সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মিনিট ২৫ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে পারবে ‘লোক্যাফি’ অ্যাপের ব্যবহার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক ::
বাস, ট্রাকসহ অন্য গাড়ি চাইলেই ছুটতে পারে বেসামাল গতিতে। এ কারণে প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে যাত্রী ও পথচারীদের প্রাণ। এমন অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চলাচল ঠেকাতে পারে ‘লোক্যাফি’ নামের একটি অ্যাপ। এতে সাশ্রয় হতে পারে পরিবহন খাতের খরচ ও যান ব্যবহারকারীর সময়। তবে অ্যাপটির ব্যবহার সহজ করতে প্রয়োজন রয়েছে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা। আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার।

লোক্যাফি নামের এই অ্যাপটি উদ্ভাবন করেছেন চট্টগ্রামের দুই তরুণ-যুবাঈর হাসান ও গোফরান উদ্দিন। এ অ্যাপটি ব্যবহার করে যানবাহনের অবস্থান জানতে ও জানাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। গাড়িটি কত কিলোমিটার গতিতে ছুটছে তা দেখতে পারবে ব্যবহারকারী যে কেউ। ফলে যেসব যানবাহন নির্দিষ্ট গতিসীমা মানবে না, সেগুলো চিহ্নিত করে পুলিশ ও বিআরটিএ যৌথভাবে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাবে।

গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনামূল্যে লোক্যাফি অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রামের বেসরকারি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনগুলোর ব্যবহারকারীরা তাদের অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোনে অ্যাপটি ব্যবহার করছেন। এই অ্যাপের সাহায্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্টাফরা নিজেদের মুঠোফোনে সরাসরি দেখতে পান, তাদের ব্যবহৃত গাড়ির অবস্থান। গাড়ি ঘণ্টায় কত কিলোমিটার গতিতে চলছে, কত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাবে, সামনে ও পেছনে কোন গাড়িটা আছেÑ সবই দেখতে পারেন ব্যবহারকারীরা।

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চকবাজার থেকে ছাড়ে। আগে জিইসি মোড়ে রাস্তায় বাসের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হতো। চকবাজার থেকে বাসে ওঠা বন্ধুদের বারবার ফোন দিয়ে বাসের অবস্থান জানার চেষ্টা করতাম। বারবার ফোন পেয়ে তারাও বিরক্ত হতো। কিন্তু এখন লোক্যাফি অ্যাপ ব্যবহার করে আমি জানতে পারি, বাসের অবস্থান কোথায়, আমার কাছে আসতে কত সময় লাগবে ও কত বেগে আসতেছে সব।’
অ্যাপটি গণপরিবহনসহ সর্বত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এজন্য প্রতিটি গাড়িতে দিতে হবে আলাদা কোড নাম্বার। ওই কোড নাম্বারটি অ্যাপে থাকার পাশাপাশি গাড়িতে সহজে দৃশ্যমান হয়, এমন জায়গায়ও সাঁটানো থাকতে হবে। ফলে গাড়িতে থাকা যে কেউ অ্যাপে ঢুকে রুটের নাম ও কোড নাম্বারটি ‘সিলেক্ট’ করে ‘লোক্যাফি’ দিলেই অ্যাপ ব্যবহারকারী অন্যরা ওই গাড়ির অবস্থান জানতে পারবে। এ ছাড়া অ্যাপটি ব্যবহার করে ‘ট্র্যাক’ করলে কাক্সিক্ষত অন্য গাড়ির অবস্থানও জানা যাবে। এই কাজটুকু করার জন্য তরুণ উদ্ভাবকদের প্রয়োজন হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সহযোগিতা।

অ্যাপের ব্যবহার সম্পর্কে উদ্ভাবক ও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যুবাঈর হাসান বলেন, ‘কোন গাড়ি কী গতিতে চালাচ্ছে তা প্রশাসনের জানতে হলে প্রতিটি গাড়িতে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি যুক্ত করতে হবে। এরপর সেই যন্ত্রগুলো পর্যবেক্ষণের যন্ত্রপাতি বসাতে হবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে, যা অনেক ব্যয়বহুল। কিন্তু কোনো একটি গাড়িতে কেউ একজন লোক্যাফি ব্যবহার করলে, ওই গাড়ির অবস্থান, গতিÑ সব জানা সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘কোনো গাড়ি নির্দিষ্ট গতিসীমা অমান্য করলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ কক্ষে পাঠানো যাবে এবং সে অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারবে। কোনো যানবাহন অনুমোদিত পথে চলাচল করছে কি না, তাও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে ওই অ্যাপে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গাড়িতে কেউ একজন অ্যাপটা চালু করে রাখলেই হবে। অ্যাপটি ১০ কিলোমিটার পথ চালু রাখলে মাত্র এক এমবি (মেগাবাইট) ইন্টারনেট খরচ হবে।’
এদিকে লোক্যাফি অ্যাপের কার্যকর ও সহজ ব্যবহারের জন্য সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন উল্লেখ করে উদ্ভাবক যুবাঈর হাসান বলেন, ‘পুলিশ চাইলে গাড়ির গতি সম্পর্কিত তথ্য আমরা তাদের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারব। এ ছাড়া অ্যাপে যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধ প্রতিরোধে একটা অপশন রাখতে যাচ্ছি আমরা। যাতে অপরাধের নানা তথ্য, ছবি, ভিডিও অ্যাপ ব্যবহারকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে পারেন।’

পুলিশ সূত্র জানায়, ডিজেলচালিত যানবাহনে গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘স্পিড গভর্নর’ নামে একটি যন্ত্র থাকে। এসব মোটরযানের নিবন্ধন ও ফিটনেস নেওয়ার সময় ওই যন্ত্রটিতে গতিসীমা নির্দিষ্ট (সিল) করে দেওয়ার রীতি চালু আছে। তবে অধিকাংশ যানবাহনের মালিক সময়মতো ফিটনেস সনদ নেন না বলে এই যন্ত্র কার্যকর থাকে না। এ ছাড়া পেট্রল, অকটেন ও সিএনজিচালিত যানবাহনে ‘স্পিড গভর্নর’ নেই। এ কারণে চালকরা বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন।

মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর অষ্টম তফসিলে প্রতিটি মোটরযানের গতিসীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। এই তফসিলে হালকা মোটরযান (প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, জিপ) ও মোটরসাইকেলের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারিত আছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ মাইল বা ১১২ কিলোমিটার। মধ্য আকারের যান কিংবা ভারী যাত্রীবাহী মোটরযানের (বাস-মিনিবাস) সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩৫ মাইল বা ৫৬ কিলোমিটার। এ ছাড়া মালবাহী বিভিন্ন যানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে সর্বনিম্ন ১০ মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইনে উল্লেখ করা আছে, এই সর্বোচ্চ গতিসীমার ওপরও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট পথে বা এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ কিংবা শর্তাধীন করতে পারবে। মোটরযান আইনে নির্দিষ্ট গতিসীমার বাইরে যানবাহন চালানোর অপরাধে প্রথমবার ওই যানের চালককে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদ- কিংবা ৫০০ টাকা জরিমানা এবং চালকের লাইসেন্স একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত করার কথা বলা আছে। একই অপরাধ তিন বছরের মধ্যে পুনরায় করলে চালক সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদ- বা এক হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দ-ে দ-িত হবেন। পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স অনধিক এক মাসের জন্য স্থগিত করা হবে।

এসব জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, ‘লোক্যাফি অ্যাপটি সবচেয়ে বেশি কাজে লাগানো যাবে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে। অ্যাপের মাধ্যমে চালকরা দেখতে পারবেন, তার যাত্রী কোন কোন জায়গায় অপেক্ষা করছে। তাই অহেতুক এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে সময় নষ্ট হবে না। চট্টগ্রামের পরিবহন ব্যবসায়ীদের প্রতি আমি অনুরোধ করব, এই অ্যাপটা যেন ব্যবহার করে। আমি নিজেও অ্যাপটি নিতে আগ্রহী।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান বলেন, ‘বেপরোয়া গতির গাড়ির কারণে বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় বেপরোয়া চালকদের আইনের মধ্যে আনতে লোক্যাফি অ্যাপটি সহায়ক হতে পারে মনে হচ্ছে। অ্যাপটির মাধ্যমে আমরা কীভাবে সুফল পেতে পারি, সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব।’

লেখক : শরীফুল রুকন, চট্টগ্রাম।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: