সর্বশেষ আপডেট : ৩২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘পৈতৃক ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে হামলা-মামলা অব্যাহত রেখেছে ভূমিখেঁকো চক্র’

পৈতৃক ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে গুম, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, জবর-দখল ও মিথ্যা হয়রানি মূলক মামলায় জড়িয়ে আমার পুরো পরিবারসহ আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে ভূমিখেঁকো চক্র- এমনটি দাবি করেছেন নগরীর যতরপুরে নবপুস্প ১২/৩ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মনিন্দ্র রঞ্জন দে। শনিবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরার মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাছে যথাযথ সুবিচার প্রত্যাশা করেন।

লিখিত বক্তব্যের তিনি বলেন, ‘আমি নগরীর চিরচেনা এক শান্তিপ্রিয় নাগরিক। নগরীর যতরপুরে নবপুস্প ১২/৩ আবাসিক এলাকার পৈতৃক ভিটায় জন্মলগ্ন থেকে বসবাস করে আসছি। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, দীর্ঘদিন থেকে এলাকার চিহ্নিত একটি ভূমিখেকো চক্র যতরপুরে আমার পৈতৃক (খরিদাসূত্রে) ১৭৮২ খতিয়ানের দাগ নং ১১১৪৯ ও ১১১৫০ এর (মোট ৪৭ শতক ভূমি) ভিটাবাড়ি দখল করিতে মরিয়া হয়ে উঠে। এরই ধারাবহিকতায় চক্রটি বিগত দিন থেকে বিভিন্ন সময়ে আমার নিকট চাঁদা দাবি করে আসছে। আমি তাদের কথায় কর্ণপাত করিনি। ফলে আমাকে হুমকী এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। শুধু তাই নয়, আমার স্থান ভারতে বলে উল্লেখ করে আমাকে সেখানে চিরতরে পাটিয়ে দেওয়ার মতো ঘৃণ্য সাম্প্রদায়ীক বক্তব্য প্রদর্শনের মাধ্যমে আমার জীবন জীবিকাকে হুমকিময় করে তুলে। তাদের প্রস্তাব, নিয়মিত চাঁদা প্রদান না করলে তাদের নামে বাড়ির অর্ধেক লিখে দিতে হবে। আমি রাষ্ট্রের একজন আইন মান্যকারি শান্তিপ্রিয় নাগরিক হিসেবে বরাবরই তাদের অন্যায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছি।

তিনি বলেন, ‘১৭৮২ খতিয়ানের ১১১৬১ নং দাগের লীজ বন্দোবস্থ মুলে বসবাসকারি একই মহল্লার মামুন উদ্দিন চৌধুরী আমাদের উপরোল্লিখিত দাগের ভুমিকে সরকারি সম্পত্তি উল্লেখ করে সুযোগ গ্রহণের ফন্দি আটঁতে থাকে। শুধু তাই নয়, মামুন চৌধুরী এই ভুমিটি আত্মসাত করণে নিজের পছন্দমতো কিছু লাঠিয়াল বাহিনী এবং প্রভাবশালী চক্র জড়িত করে আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করতে থাকে। এরই ধারবাহিকতায় আমার পৈতৃক সম্পত্তিটি সরকারি ভাবে শত্রু সম্পত্তির তালিকাভুক্ত করতেও এই চক্রটি সমর্থ হয়। পরবর্তীতে সদাশয় সরকার বাংলাদেশ শক্র সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইন ২০০১ ও অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তি বিধিমালা আইন ২০১২ প্রণয়ন করে গেজেট প্রকাশ করে এবং গেজেটের ১৮ নং ক্রমিকে আমার উপরোল্লিখিত পৈতৃক সম্পত্তির দাগদ্বয় তালিকাভুক্ত হয়। এর ফলে আমি অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্র্যাইবুনালে মামলা নং ৩০৫/১২ দায়ের করি। মামলা দায়ের পরবর্তী ঐ ভুমিখেকো চক্র মৌলবাদি এবং হুজি নেতা আং মতিনকে দিয়ে আন-রেজির্স্টার্ড দুটি দলিল তৈরী করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘৯ এপ্রিল ১৯৬৩ ইং ও ১৫ ডিসেম্বর ১৯৬৩ ইং সালে আমার পৈতৃক ভুমির উপরে উক্ত জাল দলিল দিয়ে কুখ্যাত আং মতিনকে বাদি সাজিয়ে অর্পিত ট্র্যাইবুনালে ৩৯৩/১২ নং মামলা দায়ের করানো হয়। এদিকে, একই মহল্লার কুখ্যাত জালিয়াত নারায়ন পুরকায়স্থ ফনি,বিশে^শ^র জিউর দেবতার ১৭৮২ খতিয়ানের আমার পৈতৃক খরিদা ভূমির দুটো দাগ সহ মোট ১৩টি দাগের ভুমি নিয়ে কমিটি বানিয়ে অন্য এক নতুন নাটকের সৃষ্টি করে। কমিটিতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্ত্তী জুয়েলকে সভাপতি এবং মনোজ কপালি মিন্টুকে সম্পাদক মনোনীত করে বিশে^শ^র জিউর দেবতার সম্পত্তি অবমুক্তির জন্য অর্পিত ট্রাইবুনালে অত্যন্ত সুকৌশলে ভুমিখেকো নারায়ন পুরকায়স্থ ফণি ৩৩৮/১২ মামলা দায়ের করে। এর প্রেক্ষিতে মাননীয় আদালত উপরোল্লিখিত অর্পিত মোকদ্দমা তিনটি একত্রে বিচারের জন্য নির্ধারণ করেন-তন্মধ্যে ভুমি মন্ত্রণালয় ২৩.০৩.২০১৬ প্রজ্ঞাপন জারি করেন যে, লিজ বন্দোবস্থ ধারীগণ নিজ অর্থে অর্পিত ট্রাইবুনাল মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত হয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন। কিন্তু অর্পিত আইনে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে যে, উত্তরাধিকারী বনাম রাষ্ট্র ব্যতীত তৃতীয় ব্যক্তি পক্ষভুক্ত হতে পারবেনা বা কোনও মামলাও দায়ের করতে পারবেনা। তদুপরি আইনের সাথে সাংঘর্ষিক আইন পরিপন্থি একটি পরিপত্র জারি করে। উক্ত পরিপত্রের আলোকে বিজ্ঞ ট্র্যাইবুনাল আমার পৈতৃক ভুমির কথিত দাবিদার হেলাল আহমদ চৌধুরী গং কে আমার দায়েরকৃত ৩০৫/১২ অর্পিত মামলায় পক্ষভুক্ত করে। পক্ষভুক্ত এই আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে আমি মনিন্দ্র রঞ্জন দে ভুমি মন্ত্রনালয়ের পরিপত্রটি চ্যালেঞ্জ করে ৬৮/২০১৭ নং রিট দায়ের করলে মাননীয় হাইকোর্ট এই পরিপত্রটি অকার্যকর বলে ঘোষণা করে।’

পরবর্তীতে ৬ জুন ২০১৭ তারিখে বিচারান্তে ১৭৮২ খতিয়ানের আমার পৈতৃক দুটি দাগের ভুমি সহ ১৩ টি দাগের আটআনা অংশ দেবতা বরাবরে এবং বাকী আটআনা জেলা প্রশাসক বরাবরে অবমুক্তির আদেশ প্রদান করেন। উক্ত রায় ডিক্রী আদেশের বিরুদ্ধে মাননীয় জেলা জজ আপিল ট্রাইবুনালে আমি অর্পিত আপিল ২১১/২০১৭ দায়ের করি এবং জালিয়াত আব্দুল মতিন অর্পিত আপিল ২৪১/২০১৭ দায়ের করে ও জেলা প্রশাসক, সিলেট অর্পিত আপিল ২২৪/১৭ দায়ের করে। তিনটি মামলা একত্রে শুনানিন্তে ২১১/১৭ আপিল মঞ্জুর হয়। অপরদিকে আমার পৈতৃক খরিদা ১৭৮২ খতিয়ানের ১১১৪৯ ও ১১১৫০ দুটি দাগ আমার বরাবরে অবমুক্তির আদেশ প্রদান করেন বিজ্ঞ আপিল ট্রাইবুনাল এবং জেলা প্রশাসকের দায়েরকৃত আপিল ২২৪/১৭ নং মোকদ্দমাটি আংশিক সংশোধন পরিবর্তন আকারে আপিল নামঞ্জুর করেন। এবং আপিলে ১৭৮২ খতিয়ানের ১১ টি দাগের ভুমি বিশে^শ^র জিউর দেবতার) মন্দিরের নামে অবমুক্তির আদেশ প্রদান করেন ।

তিনি বলেন, ‘এই চক্রের সাথে হাত মিলায় আরো এক ভুমিখেকো সহযোগী আব্দুল মতিন। তিনি জেলা প্রশাসককে ভুল তথ্য দিয়ে অনুনয়-বিনয় করে ২২.০৪.২০১৮ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবরে আরো একটি আবেদন দাখিল করে একইকায়দায় আমার আপিল ট্রাইবুনালের ডিক্রিপ্রাপ্ত ও মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায়ডিক্রী মোতাবেক আইনীভাবে স্বীকৃতপ্রাপ্ত ১১১৪৯ ও ১১১৫০ দাগের ভুমি। অর্পিত আইনের ১১ ধারা বিধান মতে উপধারা ১,২,৩ ৪, ৫ ,৬ , ৭ ধারায় বলা আছে-জেলা প্রশাসক ডিক্রী প্রাপ্ত ব্যক্তি বরাবরে অবমুক্ত করার অধিকার সংরক্ষণ করেন। তাই আমি বিগত ৩০.১১.২০১৭ তারিখে জেলা প্রশাসক সিলেট বরাবরে আবেদন করি- রেকর্ড সংশোধন, সীমানা নির্ধারণ আব্দুল মতিনের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য।
উক্ত দরখাস্থটি দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) ও সদর এসিল্যা-কে বিবাদি করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করি ১৮৮৬/২০১৮। ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮তারিখে আদেশ হয় ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনকারী বরাবরে সমজাইয়া দেয়ার জন্য। উক্ত আদেশের আলোকে ১৩৮(৩) স্মারকে ৬.৫.২০১৮ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক আমার ডিক্রীপ্রাপ্ত নালিশাভুমি অবমুক্তির আদেশ প্রদান করে সদর এসিল্যান্ড বরাবরে প্রেরণ করেন। বর্তমানে সদর এসিল্যান্ড সরেজমিন সার্ভেয়ার সহ তদন্তপূর্বক উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকায় ভুমি খেকো ঐ চক্রটি আরো আরো মরিয়া হয়ে উঠে।

এই সংবাদ প্রকাশের পর থেকে সবকটি জালবাজ চক্র একসাথে হাত মিলিয়ে আমার বিরুদ্ধে নানা কাল্পনিক কাহিনী প্রচার করে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হেয় করার প্রয়াস চালাচ্ছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল একজন নাগরিক। পক্ষান্তরে ঐ চক্র আদালতের রায় এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইনের বাহিরে গিয়ে আমাকে উল্টো জাল বলে প্রতিয়মান করার প্রচেষ্ঠা রেখে ভয়-ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাকে গুম, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, জবর-দখল ও মিথ্যা হয়রানি মূলক মামলায় জড়িয়ে আমার পুরো পরিবারসহ আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। আমি এই অশুভ জাল চক্রের হাত থেকে নিজে এবং নিজের পরিবার রক্ষা করার জন্য সদাশয় সরকারের আইনি সহযোগীতা পাবার আশার ১৭ মে ২০১৮ ইং তারিখে সিলেট কোতয়ালী মডেল থানায় একটি জিডি এন্টি করি। জিডি নং-১১৯৭।

এই অবস্থায় আপনাদের সামনে আজ লিখিত বক্তব্যে সকল সত্য তথ্য সংযোজনের মাধ্যমে বিষয়টি পরিস্কার করার জন্য হাজির হয়েছি। আশা করি এই বিষয়ে আপনাদের বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে দ্রুত পৌছে যাবে-এবং মিথ্যার আবরণে ঢাকা পড়া একটি সত্য প্রতিষ্টার মাধ্যমে দেশে ন্যায় বিচার আবারো প্রতিষ্ঠা হবে।  – বিজ্ঞপ্তি




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: