সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাওরাঞ্চলে সরকারী ভাবে ধানের দাম ও ধান সংগ্রহের পরিমান বাড়ানোর দাবি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের গত দু-বছরের ক্ষতি কথা বিবেচনা করে সরকারী ভাবে ধানের দাম ও ধান সংগ্রহের পরিমান বাড়ানোর দাবী সর্ব মহলের। আর সরকার খাদ্যশস্য সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকদের নিকট থেকে ন্যায্য মূল্য ধান ক্রয় করার দাবী কৃষকদের। কারন হাওরাঞ্চলে এবার বোরো ধানের ফলন ভাল হয়েছে। ক্ষতিও হয়েছে ব্লাষ্ট নামক ছত্রাকের আক্রমে কিছুটা। তারপরও এবার বোরো ধানের ভাল ফলনে মহা খুশি হাওলাঞ্চলের কৃষকগন।

জানাযায়,এপর্যন্ত জেলার হাওরে প্রায় ৪৫ভাগ ধান কাটা হয়েছে। আর কিছু দিনের মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। এদিকে আবহাওয়ার বৈরী আচরনে দিশেহারা হাওরে পাড়ের লাখ লাখ কৃষক। তারা এখন দ্রুত ধান কাটা পুরো ধমে শুরু করেছে। কিন্তু ধান কাটার শ্রমিক সংকট রয়েছে হাওরে। তার পরও আবহাওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ। কৃষকের মনে এখন মহা আনন্দ। সরকারকে এই আনন্দ ধরে রাখতে হলে কষ্টের ফলানো কৃষকের ধানের দাম ও ধান সংগ্রহের পরিমান বাড়ানোর খুবেই প্রয়োজন। কেননা গত দু-বছর পরপর দু-বার কষ্টের ফলানো এক মাত্র সম্পদ বোরো ধান অকাল বন্যায় সম্পূর্নই পানিতে তলিয়ে যায় নিঃস্ব হয়ে পড়ে লাখ লাখ কৃষক ও তাদের পরিবার। খেয়ে না খেয়ে কোন রখমে দিন পাড় করেছে। সেই কষ্ট কিছুটা লাগব করতে সরকার বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করায় কিছুটা মাথা তুলে দাড়াতে পেরেছে।

এরপর চলতি বছর ব্যাংক,এনজিও,মহাজনি ঋন নিয়ে কেউ কেউ আবার দার দেনা করে বোরো ফসল রোপন করেছিল কৃষক। তাই এবার সরকারী ভাবে বোরো ধানের দাম ও ধান সংগ্রহের পরিমান বাড়ালে গত দু-বছরের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে কৃষকরা। হাওরাঞ্চলে এখন ৬৫০-৭৫০টাকা ধরে ধান বিক্রি হচ্ছে। অথছ সরকারী ভাবে ধানের দাম ধরা হয়েছে ১০৪০টাকা। আর খাদ্য শস্য সংগ্রহের কর্মসূচি ১লা মে থেকে শুরু হবে। সময় মত ধান সংগ্রহ করার জন্য জোরালো দাবী উঠেছে সর্ব মহলে। এদিকে কৃষকদের দাবী-জেলার প্রতন্ত্য এলাকার কৃষকগন উপজেলা সদর ও জেলা সদরে আসতে গিয়ে খরচের পরিমান বেশী হওয়ায় লাভের বদলে ক্ষতির শিকার হচ্ছি। সরকার ভাবে যদি ধান সংগ্রহের স্থান বিভিন্ন বড় বড় হাওরে নিয়ে যায় তাহলে কৃষকগন উপকৃত হবে। তা না হলে সরকারী ধান ক্রয় কেন্দ্রে ধান কেনা শুরু হলেও এর পূর্বেই প্রান্তিক কৃষকদের বিক্রয় যোগ্য ধান কৌশলে কিনে নিয়ে শুভংকরের ফাকি দেয় আমাদের(কৃষকদের)গোদাম কর্মকর্তা যোগ সাজোসে জেলার বিভিন্ন বাজারের মধ্যমত্বভোগী ব্যবসায়ী,ফড়িয়া কৃষক,মিলমালিক ও সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীরা।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন কার্য্যালয় সূত্রে জানাযায়,জেলার আবাদ জমির পরিমান ২লাখ ৭৬হাজার ৪শত ৪৭হেক্টর। এবার ২লাখ,২১হাজার ৭৫০হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। আর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্র ১২লাখ ১৯হাজার ৪১৪মেট্রিকটন ধান। তবে বিভিন্ন কারনে ধান ১০লাখ মেট্রিকটনের বেশী পাওয়া যাবে বলে জানাযায়। যার মূল্য ২হাজার ৯২৪কোটি ৬৭লাখ ৩৬হাজার টাকা। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্য্যালয় সূত্রে জানাযায়,চাল সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশনা আসছে এখনও ধান সংগ্রহ করার জন্য কোন নিদের্শনা আসে নি। সারা বাংলাদেশে সিদ্ধ ৮লাখ মেট্রিকটন,১লাখ আতব সংগ্রহ করা হবে। সুনামগঞ্জে সিদ্ধ(৩৮টাকা প্রতিকেজি) চার ১২০৬মেট্রিকটন,আতবের(৩৭টাকা প্রতিকেজি) এখনও কোন নির্দেশনা আসেনি ২০হাজার হবে। চাল সংগ্রহ করা হবে তালিকাবদ্ধ মিল মালিকদের কাছ থেকে। সারা বাংলাদেশে দেড় লাখ টন ধান (২৬টাকা)সংগ্রহ করা হবে সুনামগঞ্জে ৩০হাজার মেট্রিক টন।

সামায়ুন,রফিক,খেলু মিয়া,মইনুলসহ হাওরপাড়ের কৃষকগন বলেন,এবারও জেলার এত উৎপাদনের মাঝে মাত্র ৩০হাজার মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হবে শুনেছি। তা একেবারেই নগন্য। এখানে ধান সংগ্রহের পরিমান না বাড়ালে আমাদের কৃষকদের স্বার্থই রক্ষা হচ্ছে না। ফলে হওয়ায় লাখ লাখ কৃষকের মাঝে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে। প্রতি বছরেই ধান চাল সংগ্রহ কার্যক্রম কচ্ছব গতিতে চলে। ফলে ধান সংগ্রহের তারিখ ভুলে যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে এক মাসের স্থলে ২মাসের অধিক সময় লাগে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান,এবার ধান সংগ্রহের পরিমান ও দাম বাড়ানোর খুবেই যুক্তিযুক্ত দাবী। কেননা পর পর দু বছর অকাল বন্যায় হাওরে কৃষককের কষ্টের ফলানো বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এই ক্ষতি পোষাতে সরকার এই বিষযটি বিবেচনা করতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকগন উপকৃত হবে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জাকারিয়া মোস্তাফা জানান,এখনও ধান সংগ্রহের নির্দেশনা আসে নি। চাল সংগ্রহের নিদের্শনা এসেছে। খাদ্য শস্য সংগ্রহের জন্য জেলার খাদ্য গোদাম গুলো প্রস্তুত ও গোদাম কর্মকর্তাদের কাছে চাল সংগ্রহের নির্দেশনা পৌচ্ছে। সে অনুযায়ী প্রদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের খাদ্য গোদামের যে চাহিদা আছে এর বাহিরে চাল বা ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: