সর্বশেষ আপডেট : ৫৫ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যমজদের গ্রাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের এই গ্রামে গেলে আপনি চমকে যাবেন। দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম কোডিনহি। কিন্তু বর্তমানে এই গ্রাম বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে ‘যমজদের গ্রাম’ হিসেবেই। বিজ্ঞানীরাও স্তম্ভিত এখানকার যমজদের ক্রমবর্ধমান জন্মহার দেখে!

গ্রামের রাস্তাঘাটে, খেলার মাঠে, স্কুলে বা অফিসে সর্বত্র জোড়ায় জোড়ায় মুখ দেখতে পাওয়া যায়। এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, তার স্কুলেই ১৭ জোড়া যমজ আছে। আবার খেলার মাঠে যমজ খেলোয়াড়দের নিয়েও দর্শকরা মাঝে মাঝে বিভ্রান্তিতে পড়েন। ব্যাপারগুলো যেমন মজার তেমনই আশ্চর্যের।

সার্কাস বা পেশাদার থিয়েটার নয়, আসলে মালাপ্পুরম জেলার কোডিনহি গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই রয়েছে যমজ ভাই-বোন। গ্রামে ঢোকার আগেই সাইনবোর্ডে দেখতে পাবেন, ঈশ্বরের একান্ত আপন যমজদের গ্রাম-কোডিনহি।

এখানে হাজারটি জন্মের মধ্যে ৪২টি জন্মই যমজদের। ২০০৮ এর পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যাবে, এই গ্রামে জন্ম নিয়েছিল ২৬৪ যমজ শিশু, সংখ্যাটা বেড়ে এখন ৪৫০ এ দাঁড়িয়েছে। সারা বিশ্বে যমজ সন্তান প্রসবের যে হার, কেরালার এই গ্রামে সে হার প্রায় ছয় গুণ বেশি। গ্রামের ৮৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম হলেও হিন্দুদের মধ্যেও যমজ সন্তান জন্মের হার একইরকম।

যমজের জন্মের এই আশ্চর্য ঘটনা বিশ্বে কেবল কোডিনহিতে নয়, আরও দু’টি গ্রামেও ঘটে। নাইজেরিয়ার ইগবো ওরা এবং ব্রাজিলের ক্যানডিডো গডোই নামের গ্রামে। এই দু’টি গ্রামের যমজ সন্তান জন্মের ব্যাখা অবশ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে এসেও বিজ্ঞানীরা সঠিকভাবে কোডিনহির ব্যাখা দিতে পারছেন না।

গ্রামটিতে যমজ শিশু জন্মের এই ধারা শুরু হয়েছিল ৬০-৭০ বছর আগে। যমজের সংখ্যা এরপর ক্রমেই বেড়েছে। দেখা গেছে, বিয়ের পর কোনও নারী ওই গ্রামে এলে তিনিও যমজ সন্তান প্রসব করছেন। স্থানীয় চিকিৎসক শ্রীবিজু জানান, পাশ্চাত্যের মতো এ গ্রামে সন্তান জন্মের জন্য কোনো কৃত্রিম পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় না। সাধারণত কম বয়সী নারীরাই প্রথমবারের মাতৃত্বে এমন যমজ সন্তানের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। গ্রামবাসীরা যমজ জন্মের এই ব্যাপারটিকে ঐশ্বরিক আশীর্বাদ বলে ধরে নিয়েছেন।

গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক যমজরা এখনও বেঁচে আছেন। কুনহি পাথুটি এবং পাথুটি নামের সত্তর বছরের দুই বোনের দাবি, সবটাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ। বিজ্ঞান কিছুই করে উঠতে পারবে না।

তবে বিজ্ঞানীরা হাল ছাড়েননি। যমজ জন্মের নেপথ্যে জেনেটিক অর্থাৎ জিনগত নাকি আবহাওয়ার কারণ দায়ী সে বিষয়ে পরীক্ষা চলছে। বিভিন্ন দেশ থেকে বিজ্ঞানীরা এই দেশে এসে যমজদের বিভিন্ন জৈবিক নমুনা সংগ্রহ করে চলেছেন।২০০৬ সালে মজদের সুরক্ষার জন্য সমিতিও গড়ে উঠেছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: