সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওসমানীনগরে আটক ১১জনকে পতিতাবৃত্তিতে ফাঁসানো হয়েছে

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের করনসী রোডের একটি বাসা থেকে আটক ১১ নারী-পুরুষকে পতিতাবৃত্তিতে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই বাসার তত্ত্বাবধায়ক ও একই এলাকার বাসিন্দা নুরপুর গ্রামের মৃত আরিফ উল্লাহর ছেলে হাজি মো. কাওছার আলী। প্রবাসীর জায়গা আত্মসাত করতে প্রতিপক্ষের ইন্ধনে পুলিশ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদেরকে ফাঁসিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

বুধবার (১৬ মে) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন কাওছার আলী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ মে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে করনসী রোডের তার ব্যবস্থাপনাধীন লন্ডন প্রবাসী আত্মীয় হাজি আব্দুর রশিদের ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ ৭ জন নারী ও ৪ জন পুরুষকে আটক করে, যারা পরস্পরের আত্মীয়। আফিয়া নামের এক নারীকে তখন মারধরও করা হয়। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তির অভিযোগ এনে ওসমানীনগর থানায় মামলা করেন থানার এসআই চাঁন মিয়া। মামলায় তাকেও (কাওছার) আসামি করা হয়। মামলা নং-৩(৫)১৮)। বাদি এসআই চান মিয়া এজাহারে মিথ্যা, বানোয়াট ও যা ইচ্ছা তাই উল্লেখ করে মানসম্মান ক্ষুন্ন করেছেন।

কাওছার দাবি করেন, উক্ত ভাড়াটিয়ারা নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুরি ও ছোটখাটো চাকরি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। ২০১২ সাল থেকে তারা এই বাসায় বসবাস করে আসছেন।

কাওছার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, করনসী রোডে তার মামা হাজি আব্দুর রশিদের প্রায় ৮৫ শতক জায়গা তিনি দেখাশুনা করে আসছেন। ওই জায়গার একটি অংশে পুরাতন ভবন রয়েছে। তাতে তিনটি পরিবারকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে। অথচ পুলিশ বলছে ৩০ হাজার টাকা তারা ভাড়া দেয়।

ভাড়াটিয়া ও নিজেকে অসামাজিক কাজে জড়িত নয় দাবি করে কাওছার জানান, ওই ভবনসহ মামার সম্পত্তি এক সময় তার আত্মীয় করনসী রোড গোয়ালাবাজারের মৃত রফিক আহমদের ছেলে স্থানীয় এশিয়া টেইলারিং এর মালিক হাবিবুর রহমানের দখলে ছিল। ২০০৩ সালে তাদের দখল থেকে তা উদ্ধার করেন তিনি। এরপর থেকে তিনি ও তার মামাতো ভাই লন্ডন প্রবাসী নজমুল করিমের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন হাবিব। তাদের শায়েস্তা করতে হাবিব তিনটি মামলা করেন। ওই মামলাগুলো থেকে কাওছার খালাস পান। এছাড়া হাবিবের ভাই এরশাদুর রহমান তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। এ ব্যাপারে জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করলে ওই মামলায় (নং-১৯৪৮/১৭) গত ১০ এপ্রিল আদালত তাকে টাকা ফেরত প্রদান করতে রায় দেন এবং ৯ মাসের সাজা প্রদান করেন। মামলায় ওয়ারেন্ট হলেও পুলিশ সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করছে না।

এসব কারণে হাবিব ও তার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে থানার এসআই চান মিয়াকে হাত করে ৫ মে রাতে ভাড়া দেওয়া বাসায় অভিযান করে তাদের আটক করে পতিতাবৃত্তির নাটক সাজায় বলে দাবি করেন কাওছার।

এসআই চান মিয়া এর আগেও এমন কাজ করেছেন দাবি করে কাওছার বলেন, দয়ামীরের সাতহালিয়াপাড়ার লন্ডন প্রবাসী বৃদ্ধা গুলনাহার বিবির বাড়িতে গত ২৯ মার্চ কথিত আসামীর সন্ধানের নামে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করেন চান মিয়া। ওসি শহিদ উল্লাহর কাছে প্রতিকার চাইলে পুলিশ ওই বৃদ্ধার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলনাহার বিবি গত ৭ মে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওসি শহিদ উল্লাহ, এসআই চান মিয়াসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

প্রবাসীর সম্পত্তি দখল করতে পুলিশের সহায়তায় হাবিবুর রহমান যে নির্লজ্জ ঘটনার জন্ম দিয়েছেন, তার উচ্চতর তদন্ত দাবি করে মিথ্যা মামলা ও অপবাদ থেকে মুক্তি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন কাওছার। সংবাদ সম্মেলনে কাওছার আলীর আত্মীয় আনসার আলী ও খসরু ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: