সর্বশেষ আপডেট : ৪৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ছাতকে আসিক ও তার সহযোগীরা হুন্ডি ব্যবসাসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালাচ্ছে’

ছাতকে একটি চক্র অবৈধ হুন্ডি ও চোরাচালানি ব্যবসা চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি এই চক্র নিরীহ মানুষদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কালারুকা ইউনিয়নের জামুরাইল গ্রামের ইদ্রিছ আলীর পুত্র আসিক মিয়া। মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ মৃত আনোয়ার হোসেনের পুত্র শাহীনুর রহমান বাবুল।

লিখিত বক্তব্যে বাবুল বলেন, আসিক মিয়ার ৪ ভাই সৌদি আরব প্রবাসী মিম্বর, শফিক, সুন্দর ও সিরাজ দীর্ঘদিন থেকে হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাচার করে আসছে। দেশে থাকা অপর দুই ভাই আসিক ও মাসুক সরকারের রেমিটেন্স ও কর ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি এরা মানবপাচার চক্র ও চোরা কারবারিদের মাধ্যমে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে সখ্যতা করে ২০০৩ সাল থেকে এরা গড়ে তুলেছে একটি চক্র। এ চক্র এলাকায় প্রচারণা চালায় র‌্যাব-পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারবে না।

তিনি বলেন, শাহজালাল অটো ট্রেডার্স, শাহজালাল এন্টারপ্রাইজ, শাহজালাল পোল্ট্রি, আল রহমান ট্র্যাভেলসসহ আরও বেশ কয়েকটি বেনামি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তারা রমরমা হুন্ডি ও আদম ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান এবং তাদের ব্যক্তিগত নামে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে কোটি কোটি টাকা রয়েছে। এসব টাকার উৎস খুজতে গেলেই তাদের অবৈধ কালোবাজারী ব্যবসার তথ্য বের হয়ে আসবে। ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর গ্রামের মৃত আনজুব আলীর পুত্র সৌদি প্রবাসী আমার ফুফাতো ভাই আরজ আলীর নিকট পাওনা টাকা দাবি করে তার উপর হামলা চালায় আসিক ও তার সহযোগীরা। এ হামলার ঘটনায় এলাকার সালিশানদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে আসিক স্বীকার করে তারা ১৭/১৮ বছর যাবত হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আরজ আলীর উপর হামলার বিষয়টিও অকপটে স্বীকার করে আসিক। এসব কথা মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও রেকর্ড জমা রয়েছে। এ ঘটনার পর আবারও গত ৪ জানুয়ারি আরজ আলীর বাড়ি ঘেরাও করে তার ভাতিজা জুয়েল আহমদের ৫টি গরু জোরপূর্বক নিয়ে যায় আসিক চক্র। এ বিষয়ে জুয়েল বাদী হয়ে আসিকসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আসিক বাহিনীর হামলার শিকার হয় আমার ভাই ছালেহ আহমদ ও আরজ আলীর স্বজনেরা। এ ঘটনায়ও ছাতক থানায় আমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছি। আসিক বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আরজ আলীসহ অনেকেই আজ গ্রামছাড়া। প্রাণভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলে কথা বলার সাহস পান না।
তিনি আরো বলেন, আসিক হুঙ্কার দিয়ে বলে পাঁচ সাতজনকে খুন করলেও পুলিশ দিয়ে তার হাতে কেউ হাতকড়া পরাতে পারবে না। গত ৫ মে বিকেলে আরজ আলীর বোন রহিমার উপর আসিক চক্র হামলা চালালে তাদের চিৎকারে গ্রামের বিজ্ঞ শালিস ব্যক্তিত্ব মাস্টার আব্দুল গফ্ফার এগিয়ে আসেন। এ সময় দেশিয় অস্ত্র দিয়ে আব্দুল গফ্ফারের উপরও হামলা চালায় আসিক চক্র। একপর্যায়ে তিনি মারা গেছেন ভেবে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তাদের হামলায় ৭ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করি। মামলা নং ০৮। এফআইআরকৃত মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। আসিক এত কিছু করেও ক্ষান্ত হয়নি জামুরাইল গ্রামের কবরস্থানের একাটি অংশ দখল করে মাটি কেটে নিয়ে যায়। অবশিষ্ট অংশে মৃত কোনো ব্যক্তিকে কবর দিতে হলে তার অনুমতি নিতে হয়।

বাবুল বলেন, ২০০৩ সালেও যাদের মাত্র ২০ শতক জমি ছিল, তারা আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। বিশাল বিশাল বাড়ি, গাড়িসহ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। আসিক আমাকে ও আমার স্বজনদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। তাদের অব্যাহত হুমকিতে আমি ও আমার স্বজনেররা প্রাণনাশের আশঙ্কায় ভুগছি। আমাদের নিরাপ্তার প্রয়োজন। সম্প্রতি সুনামগঞ্জ আদালতে আমি বাদী হয়ে আসিককে প্রধান আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে শাহীনুর রহমান বাবুল হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা আসিক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দুদক, পুলিশ ও র‌্যাবের উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি কামনা করেছেন। – বিজ্ঞপ্তি


এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: