সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দেশে রাজনৈতিক ও সীমান্ত সংঘাত কমেছে

নিউজ ডেস্ক:: দেশে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত এবং সীমান্ত সংঘাত কমেছে বলে জানয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা উপলক্ষ্যে সংগঠনটির প্রণীত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

আগামী ১৪ মে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে সর্বজনীন পুনরীক্ষণ পদ্ধতি বা ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউয়ের (ইউপিআর) আওতায় বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। সেখানে এইচআরএফবির পক্ষ থেকে প্রণীত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এইচআরএফবি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এইচআরএফবির আহ্বায়ক এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, এইচআরএফবির স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রঞ্জন কর্মকার, জাকির হোসেন, সালে আহমেদ প্রমুখ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে ২০১৩ সালে ৫০৭ জন মারা যায় এবং আহত হয় ২২ হাজার ৪০৭ জন। পরের বছর ২০১৪ সালে ১৪৭ জন মারা যায় এবং আহত হয় ৮ হাজার ৩৭৩ জন।

২০১৫ সালে এসে আহতের সংখ্যা কমলেও নিহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। বছরটিতে রাজনৈতিক সংঘাতে ১৫৩ জন মারা যায় এবং ৬ হাজার ৩১৮ জন আহত হয়। পরের বছর ২০১৬ সালে এসে নিহত ও আহত উভয় সংখ্যা বাড়ে। বছরটিতে ১৭৭ জন মারা যায় এবং ১১ হাজার ৫২১ জন আহত হয়।

আর ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সংঘাতে মারা গেছেন ৪৪ জন। বিপরীতে আহত হয়েছে ৩ হাজার ৫০৬ জন। অর্থাৎ বছরটিতে আগের চার বছরের তুলনায় রাজনৈতিক সংঘাতে হতাহতের পরিমাণ অনেকটাই কমেছে।

সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যাও কমেছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ১২৫ জন। যা আগের বছর ২০১৬ সালে ছিল ১৯৫ জন, ২০১৫ সালে ১৯২ জন, ২০১৪ সালে ১৫৪ জন এবং ২০১৩ সালে ২০৮ জন।

এদিকে সীমান্ত হত্যার বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ জন সীমান্ত হত্যার শিকার হয়েছেন। আগের বছর ২০১৬ সালে ২৩ জন, ২০১৫ সালে ৩২ জন, ২০১৪ সালে ১৬ জন এবং ২০১৩ সালে ১২ জন সীমান্ত হত্যার শিকার হন।

সীমান্ত হত্যার শিকার হওয়াদের মধ্যে- ২০১৭ সালে ৬ জন, ২০১৬ সালে ৭ জন, ২০১৫ সালে ১৪ জন, ২০১৪ সালে ১৬ জন এবং ২০১৩ সালে ১৪ জন শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু বরণ করেছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এইচআরএফবির সদস্য রঞ্জন কর্মকার ও জাকির হোসেন বলেন, সীমান্তের দুই পারে যে রক্ষকরা আছেন, আমাদের পক্ষ থেকে বিজিবি এবং ভারতের পক্ষ থেকে যারা আছেন তাদের মধ্যে হয়তো একটা সমঝোতা হয়েছে। আমাদের দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে কীভাবে সীমান্ত সংঘাত কমানো যায়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে আন্তরিকতা বাড়ায় সীমান্ত সংঘাত কমে এসেছে।

রাজনৈতিক সংঘাত কমার বিষয়ে এইচআরএফবির আহ্বায়ক এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কোনো পর্যালোচনা করিনি। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যে তথ্য পেয়েছি, তাইই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সরকার, গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৫০০ জনের মতামত নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে’।

সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এইচআরএফবি প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কর্মকর্তা তামান্না রিতি। এতে ৫টি বিষয়ে মোট ২৩টি প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়। ৫টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা, শ্রমিক অধিকার এবং আদিবাসি, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ গত দুটি পর্যালোচনাতেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ২০০৭ সালে ইউপিআর প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর আওতায় প্রতিবেদন প্রদান ও ফলোআপ করার জন্য বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে কাজ করছে এমন সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ফোরামটি গঠিত। বর্তমানে ২০টি সংগঠন ফোরামের সদস্য।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: