সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: আকাশে সোনার অশ্বডিম্ব প্রেরন

জিয়া হাসানঃ বিভিন্ন জনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অতিশয়োক্তি দেখলেও, ডিফ্যাক্টো মিডিয়া প্রথম আলোর সোর্স এবং সরকারের পক্ষে পলক সাহেবের আলোচনায় মুল তিনটা সুবিধার কথা বলা হচ্ছে।

১। স্যাটেলাইট ভাড়া নিতে যে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ হতো সেইটা বাচবে এবং ফ্রি ট্রানপন্ডার দিয়ে ত্রান্সমিশান বেচে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে।

২। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

৩। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই স্যাটেলাইট। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজেও এ স্যাটেলাইটকে কাজে লাগানো সম্ভব

কথা তিনটাই সত্য। কিন্ত, বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইটের ক্ষেত্রে প্রতিটা দাবীই বাংলাদেশের পারস্পেক্টিভে বিভিন্ন ভাবে মিথ্যাচার এবং একটা স্বৈরাচারী সরকারের ভাবমূর্তি স্থাপনের উদগ্র বাসনা থেকে দেশের টাকায় একটা প্রজেক্ট যা, এই অর্থনীতিক এবং প্রযুক্তিগতভাবে মোটেও যৌক্তিক নয়।

কারন, এই সার্ভিসগুলো ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ নিচ্ছে। কারন, এই গুলো কমার্শিয়ালই এভেলেবল এবং অনেকগুলো এখন ফ্রি পাওয়া যায়। ফলে বাংলাদেশকে প্রাপ্ত সার্ভিসগুলো বাদ দিয়ে কেন ৪ হাজার কোটি টাকার একটা ফিক্সড কস্তের বোঝা নিতে হবে, সেইটা কমার্শিয়ালই উপযোগী কিনা সেইটা সততার সাথে যাচাই করতে হবে পুরো ফাইনান্সিয়াল মেরিট দিয়ে।

একটু গভীরে গেলেই দেখবেন, এই প্রজেটের মূল উদ্দেশ্য সরকারি বেনিয়াদের ব্যবসা নিশ্চিত করার জন্যে, যা দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় এবং আমাদের ফিউচার উপার্জনের ঋণের টাকায় শুধু মাত্র সালমান সাহেবদের পকেট ভারি করবে।

স্যাটেলাইট ভাড়া নেয়ার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ের দাবীটা হচ্ছে সব চেয়ে অসত্য দাবী, কারন , একটা ১৫ বছর শেলফ লাইফের শুধুমাত্র প্রারম্ভিক খরচ যার ৩ হাজার কোটি টাকা, সেই খানে বছরে ১২০ কোটি টাকা সেভ করে আপনি কয় বছরে এই খরচ তুলবেন?
তারপর আছে প্রতি বছরে এর অপারেটিং কস্ট, প্রতিমন্ত্রী পলক সাহেব এবং তার নেতাদের বিদেশ ভ্রমন ব্যয়, সেইটা কত হাজার কোটি টাকায় যাবে, এবং এই এইচএসবিসি ব্যাংক থেকে হাই ইন্টেরেস্ট রেট ১৫০০ কোটি টাকা লোণের এমরটাইজেসান কোথায় যাবে সেইটা কেউ হিসেব করছেনা ।

এই গ্যাপটা কাভার দেয়ার জন্যে, জিও স্টাটিক স্যাটেলাইটের কাভার এরিয়া যত দেশ আছে সেই গুলোর নাম নিয়ে বলা হচ্ছে, এই দেশ গুলোর নেটওয়ার্ক এই স্যাটেলাইট থেকে কিনবে। বঙ্গবন্ধু সাটেলাইটের জিও স্টাটিক লোকেশানের কাভারেজে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেপাল সহ আর কিছু দেশ।

এগেইন এই দেশ গুলোতে স্যাটেলাইট কানেকভিটিভি কিনে যে প্রতিষ্ঠান গুলো এরা অনেকেই প্রাইভেট যাদের কারো না কারো সাথে চুক্তি আছে, কারো কারো আছে নিজস্ব স্যাটালাইট যেমন সিংটেল। আর ভারতে তো ২০১৭ সালে একটা স্যটালাইট আকাশে তুলে বলছে এইটা সাউথ এশিয়ান দেশদের জন্যে ফ্রি গিফট। এবং সেই ফ্রি গিফট পেয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটালেইটের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ প্রথমে একটু ভয় পাইছিল. তারপরে, তাও প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালে ভারতে গিয়ে সেই ফ্রি স্যাটেলাইট যাকে বলা হচ্ছে সাউথ এশিয়ান স্যাটেলাইট সেইটা ব্যাবহারের চুক্তি সাক্ষর করে এসেছেন।সুতরাং এই বৈদেশিক মুদ্রা আদায়ের দাবী আরেকটা ভয়ংকর মিথ্যা। রিমোট জায়গায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট কানেকশান দেয়ার দাবী টা হচ্ছে সব চেয়ে জঘন্য মিথ্যা। একটা জিনিষ করা সম্ভব মানেই বলে করা ভায়াবল, তা না।

বেশ কিছু আলোচনায় দেখলাম , বাংলাদেশে ১৮০ টি উপজেলায় ফাইবারের কানেকশান নাই, এই কানেকশান স্যাটেলাইট দিয়ে দেয়া হবে। এই দাবীটা ক্যাটাগরিকালি মিস্লিডিং। কারন, বাংলাদেশ খুব ছোট একটা দেশ।

এই উপজেলা গুলোর মধ্যে সব গুলোতেই রেডিও লিংক দিয়ে ইন্টারনেট কানেকশান দেয়া যায়, দেয়া হয়েছে, দেয়া হচ্ছে। যেই সব উপজেলায় বর্তমানের বিটিএস নাই, সেই খানে নতুন বিটিএস বসায় লাইন অফ সাইট তৈরি করে খুব সহজেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট দেয়া সম্ভব- যেই ব্রডব্যান্ড কানেকশান স্যাটেলাইট কখনোই সম্ভব না- স্যাটেলাইট হাই ল্যাটেন্সির কারনে ন্যারো ব্যান্ড কানেকশান দিতে পারবে, নব্বই দশকের টেলিফোন লাইনের মত- ইয়াহু জুগের মানুষেরা মনে করতে পারবেন সেই সব দুঃসহ দিনের কথা।

টেলিকম নেটওয়ার্কগুলো এই কাজ সহজেই করতেছে এবং প্রতিটা নেটওয়ার্ক দাবী করে, তারা বাংলাদেশের শতভাগ কাভার করে। ফলে স্যাটেলাইট দিয়ে রিমোট জায়গা কাভারের বিষয়টা একটা প্রপাগান্ডা।

রিমোট জায়গায় যদি গ্রামীণ বা রবির কানেকশান না যায়, তবে সেই রিমোট জায়গায় স্যাটেলাইটের কানেক্টিভিটি রিসিব করার জন্যে ভিস্যাট বসাবে কে ? ভিস্যাটের পয়সা কে দিবে ? সেই রিমোট জায়গায় ভিস্যাটের ইলেক্ট্রিসিটি কানেকশান কই থেকে আসবে?

ফলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দিয়ে বাংলাদেশে রিমোট জায়গায় ইন্টারনেট কানেকশান দেয়া হবে, এইটা একটা জঘন্য মিথ্যা । কারন, রিমোট জায়গায় ইন্টারনেট কানেকশান দেয়ার অনেক অপশন প্রযুক্তির হাতে আছে। যেমন, আমাদের বাংলা লায়ন এবং কিউবির ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক যে প্রযুক্তি সেই গুলো লাইন অফ সাইট না থাকলেও অনেক দূরে ইন্টারনেট কানেকশান দিতে পারে।

কিন্ত এই নেট ওয়ার্ক গুলো গ্রামে বা উপজেলায় যায় নাই, কারন তাদের ইকন্মি অফ স্কেল নাই, তাদের জন্যে কমারশিয়ালি ভায়াবল না।

জাস্ট টেলিকম কোম্পানি গুলোর ফোর-জি লাইসেন্সে বিশাল ফি নিয়ে প্রথমেই সরকার প্রফিটটা নিয়ে গ্যাছে। ফলে, কোম্পানিগুলো এখন স্ট্রাগল করতেছে। ৪জি/ফোরজি ইনভেস্টমেন্ট জাস্টিফাই করতে বা রিমোট জায়গায় ফোরজি নেটওয়ার্ক ছড়াই দিতে। এরা বেনিয়া, এদের কাজ শেয়ার হোল্ডার দের ভ্যালু তুলা, পাল্বিক সার্ভিস দেয়া না।

স্যাটেলাইট থেকে অনেক কম খরছে ফোর-জি বা ওয়াইমম্যাক্স দিয়ে ব্রড ব্যান্ড কানেকশান দেয়া যাবে। যেইটা কখনোই স্যাটেলাইট পারবেনা কারন ভূপৃষ্ঠ থেকে দূরে থাকার কারনে, লগারিদমিকালি ডাটা লস হওয়ার কারনে এবং খুব হাই ল্যাটেন্সির স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের কানেকশান খুবই দুর্বল। এবং এইটার ব্যান্ডউইথ এখনো ন্যারো যেইটা দিয়ে একটা সামান্য ইউটিউভ ভিডিও দেখতে পারবেন না। দেখলে, মাসিক লাখ টাকার উপরে খরচ পরবে।

সারা দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক বা ওয়াইম্যাক্স দিয়ে যে রিমোট জায়গায় ইন্টারনেট দেয়ার দায় সরকারের ছিল। যাকে, অতিরিক্ত ভাড়া তুলে নেয়ার লুটেরা মনোভাবের কারনে সেই সম্ভাবনা ধ্বংস করা হয়েছে, সেইটা করে দিবে, খুবই স্লো ল্যাটেন্সির স্যাটেলাইট এবং সেইটা মিডিয়াগুলো এবং প্রযুক্তিবিদেরা যেইভাবে হাইয়ালইট করতেছে দেখতে বিবমিশা হইতেছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট সেটাআপ দিয়ে ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি দেয়া হবে, সেইটা একটা স্মোক স্কিন মূল যেইটা ইস্যু সেইটা হচ্ছে, তারা সালমান সাহেবের কোম্পানিকে ডাইরেক্ট টু দ্যা হোমের ব্যবসা তৈরি করে দেইতে চায়, যেইটা টাটা স্কাই এর মত একটা সার্ভিস।

পাকিস্তানে ২০১৭ সালে ডিটিএইছের অকশনে ১৪০০ কোটি টাকা পেয়েছে সরকার।
বাংলাদেশেও যে কোন তরঙ্গ বেচতে ওপেন অকশন হওয়ার আইন রয়েছে (শুনেছি নিশ্চিত নই)।

কিন্ত বাংলাদেশ সরকার সালমান সাহেবের কোম্পানি রিয়েল ভিউ কোম্পানিকে কোন ধরনের অকশন বাদে তোবারক মুল্যে ডিট এইছের পারমিশান দিয়েছে। এই কানেক্টিভিটি তারা তৈরি করেছে, একটা রাশিয়ান কোম্পানি দিয়ে। এই ৩০০০ কোটি টাকার স্যাটালাইট মূলত ব্যবহার হবে মাত্র মুল্যে ডিটিএছ বেচার পারমিশান দেয়া হবে। এই জন্যে এই স্যাটালাইটের সকল মিটিং এ সালমান সাহেবকে দেখা যায়।আর আমরা ইন্টেলেকচুয়ালি এমন বেকুব একটা দেশ এইখানে, রেপিস্টের সাথে রেপডের বিয়ে দিয়ে, সেই বিয়ে সামাজিকভাবে গ্রহনযোগ্য করা হয়। এই স্যাটেলাইটেও বিষয়টা সেই রকম হইতেছে। রেপিস্টের সাথে রেপডের বিয়াতে সবাই হাতোতালি দিতাছে।

ডিটি এইচের আলোচনাটা আমরা সবার শেষে করবো, কারন, এই খানেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সালমান এফ রহমানদের সোনার হাস- সেইটা আমাদেরকে ভালো ভাবে বুঝতে হবে।

লেখকঃ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ফ্রিল্যান্স রাইটার।

( মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন)




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: