সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের প্রাচীনতম ঐতিহ্যের অন্যতম সাক্ষী ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দান

জুবেল আহমেদ: ঐতিহাসিক কালপ্রবাহে সিলেট শহরের প্রাচীনত্ব এখন ৭০০ বছরেরও বেশি। দেশের আর্থ-সামাজিক ও ঐতিহাসিক কেন্দ্রবিন্দুতে শহর সিলেটের অবস্থান। আর এসবের অন্যতম সাক্ষী সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ। কয়েক শত বছরের ঐতিহ্য, উপমহাদেশের প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্র, দেশের প্রাচীনতম ঈদগাহ হিসেবে পরিচিত সিলেটের শাহী ঈদগাহ ময়দান। শাহী ঈদগাহ সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্যের এক নিদর্শন।

পাহাড়ের টিলায় সবুজ আচ্ছাদিত পরিবেশে এ ঈদগাহ কেবল ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারকই নয়, যেন নগর জীবনে প্রশান্তির কেন্দ্রবিন্দু। পাহাড়-টিলা আর হাজারো বৃক্ষরাজির মধ্যে এর মনোমুগ্ধকর অবস্থান নজর কাড়ে যে কারো।

শত বছরের ঐতিহ্য, মনোমুগ্ধকর কারু কার্যময় এ ঈদগাহটি নির্মাণ করেন মোগল ফৌজদার ফরহাদ খাঁ। তখন মোঘল সম্রাট ছিলেন আওরঙ্গজেব।

প্রাচীনতম স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে প্রায় দেড় লাখ মুসল্লি একসাথে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন। ঈদগাহের মূল ভূ-খণ্ডে ২২টি সিঁড়ি মাড়িয়ে উঠতে হয়। উচু টিলার ওপরই ১৫টি গম্বুজ সজ্জিত মূল ঈদগাহ। টিলার মূল ঈদগাহের সামনের দিকে ৮টি গুম্বুজ। এছাড়া ঈদগাহের ভেতরের সামনের দিকে ওজু করার জন্য রয়েছে বিশাল পুকুর। নিচে বৃক্ষ ছায়ায় বিস্তৃত মাঠ এবং সীমানা প্রাচীরের চারদিকে রয়েছে-ছোট বড় ১০টি গেট। তবে ঈদগাহের সামনের দিকে রয়েছে মূল তিনটি গেট।

মূল তিনটি গেটে মুঘল আমলের স্থাপত্যের ছাপ স্পষ্ট। ২০০১ সালে বড় পরিসরে ৩টি গেটের নির্মাণ করে দেন স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজারীবাগ নীরু মঞ্জিলের বাসিন্দা জহির উদ্দিন তারু মিয়া। ওই বছরের ১৫ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এর উদ্বোধন করেন।

ঈদগাহের ভেতরের ফলক অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান পুকুরের চারদিকে ঘাট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পুকুরটির চারপাশে বৃক্ষের সমারোহ দিন-দুপুরে ক্লান্ত মানুষের নি:শ্বাস ফেলার আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর ঈদগাহে বিদ্যুতায়ন, সংস্কার ও চারদিকে ফুটপাত নির্মাণ করেন।

ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহটির চারপাশে পাকা সড়কপথ আর সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। ঈদগাহ ঘিরে রয়েছে দেশি-বিদেশি কয়েকশ’ প্রজাতির বৃক্ষরাজি। ঈদগাহের উত্তরে শাহী ঈদগাহ মসজিদ, পাশে সুউচ্চ টিলার ওপর বন কর্মকর্তার বাংলো, দক্ষিণে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিলেট উপ-কেন্দ্র, পূর্ব দিকে হযরত শাহজালাল(র.) এর অন্যতম সফরসঙ্গী শাহ মিরারজী (র.) এর মাজার এবং এর পাশের টিলার ওপর রয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস।

সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন এই স্থানটি এখন নানা কারণে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। এখানে হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বে ইংরেজ বিরোধী প্রথম অভ্যুত্থান হয়েছিলো। ভারতের অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের মতো নেতারা এই ময়দানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। অতীতে সিলেটের বড় বড় সমাবেশের স্থানও ছিল এটি।

প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহ ময়দানে। তখন রবার্ট লিন্ডসে ছিলেন সিলেটের কালেক্টর। ঈদগাহ ময়দানে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা চলছে এমন খবর পৌঁছে তার কাছে। প্রকৃত পক্ষে তখন মহরম মাস উপলক্ষে ঈদগাহ ময়দানে তাজকিয়া মিছিল চলছিল। এ মিছিলে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর তখনই শুরু হয় সম্মুখ সমর। রবার্ট লিন্ডসের পিস্তলের গুলিতে শহীদ হন আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সৈয়দ মোহাম্মদ হাদী ও তার ভাই মাহদী নামে দুই ধর্মীয় নেতা। মূলত তারাই উপমহাদেশের ব্রিটিশ আন্দোলনের প্রথম শহীদ বলেও দাবী অনেকের।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: