সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নজরখালী ক্লোজার বাঁধে ফাটল,৫হাজার একর জমির ধান নিয়ে দুষচিন্তায় কৃষক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়া হাওরের নজরখালী ক্লোজার বাঁধটি দেবে গিয়ে একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে বৈলী আবহাওয়ায় বৃষ্টিপাতের কারনে যে কোন সময় বাঁধটি ভেঙ্গে হাওরের ৫হাজার একর জমির পাকা ধান পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় আশংকায় উৎবেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে কৃষক। কারন বৈরী আবহাওয়া কারনে প্রতিদিনেরই বৃষ্টি হচ্ছে আর বাড়ছে নদীর পানি। দায়সারা ভাবে কাজ করেছে সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ধান কাটার পুরো মৌসুম এ অবস্থায় হাওরপারের লোকজন তার নিজের ধান কাটবে না বাঁধের দিকে খেয়াল দিবে। এই চিন্তায় দিশেহারা কৃষকগন।

জানাযায়,গত বছরের শোক ভুলে এবারও এহাওরের কৃষকগন বোরো ধানের চাষাবাদ করে। এবার বোরো ধানের ফলন ভাল হওয়ায় মলিন মুখে দেখা দিয়েছে আনন্দের হাসি। প্রতি বছর এ বাঁধটি টাঙ্গুয়া হাওর সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সহযোগীতায় বাঁধটি নির্মান করা হয় দায়সারা ভাবে। এবারও নজরখালি বাঁধের কাজটির গুনগতমান ভাল না হওয়ার কারণে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। সঠিক ভাবে দুর্মূজ করে বাঁধে মাটি ফেলাসহ অন্যান্য কাজ করার শুরুতেই স্থানীয়রা বলেছি। প্রকল্প কমিটির লোকজন কারোর কোন কথাই শুনেনি। বৈশাখ মাসের শুরুতেই হাওরের বোরো ধানের গোছায় সোনালী রং ধরায় ও ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকের বুকের ভিতরে জেগেছে সুখের প্রান। এখন কষ্টের ফলানো পাকা বোরো ধান কাটা,মাড়াইয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্থ নিজে ও পরিবারের লোকজন। বাঁেধ ফাটল দেখা দিয়েছে এই খবর শুনে কৃষকরা রয়েছে এখন আতœংকের মাঝে। এবিষয়ে টাঙ্গুয়া হাওর সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধক্ষ খসরুল আলম বলেন,টাঙ্গুয়া হাওরের যে সমস্ত জলমহাল পারমিটে ইজারা দেয়া হয় ঐ সকল পারমিটের টাকা থেকে বাঁধে ব্যয় করা হয়। গত বছর হাওরের সকল ফসল ডুবির কারণে এ বছর এই বাঁধটি নির্মানের জন্য প্রাক্ষলন ব্যয় ধরা হয় ১০লক্ষ টাকা। টাঙ্গুয়া হাওর সহ ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে এই ১০লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। বাঁধটি নির্মানের জন্য টাঙ্গুয়া হাওরপারের উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের বাদল মিয়াকে প্রকল্প চেয়ারম্যান উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ওয়াহিদ মিয়াকে সেক্রেটারী করে ৫সদস্য বিশিষ্ট কমিটিকে এ বাঁেধর কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়।

নজরখালী বাঁধ এলাকার গোলাবাড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৫৫),আবুল ইসলাম (৫০) সহ অনেকেই বলেন,হাওরের এই বাঁধ নির্মানের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষ কোন কথা শুনেন নি। বাঁধ নির্মানের নিয়ম অনুযায়ী কোন কাজেই করেন নি দায়িত্ব প্রাপ্ত্যরা। গত বছর এই বাঁধটিতে ব্যাপক অনিয়ম আর দূর্নীতি করার কারনে বাধঁ ভেঙ্গে ৫হাজার একর জমি পাহাড়ী ঢলের পানিতে সম্পূর্ন তলিয়ে যায়। এবারও সেই আশংকা করছি আমরা।

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খসরুল আলম বলেন,টাঙ্গুয়া হাওর সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন এ বাঁধটি বিলের পারমিটের টাকা দিয়ে প্রতি বছরই নির্মান করে থাকে। কাজটি ভাল ভাবে না করার কারলেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,নজরখালী বাঁেধ সঠিক ভাবে কাজ না করার কারনেই এই খারাপ অবস্থা হয়েছে। এখন সবাই পাকা ধান কাটায় ব্যস্থ সময় পার করছে। এদিকে পানি নদীতে বাড়ছে এখন বাঁেধ এই অবস্থা খুবেই খারাপ। সবাই ধান কাটবে না বাঁধ রক্ষায় কাজ করবে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব জানান,নজরখালী বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে খবর শুনেছি। টাঙ্গুয়া হাওর সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সহযোগীতায় বাঁধটি নির্মান করা হয়। আমি ঐ কমিটির লোকজনের সাথে কথা বলেছি তারা বাঁেধ লোকজন দিয়ে মেরামতের কাজ করছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: