সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ন্যায় বিচার পাওয়া মানুষের একটি জন্মগত মৌলিক অধিকার’

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ:: সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শহীদুল আলম ঝিনুক বলেছেন,ন্যায় বিচার পাওয়া মানুষের একটি জন্মগত মৌলিক অধিকার। ন্যায় বিচার লাভের জন্য মজলুম মানুষকে এখন আর লক্ষ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হয়না। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে সরকার দেশে শত শত মজলুম মানুষকে ন্যায় বিচার লাভের ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়েছে। এখন বিরোধ হলে শুধু মামলা নয়,লিগ্যাল এইড অফিসে আপোষও হয়।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০১৮ইং উপলক্ষ্যে র‌্যালী পরবর্তী জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় এক বিশাল বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়।

জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শহীদুল আলম ঝিনুক এর সভাপতিত্বে ও সদর সহকারী জজ মোঃ ইকবাল হোসেন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ বরকতুল্লাহ খান,অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট মোঃ সফিউল আলম,অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন,চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান মজুমদার,পিপি ড. খায়রুল কবির রোমেন,জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন আহমদ সোহেল,সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ জিয়াউল হক,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম,ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান চৌধুরী বকুল,জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সহকারী জজ মোঃ হাবিবুল্লাহ মাহমুদ,সিনিয়র আইনজীবি জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া,এডভোকেট হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী,লিগ্যাল এইডের বিচারপ্রার্থী মোছা: জেসমিন বেগম ও ক্বারী মোঃ মকবুল হোসেন প্রমুখ। র‌্যালিতে জেলা জজ আদালত,জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,জেলা প্রশাসন,জেলা পুলিশ প্রশাসন এর কর্মকর্তা কর্মচারী,বীর মুক্তিযোদ্ধা, এনজিও সংগঠনের প্রতিনিধি,বিজ্ঞ আইনজীবি,মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী,বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচিত জেলার শ্রেষ্ঠ প্যানেল আইনজীবী জয়শ্রী দে ও আবু মোঃ জালাল উদ্দিনকে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়েছে। সভায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ আমিরুল ইসলাম,যুগ্ম জেলা জজ কুদরত-ই এলাহী, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম,জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আশুতোষ দাস,সুনামগঞ্জ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র নাদের বখত,জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন,জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র বর্মণ,জেলা তথ্য অফিসার আনোয়ার হোসেন, সরকারী কৌশলী (জেপি) গোলাম মতুর্জা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সৈয়দ শায়েখ আহমদ,সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল হক,এডভোকেট নজরুল ইসলাম শেফু,জজকোর্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) মোঃ খোরশেদ আলম,জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারন সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান পীর,এডিশনাল পিপি এডভোকেট নান্টু রায়,মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা ইউনিট কমান্ডার হাজী নুরুল মোমেন,সাবেক সদর উপজেলা কমান্ডার আব্দুল মজিদ,আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক আল-হেলাল,একাধারে ৩ বারের নির্বাচিত জেলার সাবেক শ্রেষ্ঠ প্যানেল আইনজীবী নাজনিন বেগম, এডভোকেট বিপ্লব ভট্টাচার্য,লিগ্যাল এইডের বিচারপ্রার্থী মোছা: তানজিনা বেগম ও আবুল কালাম সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি পালন ও বহুল প্রচারের লক্ষ্যে আদালত প্রাঙ্গনে বসানো হয় লিগ্যাল এইড মেলা। সাজানো হয় কয়েকটি স্টল। এতে আইনগত সেবা নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রকাশনা ও আইনের বই এবং পোস্টার লিফলেট,হ্যান্ডবিল,ফোল্ডার,ব্রশিউর,ক্যাটালগসহ প্রচারনা পুস্তিকা প্রদর্শনসহ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

সভায় অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে “উন্নয়ন আর আইনের শাসনে এগিয়ে চলছে দেশ লিগ্যাল এইড এর সুফল পাচ্ছে সারা বাংলাদেশ,গরীব দুঃখীর মামলার ব্যয় বাংলাদেশ সরকার দেয়,সমঝোতায় শান্তি মিলে মামলায় বাড়ে হিংসা সমঝোতার জন্য চলো করি মিমাংসা” ইত্যাদি শ্লোগান সংবলিত ব্রুশিউরসহ বিভিন্ন প্রচারপত্র বিলি করা হয়। সভায় জেলা ও দায়রা জজ বলেন,আমরা দিবসটি পালনে সংশ্লিষ্ট জেলা আইনজীবি সমিতি,জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগীতা পেয়েছি। প্রত্যাশা করছি ভবিষ্যতে এ সহযোগীতার পরিমাণ যেন আরো বাড়ে। তিনি বলেন,এ জেলায় এসে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমার মনে হয়েছে জেলার ৯০ ভাগ মানুষই গরীব। একমাত্র বোর ফসলের উপর তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। বিগত ২টি বছরে লাগাতার ফসলহানী বলতে গেলে তাদেরকে নি:স্ব করে দিয়েছিল। অনেক সময় দেখা গেছে এসব অসহায় মানুষ আদালতে এসে নি:স্ব হয়ে যায়। এই অমানবিক অবস্থা দেখলে বিচারক হিসেবে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরন হয়। আমি আসা করবো ভবিষ্যতে এমন যেন আর নাহয়। অর্পিত দায়িত্ব ছাড়াও বিবেক ও মানবতাবোধ থেকে আমরা সকল শ্রেণিপেশার মানুষ যেন সরকারের এ সেবা তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারি। তাহলেই আমাদের নিরলস শ্রম ও সাধনা সার্থক হবে। বিচারপ্রার্থী জনগনকে দ্রুত বিচার ও দ্রুত সিদ্বান্ত নিশ্চিত করার পক্ষেও তিনি তার মতামত ব্যক্ত করেন। আইনজীবিদের প্রশংসা করে তিনি বলেন এডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়ার আইন পেশার বয়স ৫২। এই বয়সেও বিকাল ৫টা পর্যন্ত তাকে আমরা আদালতে পাই।

এরকম অনেক আইনজীবি আছেন যারা বিচারপ্রার্থী মানুষকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে নিরলস শ্রম অব্যাহত রেখেছেন। তাদেরকে সকলের প্রতিই আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সভায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তার বক্তৃতায় অকাল প্রয়াত আইনজীবি এডভোকেট মরহুম মোহাম্মদ আবুল আশরাফকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন,জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে সেবা পৌছে দিতে প্যানেল আইনজীবিরাও মারাত্মক পরিশ্রম করেছেন।


এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: