সর্বশেষ আপডেট : ৩২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কোটায় নিয়োগে পৃথক পরীক্ষার পরামর্শ

নিউজ ডেস্ক:: সরকারি চাকরিতে কোটায় নিয়োগে পৃথক পরীক্ষা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান একরাম আহমেদ।সোমবার রাজধানীতে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধের গৌরব: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সতর্কতা’ শীর্ষক এই জাতীয় সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।একরাম আহমেদ বলেন, চাকরিতে কোটার ব্যবস্থা অবশ্যই রাখতে হবে, তবে আলাদা নিয়োগ হতে পারে। অবশ্য সেখানে সংশোধনেরও প্রয়োজন আছে।

ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে পিছিয়ে পড়াদের জন্য যে কোটা, তাতে সম্পূর্ণ পৃথকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।কোটাধারীরা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে। তাহলে স্বার্থের সংঘাত থাকে না। তাই ভারতের মত বাংলাদেশেও আলাদা পরীক্ষার মাধ্যমে কোটার নিয়োগ হতে পারে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক অনুষ্ঠানে বলেন, নারী-শিশু ও সমাজের পশ্চাদপদ অংশকে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্র প্রয়োজনে আইন করতে পারবে।তাদেরকেতো ধাপে ধাপে নিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ৮০ ভাগ পিছিয়ে পড়া মানুষের সন্তান।তাদের সন্তানদের কীভাবে চাকরির পরীক্ষা পর্যন্ত নিয়ে আসতে হবে, ব্যবস্থা এখন হচ্ছে।ব্যবস্থা না থাকায় কোটা পূর্ণ হয় না।কারণ সেভাবে মেধা সম্পন্ন হননি।তাদেরকে এগিয়ে আনার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি কোটা ব্যবস্থাও চালু রাখতে হবে।

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব সাংবাদিক হারুন হাবীব বলেন, কোটা ব্যবস্থার সময়োচিত সংস্কার দরকার।সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেটা হতে পারে। কিন্তু এবারের আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক শক্তি টার্গেটে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের সন্তানেরা সব খেয়ে ফেলছে বা নিয়ে নিচ্ছে এমন ধারণা এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বলে আমাদের মনে হয়েছে।সে কারণে এক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন আছে।

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি কেএম সফিউল্লাহ বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যেটা দেওয়া হয়েছে, তারা সেটা চায় নাই।আমাদের যেহেতু দেওয়া হয়েছে, সেহেতু সেটা মর্যাদার সঙ্গে চালু রাখতে হবে।

অধিকার সংগঠন ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ বলেন, দুইটা জিনিস বেচাকেনা হচ্ছে, ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধ।সবচেয়ে বড় কষ্ট মুক্তিযুদ্ধকে বেচাকেনার পর্যায়ে নিয়ে গেছি আমরা।কিন্তু বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা গ্রামাঞ্চলের শ্রমিক, মজুর ও অশিক্ষিত মানুষ, তারা এটাকে সেভাবে চাননি।

জাতীয় ঐক্যের জন্য রাজাকারদের সন্তানদেরও কীভাবে মূলধারায় নিয়ে আসা যাবে তা নিয়ে উপায় খোঁজার কথা বলেন স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য খান সারওয়ার মুরশিদের মেয়ে শারমিন।

তিনি বলেন, তাদের সন্তানদের কীভাবে মূলধারায় নিয়ে আসব, সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি না।পিতার অপরাধের জন্য একটি গোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে এগোতে পারব না।তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একটি জায়গায় যাতে নিয়ে আসতে পারি, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।

তার এমন বক্তব্যের সমর্থনে পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান একরাম আহমেদ ও সাবেক রাষ্ট্রদূত কামাল উদ্দিনও কথা বলেন। তবে এর কড়া বিরোধিতা করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য জাসদ নেতা অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের সন্তানদের সঙ্গে ঐক্যের কথা আমরা বলছি। সেটা কিসের ঐক্য? রাজাকারের ফাঁসির পর তাদের সন্তানদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা আপনারা দেখেছেন?

তিনি আরো বলেন, ঐক্য হবে কেবল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মধ্যে।মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে বিরোধীদের কোনো ঐক্য কখনো হতে পারে না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগে প্রচুর পরিমাণ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী লোক ঢুকে গেছে।জামায়াত-বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক যুদ্ধে চুরি-লুটপাট-দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল মুক্তিযোদ্ধা কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করে বলেন, আরও কমপক্ষে ২০ বছর, ২০৪১ সাল পর্যন্ত এই কোটা রাখতে হবে।এখন তৃণমূলে শিক্ষার প্রসার হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের তৃতীয় প্রজন্ম পড়াশোনায় এগিয়ে আসছে এখন। তাদের স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখতেই হবে।

সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আলম শহীদের পরিচালনায় সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, সাংবাদিক-কলামনিস্ট বিভুরঞ্জন সরকার ও দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হাসান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: