সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট : আকাশে অশ্বডিম্ব প্রেরণ (পর্ব – ২)

জিয়া হাসানঃ দেশীয় অপারেটরদেরকে বিক্রি করে , মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কাকে ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দিয়ে বিদেশী মুদ্রা অর্জন করা হবে মানে কি? লঞ্ছ হয়ে গ্যাছে, তার আগে ডিল গুলো ক্লোজ করা হয় নাই কেন?

মিয়ানমার সরকার, ২০১৯ সালে একটি স্যাটালেইট লঞ্ছ করবে। নিউজ রিপোর্টে দেখতে পাচ্ছি মিয়ানমার ইতোমধ্যেই দুইটি কোম্পানির সাথে ক্যাপাসিটি বুক করে ফেলেছে, সেল করার জন্যে। (মিয়ানমারের ২০১৯ সালের লঞ্ছিং এ ক্যাপাসিটি লঞ্ছিনের আগেই বিক্রয় করার খবর। https://www.satellitetoday.com/…/six-new-entrants-satellit…/ )

পাকিস্তান ২০১১ সালে পাকস্যাট 1R লাঞ্ছ করে। লাঞ্ছের আগেই তাদের ৬০% ট্রান্সন্ডার ক্যাপাসিটি বুক করা ছিল। ( https://defence.pk/…/pakistan-communication-satelli…/page-15 )

কিন্ত বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট গতকাল লাঞ্ছ হয়েছে, ৩ হাজার কোটি টাকা খরছ করে ফেলা হয়েছে। ১৫ বছরে এইটার জীবন শেষ। তার মানে, প্রতি দিন এই স্যাটালাইটের পেছনে ৩০০০ কোটি ভাগ ১৫ বছর মানে, ৫৪৭৫ দিন = ৫৫ লক্ষ টাকার রিটারন ইনভেস্টমেন্ট তুলে আনতে হবে শুধু মাত্র ফিক্সড কসট কাভার করার জন্যে। অপারেশনাল কসট এবং সুদ বাদ দিলাম।

কিন্ত , সরকারের সহযোগী ৭১ টিভি মিডিয়ার মালিক মোজাম্মেল বাবু ২৪ এপ্রিলে একটি আলোচনা সভায় বলেছেন,

“বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যে অরবিটাল স্লটে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) স্থাপন করা হবে, তার মাধ্যমে কাজ করা বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোর জন্য হবে একটি চ্যালেঞ্জ।”

সেই দিনের মিটিং এ উপস্থিত আমার একজন সাংবাদিক বন্ধু জানিয়েছেন স্যাটেলাইট টেলিভিশানের মালিকেরা ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১১৯.১ ডিগ্রিতে হওয়াতে এইটার থেকে কিউ ব্যান্ড কানেক্টিভিটি নিয়ে তারা কাজ করতে পারবেন না , কারন তাতে বৃষ্টির কারনে ট্রান্সমিশান বাধাগ্রসস্ত হবে ।

“বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি রাখছেন কেইউ-ব্যান্ডে। এ ব্যান্ডে টেলিভিশন চালাতে পারি না, এক ফোঁটা বৃষ্টি হলেও ফ্রিকোয়েন্সি কাজ করে না। ১৪টি সি-ব্যান্ডের জন্য আমরা আগ্রহী।”- মোজাম্মেল বাবু একাত্তর টিভি।

তারা বলেছেন,তাদের জন্যে বর্তমানের ৯০ ডিগ্রি বা ৮৯ ডিগ্রিতে স্থাপিত সিঙ্গাপুর বা চায়নার কমারশিয়াল স্যাটালাইট গুলোই ভালো কারন এই গুলো যে এঙ্গেলে আছে তাতে ভালো ট্রান্সমিশান পাওয়া যাবে, যেইটা বন্ধু স্যাটেলাইটে পাওয়া যাবেনা কারন সেইটার এঙ্গেল বাংলাদেশের জন্যে সুবিধা জনক।

বলে রাখা ভালো জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট গুলো আকাশে একটা ফিক্সড জায়গায় থাকে এবং এইটা পৃথিবীর সাথে একই গতিতে ঘুরনন করে। ফলে এই স্যাটালাইটের অরবিটাল স্লট কেনার সময়ে সুবিধা জনক জায়গায় কেনা জরুরী যেইটা বাংলাদেশ কিনতে পারেনাই কারন, ২০১২ সালে বাংলাদেশে যে অরবিটাল স্লট কেনার জন্যে এপ্লাই করেছিল, সেই স্লটটা পায় নাই। ২০ টি দেশ বাংলাদেশের অরবিটাল স্লট কেনার বিরোধিতা করেছিল। ফলে বাংলাদেশ ফাইনালি রাশিয়ান স্পুটনিক কোম্পানি থেকে অসুবিধাজনক স্লট ভাড়া নেয়- সরকারের ইগো প্রজেক্ট কমপ্লিট করার জন্যে ।

http://bangladeshwatchdog.blogspot.com/…/bangladesh-satelli…

http://techshohor.com/…/%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%…/

একই মিটিং এ মোজাম্মেল বাবু সায়েব বলেছেন তারা সি ব্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন.
কিন্ত বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সি ব্যান্ডে এনক্রিপশান সুবিধা না থাকা সহ অনেক অসুবিধা আছে। প্লাস তাহলে তাদের প্রযুক্তি চেঞ্জ করতে হবে। তাই হয়তো এইটা চ্যানেল মালিকদের কথার কথা।
কারন তারা কিউ ব্যান্ডে সুবিধাজনক ট্রান্সমিশানের জায়গায় থাকতে চায়, যার অপশন বর্তমানে তারা সিঙ্গাপুর বা চাইনিজ কোম্পানি গুলো থেকে পাচ্ছেন। এইটা তারা সেই দিনের মিটিং এ বার বার বলেছেন।

লিংক। https://m.bdnews24.com/bn/detail/bangladesh/1487302

যদি একাত্তর টিভি বা বাকিরা একজিস্টিং কন্ত্রাঙ্কট থেকে বের হয়ে প্রযুক্তি চেঞ্জ করে বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট ব্যবহার করতে রাজিও থাকে, তার মানে এখনো আলোচনা চলছে।

এবং এর থেকে বোঝা যায় সরকার এখনো তাদের পেট মিডিয়া একাত্তর টিভিকেও তার ট্রান্সপন্ডার সেল করতে পারে বাই এবং এগ্রিমেন্ট কমপ্লিট করে নাই। ধোয়া ধোয়া আলাপ চলছে।

বিদেশী নেটওয়ার্ক এই ডাটা কিনবে সেই প্রস্ন তো অনেক দুরের দেখা যাচ্ছে দেশিয় স্যাটালেইন চ্যানেল গুলোর কাছেই ট্রান্সপন্ডার ভাড়া নেবার বিষয়টা জাস্ট একটা উইশফুল থিঙ্কিং।

তাহলে কিসের ভিত্তিতে মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মিডিয়া গুলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে ডাউনস্ট্রিম ব্যান্ডউইথ কিনবেই, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে ?

যদি আজকে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গুলো বলে, তাদের অন্য কোম্পানির সাথে কনট্র্যাক্ট আছে, তাই, তারা কিনতে পারবেনা। বা কিনতে হলে, সেই কন্ট্রাক্টের দায় বাংলাদেশ সরকারকে নিতে হবে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, তখন কি হবে ?

তাছাড়া এই খানে কত ডিগ্রি এঙ্গেলে কার জন্যে সুবিধা জনক সেই ধরনের অনেক ইস্যু আছে, যা নিয়ে কোন অভিজ্ঞতা সরকারের নাই।

আমাদের প্রশ্ন, এই স্যাটালাইট উৎক্ষেপণের আগে এই কন্ট্রাক্ট গুলো শেষ করে ফেলা হয় নাই কেন ?
কে করবে এই সব কন্ট্রাক্ট ? সেই খানে দুর্নীতির দায় কে নিবে ?

দ্বিতীয়ত ভারত যেখানে ফ্রি, ট্রান্সপন্ডার সার্ভিস দিয়ে বসে আছে, সাউথ এশিয়ান স্যাটালাইটে, যেই সার্ভিসটা নিতে বাংলাদেশ ২০১৭ সালে চুক্তি সাক্ষর করেছে এবং শ্রীলঙ্কা নেপালের জন্যেও যে ফ্রি সার্ভিস নেয়ার দরোযা খোলা , সেইটা জানা সত্ত্বেও তাহলে কিসের ভিত্তিতে বলতেছি, শ্রীলঙ্কা, নেপাল বাংলাদেশ থেকে পয়সা দিয়ে ট্রান্সপন্ডার সার্ভিস কিনবে।

ভারতের ফ্রি সাউথ এশিয়া স্যাটালাইটে
http://indianexpress.com/…/what-is-south-asia-satellite-in…/

ভারতের ফ্রি স্যাটালাইট সার্ভিস নিতে বাংলাদেশের চুক্তি সাক্ষরের লিংক।
https://www.indiatoday.in/…/bangladesh-india-south-asia-sat…

তাছাড়া শ্রীলঙ্কার নিজের স্যাটালাইট আছে। সে কেন কিনবে ?

এমনকি বঙ্গবন্ধু স্যাটালেইটের জিওস্টাশনারি যে লকেশান তার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া এবং মালেশিয়া পড়েছে, তাদের নিজস্ব স্যাটালাইট আছে।

এবং আগামী দুই তিন বছরে ভারত যদি এই রিজিয়নে আরো ফ্রি সার্ভিস দেয়, তখন কার কাছে এই ট্রাসপন্ডার সার্ভিস বেচা হবে ? সেই গুলো তখন অবিক্রিত থাকলে তার দায় কে নেবে ?

বেচার যদি সুযোগ থাকতোই তাহলে একটাও চুক্তি সাক্ষর বা নিদেন পক্ষে এমওঈঊ সাইন না করে, এই ভাবে, আশাবাদের ভিত্তিতে, ৩ হাজার কোটি টাকা খরচের মানে কি ?

এখন যদি বেচতে না পারি, তার দায় কে নেবে।

প্লাস স্যাটালাইট ইন্ডাস্ট্রিতে এশিয়াতে যে বড় বড় প্রাইভেট অপারেটর আছে, তদের প্রফিট ইতমধ্যে কমে আসছে, তার কারন অনেক গুলো স্যাটালাইট লঞ্চ হওয়াতে এই সারভিসের ওভার ক্যাপাসিটির হয়ে গ্যাছে।
ওভার ক্যাপাসিটির জন্যে এশিয়া স্যাটের প্রফিট কমে আসার লিংক।
https://www.satellitetoday.com/…/asiasat-revenues-flat-fir…/

এবং এই ক্যাপাসিটি দিনে দিনে বারতেছে, ফলে, দুইটা জিনিষ হবে, এই ট্রান্সপ্নডার সারভিসের দাম কমবে। এবং আমরা সেল করতে পারলেও সরকার যে প্রফিটের কথা বলতেছে, সেইটা হবেনা। এবং প্রাইভেট অপারেটরদের সাথে আমাদের দুর্নীতি পরায়ন অযোগ্য কর্মকর্তাদের দিয়ে, হয়তো দেশের আরো বড় বারোটা বাজানো হবে।

আরো প্রশ্ন আছে, প্রথমেই আমাদের ফিক্সড কষ্ট অনেক বেশী হয়ে গ্যাছে কিনা।

১২ টা কু ব্যান্ডের ,২.৫ টনের মোটামুটি একই পে লোডের এই সাউথ এশিয়ান ফ্রি স্যাটালাইট বানাইতে ভারতের মোট খরছ হয়েছে , ৬৯ মিলিয়ন ডলার।
আমাদের স্যাটালাইন বানাইতে থেলস এলায়ন্সের সাথে চুক্তির পরিমান, ২৩০ মিলিয়ন ডলার। প্রায় চার গুন বেশী ? কেন ?
https://en.wikipedia.org/wiki/South_Asia_Satellite

এই যে প্রতি দিন আগামী কাল থেকে, স্যাটালাইটের ক্যাপাসিটী ফ্রি বসে থাকবে যার রিটারন অন ইনভেস্টমেন্ট তুলতে প্রতি দিন ৫৫ লক্ষ টাকা আয় করতে হবে, এবং যার জন্যে এইছ এসবিসি ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ দেয়া হয়েছে যা সুদে আসলে বারতে থাকবে, তার দায় কি এই স্যাটালেইটের সিদ্ধান্ত গ্রহিতা নিবে ?
নাকি তার দায় আমরা ট্যাক্স পেয়ার রা নিবো যার জন্যে আমাদের গ্যাস বিদ্যুৎ দুধ সব কিছুর খরচ বাড়বে ?

এই প্রশ্নের উত্তর কি দিবে।

রিয়ালিটি হচ্ছে আমরা আমরা হাত তালি পাওয়ার জন্যে একটা স্যাটালাইটের ক্যাপাসিটি আকাশে তুলে রাখছি,এবং বলতেছি, এর থেকে বছরে এতো কোটি টাকা পাওয়া যাবে। কিন্ত বেচা বিক্রির কাজ এখনো শুরুও হয় নাই।

অনেকে বলতেছেন,এ তে ভাবমূর্তি বাড়বে। বাংলাদেশের নাগরিকেরা বিদেশে যখন এয়ারপোর্টে এয়ারপোর্টে দাড়ায় থেকে, ইমিগ্রেশান ফর্ম পুরন করতে পারেনা, আশে পাশে শিক্ষিত বাঙ্গালী খুঁজে সেইখানে কেউ তাদের জিজ্ঞেস করবেনা, আমরা আকাশে স্যাটালাইট তুলছি কিনা।
সেই শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে এখন আমরা ভাবমূর্তি বেচবো ।

বাস্তবতা হচ্ছে এইটা বাংলাদেশ নয়, আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তির প্রজেক্ট। যেই ভাবমূর্তির ট্যাক্সের দায় এবং অর্থনৈতিক উশৃঙ্খলতার দায় আমাদেরকে প্রজন্মের পরে প্রজন্ম দিয়ে যেতে হবে। এখুনি যার চাপে, নাগরিকের নাভিশ্বাস উঠেছে।

আর আমরা এমন বলদ জাতি আমরা, নিজের ট্যাক্সের পয়সায় স্যাটালেইট দেখে উন্নয়ন চেতনায় জাম্প দিয়ে যাচ্ছি, কিন্ত কোন দিক থেকে এই চেতনা সাপোজিটার ঢুকতেছে টের পাচ্ছিনা।

লেখকঃ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ফ্রিল্যান্স রাইটার।

( মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: