সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারীরা জন্ম দিচ্ছে হাজারো শিশু

নিউজ ডেস্ক::
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বড় আকারে রোহিঙ্গা ঢল নামার ৯ মাস পার হতে চলছে। মিনানমার সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের দ্বারা ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া হাজারো রোহিঙ্গা নারী জন্ম দিতে শুরু করেছেন ‘অপ্রত্যাশিত শিশু’। এমন সন্তানসম্ভবা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশেরই বয়স আঠারোর নিচে। আগামী কয়েক মাসে সন্তান প্রসবের এই হার আরো বৃদ্ধি পাবে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনা করছে ফ্রান্সভিত্তিক চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)। সংস্থাটি সন্তানসম্ভবা রোহিঙ্গা হাজারো নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটির সূত্রে, সেখানে যেসব নারী সন্তানসম্ভবা রয়েছে তাদের অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। রাখাইনে ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভধারণের ফলে সামাজিক কলঙ্কের চিন্তা তাদের মানসিক পীড়ন অবর্ণনীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাস থেকে আগামী কয়েক মাসে ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারীদের সন্তান সংখ্যা বেড়ে যাবে। হাজারো রোহিঙ্গা নারীর সন্তান প্রসবের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা রাখাইনে তারা যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তার স্পষ্ট প্রমাণ বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।এরইমধ্যে অনেক ধর্ষণের শিকার অনেক রোহিঙ্গা নারী গর্ভপাত ঘটিয়ে সন্তান নষ্টও করেছেন।

সম্প্রতি সন্তান জন্ম দিয়েছেন এমন কয়েকজন রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান।তিনি বলেন, ‘সেনারা যখন গ্রামে হানা দেয়, তখন তারা নারীদের ধর্ষণ করে এটা সবাই জানে। মংডু শহরে সহিংসতার সময় মিয়ানমারের তিন সেনা আমার ঘরে প্রবেশ করে। সেসময় সেনারা আমার পাঁচ সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে। এমন জঘন্য ঘটনার শিকার হওয়ার পর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণের ঘটনা স্বজনদের কাছে গোপন রাখারও চেষ্টা করেছি। কিন্তু শারীরিক পরিবর্তন দেখে প্রতিবেশীরা বুঝতে পারে।’

তিনি আরো জানান, ধর্ষণের শিকার হয়ে গ্রামের এক ডাক্তারের কাছ থেকে তিনি ওষুধ কিনে খেয়েছিলেন তিনি। সে ওষুধ খাওয়ার পরেও তার গর্ভপাত হয়নি।ওই নারী ২৬ জানুয়ারি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির জন্মের পর পরিবার ও সমাজে বিভক্তি দেখা দেয়। তিনি তার বাকি সন্তানকে বোঝাতে চেষ্টা করলেন, সে তাদের মতোই অন্যায়ের শিকার। নৃশংসতার প্রতিফলন হিসেবে যে শিশুটি পৃথিবীতে এসেছে তাকে তো আর ফেলে দেওয়া যায় না। শিশুটির তো কোনো দোষ নেই।

এমএসএফের তথ্য মতে, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২৪ জন রোহিঙ্গা নারীকে তারা চিকিৎসা দিয়েছে, যারা রাখাইনে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তবে এমন হাজারো নারী আছেন, যারা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েও সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে সাহায্য নিতে আসেননি।
জানুয়ারি মাসে এমএসএফের হাসপাতালে এমন বহু নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। এসব নারীরা বাসায় গর্ভপাতের চেষ্টা চালিয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।

এমএএসএফের ডাক্তারদের সঙ্গে কাজ করা মেডিকেল সমন্বয়কারী মেলিসা জানান, ‘তারা তাদের নতুন বাচ্চার যত্ন নেয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। তাদের মধ্যে বেশিরভাগের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এছাড়া সামাজিক লজ্জা ও কলঙ্কের কারণে অতিরিক্ত চাপে থাকে তারা। এসব নারীদের বেশিরভাগই প্রথম সন্তান প্রসব করবেন। অনেক নারীই ইতোমধ্যে সন্তান প্রসব করেছেন। বাকিদের আগামী সপ্তাহ থেকে সন্তান প্রসব শুরু হবে।’

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, রোহিঙ্গা নারীদের দুই তৃতীয়াংশ রাখাইনে যৌন সহিংসতার শিকার হলেও লজ্জা ও কলঙ্কের কথা ভেবে কর্তৃপক্ষ কিংবা দাতব্য সংস্থার কাছে তারা তা জানাননি।এসব ‘অপ্রত্যাশিত শিশু’র পরিচয় সম্পর্কে রোহিঙ্গা অ্যাকটিভিস্ট লিন বলেন, ‘যেহেতু তারা রোহিঙ্গা নারীর গর্ভে বেড়ে উঠছে এবং এর জন্য সমস্ত কষ্ট ভোগ করছে রোহিঙ্গা নারীরা, তাই বাচ্চাটিও অবশ্যই রোহিঙ্গা বলে বিবেচিত হবে।’

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে চার দশক ধরে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে কথিত হামলার অভিযোগ তুলে সেনা অভিযানের নামে নৃশংসতা শুরু হলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এদের আশ্রয় হয়েছে কক্সবাজারে উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে।

 




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: