সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মার্কিন সাংবাদিক লিজার প্রেমে হাবুডুবু ফিদেল কাস্ত্রো!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ফেব্রুয়ারির এক রাত। কিউবার রাজধানী হাভানার হোটেল রিভিয়েরার এক সুইটে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন লিজা হাওয়ার্ড। তরুণী মার্কিন সাংবাদিক। রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ মেকআপ মুছে পোশাক পাল্টে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই রুমের দরজায় টোকা।

লিজা দেখলেন, যার সাক্ষাৎকার নিতে সুদূর আমেরিকা থেকে তিনি হাভানা এসেছেন, সেই ভদ্রলোক তার সামনে। ৩৭ বছরের ফিদেল কাস্ত্রো। কয়েক বছর আগেই বিপ্লব এনে ফিদেল তখন কিউবার শীর্ষ পদে। লিজা বলে বসেছিলেন, ‘আপনি দেশের শাসক হতে পারেন, আমিও গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক। আপনার সাহস হয় কী করে আমায় এতক্ষণ অপেক্ষা করানোর?’

দু’জনের আলাপ পর্বের শুরুটা এমনই ছিল। সে রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে কথা হয়েছিল ফিদেল আর লিজার। মার্ক্সবাদ থেকে শুরু করে কিউবায় রাজনৈতিক বন্দিদের অবস্থা, সব নিয়েই। আমেরিকা যতই শত্রু হোক, সুন্দরী ছিপছিপে মার্কিন সাংবাদিকের প্রেমে পড়তে কিন্তু বেশি সময় লাগেনি ফিদেলের। আরও কয়েক বার কিউবা গিয়েছিলেন লিজা। স্বীকার করেছিলেন, তিনিও বিপ্লবী নেতার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন। এক বিছানায় কাটিয়েছেন অনেক রাতও।

fidel-castro

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংগ্রহশালা থেকে সম্প্রতি লিজার হাতে লেখা কিছু ডায়েরি ও নোট প্রকাশিত হয়েছে। সেখান থেকেই সামনে এসেছে ফিদেলের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা। তবে এই দু’জনের রসায়ন নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আগেও কম কথা-বার্তা হয়নি।

কেরিয়ারের শুরুতে টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন লিজা। পরে সংবাদ জগতে আসেন। কেনেডি ও জনসন সরকারের বার্তা ফিদেলের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব ছিল লিজার উপর। আবার ফিদেলের বার্তাও হোয়াইট হাউসের কান পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন তিনি। পুরোটাই গোপনে।

লিজা লিখেছেন, ‘শরীরী খেলায় উনি খুবই পটু ছিলেন। সেগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মূহূর্ত।’ কখনও লিখেছেন, ‘ফিদেল আমাকে গভীরভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন একদিন। কিন্তু একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা আমায় প্রায়ই গ্রাস করত। নেতা কাস্ত্রো আর মানুষ কাস্ত্রো সম্পূর্ণ আলাদা বলে মনে হতো আমার।’

fidel-castro.jpg

লিজার কথায়, ‘আমার কাছে উনিই ছিলেন জর্জ বার্নার্ড শ-এর ‘স্পার্ক অব ডিভাইন ফায়ার’। গোটা দুনিয়া যে একনায়কের রূপ তাকে দিয়েছিল, মোটেও তেমন ছিলেন না ফিদেল।’

হাভানার হোটেলেই লিজার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন ফিদেল। একবার লিজাকে নিজের কোলে বসিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি আমার জন্য খুব বিপজ্জনক। তোমার মতো একটা মেয়েকে আমি খুব গভীরভাবে ভালবাসতে পারি।’

শেষ পর্যন্ত কিউবা সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন লেখার অভিযোগে চাকরি যায় লিজার। বেশি দিন বাঁচেননি মার্কিন এই সাংবাদিক। ১৯৬৫ সালে অতিরিক্ত মাদক সেবনে মৃত্যু হয় তার। আনন্দবাজার।


নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: