিও সম্পাদন করা যাবে, অ্যাপের ওপরে থাকা টিউটরিয়াল বিভাগ থেকে জেনে নেওয়া যাবে। অ্যাপটিতে ব্যবহারকারীরা ভিডিও আপলোড করে শেয়ার করতে পারেন। এতে ব্যবহারকারীরা হ্যাশট্যাগ অনুযায়ী জনপ্রিয় ও সর্বশেষ ভিডিওগুলো খুঁজে পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে। এই ঠিকানা (https://goo.gl/uh1Cyz) থেকে ৪.৫ রেটিং প্রাপ্ত অ্যাপটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

ভিডিও সম্পাদনার আরেকটি চমৎকার অ্যাপ্লিকেশন হলো ‘এলাইভ মুভি মেকার’। অ্যাপটির সাহায্যে ভিডিও থেকে ইচ্ছামতো কোনো অংশ কাটা, ভিডিও রেকর্ড, একাধিক ভিডিও একত্রে যুক্ত করার কাজটি করা যাবে। এ ছাড়া টেক্সট, ভিডিওতে নানা ইফেক্ট ও কালার পরিবর্তন করার পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও যুক্ত করা যাবে। অ্যাপটি এই ঠিকানা (https://goo.gl/BJUw96) থেকে বিনা মূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: