সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘নারী কর্মীদের হয়রানি করছে গ্রামীণ ফোন’

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:: মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে নারী কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ)। একই সঙ্গে কোম্পানিটিতে গণচাকরিচ্যুতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। জিপিইইউ সংবাদ মাধ্যমে লিখিতভাবে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে অফিস সময়ের পরে ই-মেইল দিয়ে কোম্পানির ১৩ জন নারী কর্মীকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। ঈদুল ফিতরের আগেই তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদানের আদেশ জারি করে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন কোম্পানির জন্য কাজের এই মূল্যায়নে নারী কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জিপিইইউয়ের প্রচার সম্পাদক রফিকুল কবির স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে নারীবান্ধব প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করলেও নারীদের হয়রানি শুরু করেছে গ্রামীণফোন। বিষয়টি অবগত হয়ে রাতে এক বিশেষ জরুরি সভায় মিলিত হয় জিপিইইউ। সভায় গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। জিপিইইউয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, নারী কর্মীদের প্রতি কোম্পানির এই সিদ্ধান্ত অসম্মানজনক। জিপিইইউ নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কোম্পানির এই সিদ্ধান্তকে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে, তাকে স্বেচ্ছা অবসরের নামে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হতে পারে। কোম্পানিটি কর্মীদের উন্নয়নে কাজ না করে শুধু মুনাফার দিকে নজর দিচ্ছে। নেতারা মনে করেন, এ ধরনের কাজ কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদে লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই অবিলম্বে এই বদলির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে একটি যৌক্তিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের এই পত্রের প্রেক্ষিতে পাল্টা অভিযোগ করে শনিবার গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস সৈয়দ তালাত কামাল স্বাক্ষরিত একটি মেইল গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। মেইলে বলা হয়েছে, কোম্পানির ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আনা নারী কর্মীদের হয়রানি এবং গণছাঁটাইয়ের অভিযোগ ঠিক নয়। গ্রামীণফোন ১৭ জন নারীসহ তার ৪১ জন কর্মীকে নতুন কর্মসংস্থানের প্রস্তাব দিয়েছে। দুই বছর আগে আমাদের কল সেন্টারের কার্যক্রম একটি বিশেষজ্ঞ বিপিও অপারেটরের কাছে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়। এই সময় ৪৮৮ জন নিয়মিত কর্মী কোম্পানিতে নতুন পদে যোগ দেন অথবা স্বেচ্ছা অবসর প্যাকেজ গ্রহণ করেন। বাকি ৯৮ জনের মধ্যে ৯১ জন একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং কমার্শিয়াল টিমের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ৪১ নারী ও পুরুষকে কোম্পানিতে নতুন কাজ দেওয়া হয়। কর্মীদের এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গ্রামীণফোন খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলে দাবি করা হয়।

তালাত কামালের দাবি, গ্রামীণফোন কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগে বিশ্বাসী এবং কোম্পানিতে নারী-পুরুষের অনুপাতে সমতা আনতে চেষ্টা করছে। কোনো প্রমাণ ছাড়া নারী হয়রানির ইঙ্গিত দেওয়া শুধু মানহানিকর নয়, অসত্ উদ্দেশ্যপূর্ণ।

এদিকে জিপিইইউ দাবি করেছে, ২০১০ সালে কোম্পানিটি প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও ২০১৭ সালে তার পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র স্থায়ী জনবল কাঠামোতে কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে প্রায় তিন হাজার। কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বললেও প্রতিনিয়ত জনবল কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি, যার প্রভাব পড়ছে দেশের কর্মসংস্থানে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: