সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওমান সাগরে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়, জীবন ঝুকিতে ৫০ হাজার বাংলাদেশি

ডেইলি সিলেট ডেস্ক‍‍:: ওমানের উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় মেকুনু। এতে আতঙ্কে রয়েছেন সেখানে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি। শনিবার বিকেল পর্যন্ত মেকুনুর মূল কেন্দ্র বা ঘূর্ণিঝড়ের আবস্থান ছিলো ওমানের উপকূলীয় শহর সালালা থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরে।

জানা গেছে, এই উপকূলেই প্রতারিত বাংলাদেশি জেলেরা সাধারণ নৌকায় বা পলিথিনের দুর্বল ঝুপড়িতে বসবাস করেন। সালালা ছাড়াও উপকূলীয় শহর দুখুমেও প্রধানত হাতিয়ার প্রবাসী শ্রমিকদের বাস। সন্দীপ-মনপুরার কিছু মানুষ এখানে থাকলেও হাতিয়ার জাহাজমারার মানুষের সংখ্যাই সেখানে বেশি। বেআইনিভাবে তারা বেদুইনদের নৌকায় মাছ ধরেন। বেদুইনদের বেদেজীবন থেকে থিতু, তথা সভ্য জীবন-জীবিকায় ফিরিয়ে আনার জন্য সে দেশের সরকার বেদুইনদের জেলে বানানোর এক তুঘলকি কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে কয়েক দশক ধরে।

বেদুইনদের নৌকায় যেকোনো বিদেশি সে দেশের আইনের চোখে অপরাধী। তাই তাদের ডাঙায় এসে স্বাভাবিক চলাফেরা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক ভারতীয় আর পাকিস্তানি ব্যবসায়ী বেদুইনদের কাছ থেকে নৌকা ইজারা নিয়ে সেখানে বাংলাদেশিদের খাটাচ্ছেন। মজুরির কোনো ঠিকঠিকানা নেই। মাছ পেলে মজুরি, না পেলে নেই। মাছ পেলে মজুরি ঠিক হয় সেদিন বাজারে ওই মাছের দরের ওপর। যেহেতু নৌকা আর সাগরপাড়ের অস্থায়ী ঝুপড়ি ছাড়া এই জাল-‘ক্রীতদাসেরা’ পুলিশের ভয়ে কোথাও যেতে পারেন না, তাই বাজারের হাল-হকিকত দর-বেদর তাদের জানা হয় না।

বাংলাদেশের দূতবাসের মতে, যেহেতু কাগজে-কলমে জেলে হিসেবে ওমান বাংলাদেশ থেকে কোনো জনশক্তি আমদানি করে না, তাই সেখানে কোনো জেলে থাকতে পারেন না বা নেই। কেউ থাকলে তিনি বেআইনি অভিবাসী। তারা কেন অবৈধদের দায়িত্ব নিয়ে দেশের মান খোয়াবেন? এমন ধরনের যুক্তি তাদের কাজ সহজ করে দিলেও অসহায় বাংলাদেশিদের কোনো কাজে লাগে না।

এই ঝড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কোথাও যেতে পারবেন না পুলিশের ভয়ে, মালিকেরাও তাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন না। শুক্রবার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভারত তার জেলেদের উদ্ধারের জন্য মুম্বাই থেকে দুটো উদ্ধারকারী জাহাজ (আইএনএস দীপক ও আইএনএস কচি) ওমান উপকূলে পাঠিয়েছে। উচিত হবে, আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা যেন এই জাহাজ দুটি আমাদের হতভাগ্য জেলেদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

গত সাইক্লোন মোরার সময় অনুমতির জন্য অপেক্ষা না করে আমাদের জলসীমায় এসে ভারতীয় নৌবাহিনী আমাদের বিপন্ন জেলেদের উদ্ধার করেছিল। এবারও চাইলে তারা পারবে। একদিন আমির হয়ে দেশে ফিরে আসার অসম্ভব আশা বুকে নিয়ে সাগরে যেন বেঘোরে কোনো বাংলাদেশির প্রাণ না যায়। দেশে অপেক্ষায় থাকা প্রিয়জনেরা যেন জানতে পারে, তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: