সর্বশেষ আপডেট : ১৯ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কানাইঘাট মসজিদে ইমাম রাখা নিয়ে সংঘর্ষে ১জন নিহত হবার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের

কানাইঘাট প্রতিনিধি::
সিলেটের কানাইঘাট সদর ইউপির গোসাইনপুর গ্রামের মসজিদের রমজান মাসের তারাবীর ইমাম রাখাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থীত মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষে সৌদি ফেরত প্রবাসী মোহাম্মদ আলী(৬০) নিহতের ঘটনায় কানাইঘাট থানায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ্য করে আরো অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতের শ্যালক কানাইঘাট সদর ইউ.পির বিরদল পুরানফৌদ গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর পুত্র ইউ.পি সদস্য ফজলূর রহমান বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং- ১৩। মামলার অধিকাংশ আসামী জামাত শিবির সমর্থিত বলে জানা গেছে।

পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার দায়ে শুক্রবার রাত ব্যাপি বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী গোসাইনপুর গ্রামের জামায়াত নেতা মাদ্রাসা শিক্ষক মাও: জামাল উদ্দিন(৫০), অবসর প্রাপ্ত প্রাইমারি শিক্ষক বশির আহমদ(৬৫) অবসর প্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান (৬৫) উরফে আখলু মিয়া ও তার পুত্র মাসুম আহমদ(২৫) মৃত সামছুল হকের পুত্র আনোয়ার হুসেন (৪৮) ও ইসলাম উদ্দিনের পুত্র আবিদুর রহমান (২৫) কে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের শনিবার (১২ মে) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে সোপর্দ করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সবাই জামাত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই পান্না লাল দেব, জানিয়েছেন।

মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন। মোহাম্মদ আলী হত্যার পর থেকে গ্রেফতার আতংকে গোসাইনপুর গ্রাম সহ আশপাশ এলাকার জামাত শিবিরের নেতা কর্মিরা বাড়ীঘর ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। পুলিশ এলাকার জামাত শিবির সমর্থিতদের বাড়ীঘরে অভিযান দিয়েছে।

এদিকে নিহত মোহাম্মদ আলীর জানাযার নামাজ গতকাল শনিবার বাদ আসর গোসাইনপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্টিত হয়। জানাযায় এলাকার আওয়ামীলীগ সমর্থিত নেতা কর্মিসহ বহু মানুষ শরিক হন। সবাই এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও গোসাইনপুর গ্রামে রাজনৈতিক হানাহানী বন্ধের জন্য কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজনদের দাবী জামায়াত নেতা মাদ্রাসা শিক্ষক মাও: জামাল উদ্দিন উরফে মাখন মোল্লা তার দলীয় লোকজনদের নিয়ে সবসময় গ্রামে দলীয় আদীপত্য বিস্তার ও মসজিদের নিয়ন্ত্রন নেয়ার জন্য চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। গত শুক্রবার বাদ জুময়া মসজিদের তারাবীর ইমাম রাখাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হলে জামাল মোল্লার লোকজন পরিকল্পিত ভাবে সেখানে বিশৃংখলা সৃষ্টি করলে স্থানীয় ওয়ার্ড আওমীলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সদ্য সৌদি আরব ফেরত মোহাম্মদ আলীকে হত্যা করেছে।

অপরদিকে জামায়াত সমর্থিত গ্রামের লোকজনদের অভিযোগ এটা কোন রাজনৈতিক ঘটনা নয়। মসজিদ মুতল্লি কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ মাওঃ জামাল উদ্দিনকে জুময়ার নামাজের পর গালীগালাজ সহ মসজিদ মোতল্লি কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে অভ্যন্তরিন বিরোধ কারনে মসজিদের বাহিরে মারামারীর ঘটনা ঘটে।

এ সময় জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। মধ্যস্থতায় পড়ে গিয়ে মুরব্বী মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু হয়। তবে এলাকার অধিকাংশ লোকজন জানিয়েছেন মূলত গ্রামে দলীয় আদীপত্য বিস্তার ও মসজিদে নিজেদের পছন্দের ইমাম ও মুতল্লি কমিটির কতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘ্য দিন ধরে গ্রামে আওয়ামীলীগ ও জামাত সমর্থিতদের মধ্যে উত্তেজনার জের ধরে সর্বশেষ শুক্রবারে এ ঘটনাটি ঘটেছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: