সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সংবাদ সম্মেলনে বাদীর অভিযোগ : আলফু ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ

দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দিতে হামলায় নিহত বাবুল মিয়া ও মাসুক মিয়া হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি আলফু ও তার সহযোগীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে এবং হত্যাকান্ডে ববহৃত আঘ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে না।  মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন নিহত বাবুল মিয়ার ভাই, মামলার বাদী সেবুল মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে সেবুল মিয়া বলেন, গত ৬ মার্চ আলফু ও তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি গ্রামের বাবুল মিয়া ও মাসুক মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত এ জোড়া খুনের মামলার প্রধান আসামী, কোম্পানীগঞ্জের একাধিক হত্যা মামলাসহ কমপক্ষে ১০টি মামলার আসামি আলফুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

তিনি বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিলে ৬ মার্চ সকালে সালিশ বৈঠকে বসে বিষয়টি সুরাহা করে দেয়ার আশ্বাস দেন স্থানীয় মুরব্বীয়ানগণ। সে অনুযায়ী সবাই নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে আকষ্মিকভাবে আলফুর নেতৃত্বে তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর কয়েক শ‘ লোক এবং তাদের জ্ঞাতিগোষ্টি দুই-আড়াই হাজার মানুষ আমাদের উপর হামলা চালায়। আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা মুর্হূমুহূ গুলি ছুড়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এ সময় আলফু ও তার বাহিনীর গুলিতে নির্মমভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান আমার ভাই বাবুল মিয়া ও খালাতো ভাই মাসুক মিয়া। আমিসহ আমাদের পক্ষের অর্ধ শতাধিক লোক সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হই। অথচ, প্রকৃত সত্যকে পাশ কাটিয়ে গত ২৮ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলন করে আলফুর স্ত্রী সুলতানা আক্তার ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে নিজের স্বামী আলফু ও তার বাহিনীকে রক্ষার করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আলফুর স্ত্রী সুলতানা আক্তার তার স্বামীকে ‘স্বনামধন্য চেয়ারম্যান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অথচ, সিলেটের সচেতনমহল অবগত আছেন, আলফু সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার একজন তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত যুবলীগ নেতা আব্দুল আলী হত্যা মামলাসহ আরো দুটি হত্যা মামলা, কোম্পানীগঞ্জ পাথর কোয়ারীর চাঁদাবাজি, জলমহাল জবরদখল, ডাবল মার্ডারসহ ১০/১২টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় সে বহুবার জেলও খেটেছে। গত ৬ মার্চ আমাদের উপর হামলার জন্য সে কোম্পানীগঞ্জ থেকে নিজের বাহিনীর কয়েক শ‘ সন্ত্রাসীকে বরইকান্দিতে নিয়ে আসে। তার সন্ত্রাসী বাহিনী ২০/২৫টি বন্দুক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রাতের আঁধারে সিলেট এসে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ডে অংশ নেয়।

সুলতানা আক্তার আরো উল্লেখ করেছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা গৌছ মিয়ার বাড়িতে বিচার নিয়ে গেলে গৌছ মিয়ার ছেলে-ভাতিজারা মিলে তার ছেলেকে মারধর করে, যা আদৌ সত্য নয়। বরং, এলাকার সালিশানদের অবজ্ঞা করে রাতেই আলফুর ছেলে সাঈদ আমাদের বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা চালায়। ঐ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে, আমাদের পক্ষের লোকজন বরইকান্দি ১০ নং রোডে বাড়ি ঘরে হামলা ও দোকানপাট ভাংচুর করেছেন, যা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আলফু বাহিনী এলাকায় যে তান্ডব চালায়, তার প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী ।

সংবাদ সম্মেলনে আলফু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবের বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে কৌশলে এর দায়ভার এলাকার নিরীহ জনসাধারণের উপর চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। আলফুকে রক্ষার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, আলফু সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না। অথচ, আলফুর নেতৃত্বেই সেদিন হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র আমাদের কাছে রক্ষিত আছে। এমনকি, বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আলফুর নেতৃত্বে হামলার সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তদন্তসাপেক্ষে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারেরও দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: