সর্বশেষ আপডেট : ৩৩ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে ফের আন্দোলনের ঘোষণা শিক্ষকদের

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক::
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে সরকারি শিক্ষকদের সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণসহ ১১ দফা দাবিতে ফের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। সরকারের আশ্বাস সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে বলে জানান সরকার সমর্থিত শিক্ষক নেতারা।

শনিবার (২৮ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আসাদুল হক। ঢাকাসহ সারাদেশে আগামী ১০ মে ও ২৫ জুন মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষকদের দাবিগুলো জানানোর জন্য স্মারকলিপি দেয়া হবে।

সরকার সমর্থক ১০টি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত মোর্চার নেতাদের অভিযোগ, তাদের দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরার সক্ষমতা নেই শিক্ষামন্ত্রীর। ফলে তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। দাবি বাস্তবায়নে আগামী অর্থ বছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দ না দিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সমন্বয়ক ও রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেন, গত ১৪ মার্চ প্রেস ক্লাবের সামনে কয়েক লাখ শিক্ষকের অংশগ্রহণে মহাসমাবেশে দাবি বাস্তবায়নে সাতদিনের সময় নিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। দাবি বাস্তবায়নে সরকারিভাবে আশ্বাস দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আমরা ঘরে বসতে থাকি পারি না। বাজেটে জাতীয়করণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের দাবি পূরণে শিক্ষামন্ত্রী সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করেন না। উল্টো তিনি শিক্ষকদের কটাক্ষ করে কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেন, আপনারা আমাদের নিয়ে কথা বললে আমরাও কিন্তু মুখ খুলবো। আগে যারা টেম্পুতে চড়তেন তারা এখন পাজেরো ছাড়া চলেন না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের দাবির বিষয়ে আন্তরিক, এটা মানি। তবে মন্ত্রণালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে যে ধরনের সক্ষমতা দরকার তা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। তিনি (শিক্ষামন্ত্রী) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পদত্যাগ করতে যান। কিন্তু শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখাননি। এটা রীতিমত হাস্যকর।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা হলেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা সম্ভব। কিন্তু আমলারা ফুলিয়ে ফাপিয়ে আরও বড় অঙ্কের কথা বলে আটকে দিচ্ছেন। এক সময় প্রধানমন্ত্রী জাতীয়করণের পক্ষে বলেও এখন তিনি থেমে গেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে, আমলারা সরকারকে দাবির বিষয়ে বিভ্রান্ত করছেন। সরকারকে মিসগাইড করছেন।

বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, শিক্ষানীতির আলোকে আমরা ১১ দফা বাস্তবায়নের আন্দোলন করছি। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সকল মহলেই আমাদের যৌক্তিক দাবি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অথচ আমাদের দাবি পূরণে এখনও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আগামী বাজেটে দাবি বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের জন্য আমাদের নতুন কর্মসূচি।

শিক্ষকদের ১১ দফা

১) শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ;

২) পাঁচ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও বাংলা নববর্ষ ভাতা দেওয়া ও পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান;

৩) ইউনেসকোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটে ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা;

৪) নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানকারী শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা;

৫) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ পেনশন চালু করা;

৬) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের সরকারি শিক্ষকদের সমান বেতন স্কেল প্রদান;

৭) শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব দফতরে বেসরকারি শিক্ষকদের ৩৫ শতাংশ প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া;

৮) সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের চাকরি বিধিমালা বাস্তবায়ন;

৯) অনুপাত প্রথা বিলুপ্ত করে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি;

১০) কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি কারিগরি ও ভোকেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং

১১) জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন তরান্বিত করতে হবে।

এসব দাবি আদায়ে আগামী ১০ সকল জেলায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি, ২৬ জুন দেশের সকল জেলায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হক ছাড়াও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দীক, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি ফকরুদ্দীন জিগার, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহসীন রেজা, মহাসচিব ইয়াদ আলী খান, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ এম এ আওয়াল সিদ্দিকী, বিলকিস জামান, সৈয়দ জুলফিকার আলম, মো. আজিুল ইসলাম, মো. আবুল কাশেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: