সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২০ মে, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘নর্থইস্ট বালাগঞ্জ কলেজ নিয়ে ষড়ন্ত্র করছেন আব্দুল মতিন’

নর্থইস্ট বালাগঞ্জ কলেজ নিয়ে একের পর এক ষড়ন্ত্র করে যাচ্ছেন আব্দুল মতিন। তিনি নিজেকে কলেজের একজন প্রতিষ্ঠাতা দাবি করে উল্টো কলেজকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছেন। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন মতিন মিয়া। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভূমিদাতা হাজী শাইস্তা মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে শাইস্তা মিয়া বলেন, অনিয়ম চক্রের মূল হোতা আব্দুল মতিন কলেজ প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্ন থেকেই আব্দুল মতিন এবং তার পরিবারের কিছু সদস্য আর্থিক অনিয়ম, অনৈতিক কর্মকান্ড এবং শিক্ষাবিধি বহির্ভূত কার্যক্রমের সাথে জড়িত। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। অতি সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে শিক্ষানুরাগী ও প্রতিষ্ঠাতা দাবি করে সুকৌশলে নিজের অপকর্মকে আড়ালের হীনচেষ্টা করেছেন আব্দুল মতিন। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসে কলেজের নির্বাহী কমিটির সাথে কোনো আলোচনা না করেই জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের নিয়ে একের পর এক মনগড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে থাকেন। তার বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষকমন্ডলী ও শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন, কূরুচিপূর্ণ আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারীর সাথেও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কলেজের শিক্ষার্থী ও তার নামে প্রতিষ্ঠিত আরেকটি একাডেমির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে কলেজের নির্বাহী কমিটি, শিক্ষকমন্ডলী ও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বক্তব্য প্রদান করলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। নিয়ম বহির্ভূত ও অনৈতিক ভূমিকার কারণে আব্দুল মতিনের উপর ক্ষুব্ধ হন এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বৈঠকে বসে আব্দুল মতিনকে সতর্ক করা হয়। আব্দুল মতিন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ করবেন না বলে আশ্বাস প্রদান করেন। ঘটনাটির সম্মানজনক সমাধান হওয়া সত্ত্বেও আব্দুল মতিন কলেজের ভূমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যগণ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বালাগঞ্জ থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

শাইস্তা মিয়া আরো বলেন, এরপর থেকেই আব্দুল মতিন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। তিনি গত বছরের ২ অক্টোবর কলেজের বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন। কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা মিয়ার বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সিলেট অঞ্চলের পরিচালক বরাবরে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। অফিস স্টাফদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি প্রদান করতে থাকেন। কলেজের নামে ফেইসবুক একাউন্ট খুলে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে আসছেন তিনি। গত ২৪ এপ্রিল নগরীর তালতলা জেলা শিক্ষা অফিসের প্রধান ফটকে অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা মিয়ার উপর তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালান। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আব্দুল মতিন এফআইরভুক্ত একজন আসামি। টাকার জোরে গ্রেপ্তার এড়িয়ে যাচ্চেন আব্দুল মতিন। বিভিন্ন সময় পুলিশের অনৈতিক সহযোগিতায় কলেজে প্রবেশ করে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশকে অশান্ত করে তুলছেন আব্দুল মতিন।

সংবাদ সম্মেলনে শাইস্তা মিয়া জানান, প্রতিষ্ঠানের ১২ জন প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে আব্দুল মতিনসহ ৯ জন বিগত এক বছর যাবত সকল প্রকার আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের আর্থিক সহায়তা বন্ধের প্রেক্ষিতে এবং এলাকাবাসীর অনুরোধে আমার পরিবারের তিনজন সদস্য আব্দুল মন্নান, লতিফা খানম ও সুহেল আহমদ জামান কলেজকে সকল আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে এফআইআরভুক্ত আসামি আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা মিয়া, শাহাদাত হোসেন রোকন, হুমায়ূন আহমদ সুয়েব, মুসলিম আলী ও সাদিকুর রহমান। বক্তব্য পাঠ করেন সিরাজুল ইসলাম। – বিজ্ঞপ্তি




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: