সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জীবন-সংগ্রাম: কমলগঞ্জের প্রমোদের দু’ পা নেই, তবুও নেই থেমে !

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ:: কোন রকম কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন নিয়ে বেঁচে আছেন। যেন দেখার কেউ নেই। কতই না প্রতিশ্রুতি পেয়ে থাকেন। আশ্বাসে নি:শ্বাস নিয়ে আছেন। কিন্তু বাস্তবটা বড়ই ভিন্ন! দু; পা নেই তবুও যেন মনের জোর ও বিশ্বাস নিয়ে জীবন সংগ্রাম করে চলাফেরা করছেন। কুটির শিল্প এখন তাঁর নিত্য সঙ্গী। কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বললেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সোনারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মৃত প্রহল্লাদ দেবনাথ এর ছেলে প্রমোদ দেবনাথ।

বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) বিকালে সরজমিন সোনারগাঁও গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, দু’পা নেই তবুও যেন থেমে নেই। কুটির শিল্পের কাজ করছেন। বাঁশের তৈরি টুকরী বুনন করতে দেখা যায়। নানা বিষয়ে নিয়ে কথা হয়। আজ থেকে প্রায় বিশ বছর পূর্বে একটি জটিল রোগে তিনি আক্রান্ত হলে অনেক চিকিৎসার ফলেও তিনি সুস্থ হতে পারেননি। একটি পা কর্তন করা হয়। একটি পা কর্তনের পর দুর্বিস যন্ত্রণা নিয়ে বগলি নিয়ে জীবন চলাফেরা করতে থাকেন। অনেক যন্ত্রণা নিয়ে ১০ বছর কেটে গেল। কিন্তু পুনরায় আবার সেই জটিল রোগ দেখা দিল। সেই রোগে অন্য পা টিও কর্তন করতে হল। এমন যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থেকেও তিনি মরে আছেন। পুঙ্গত্ব জীবন নিয়ে জীবন-সংগ্রামে নেমে পড়েন। কুটির শিল্প বুনন করে প্রতিদিন ৭৫/৮০ টাকা রোজগার করছেন। কুটির শিল্পের মধ্যে গ্রামের ভাষায় টুকরী বা উড়ি, ঝাকা, ধুছইন বানিয়ে বিক্রি করছেন।

তিনি জানান, একটি বড় বাঁশে ৪ থেকে ৬টি টুকরী হয়। তার মধ্যে তিনি অর্ধেক নেন, বাকিগুলো যে বাঁশ দেবে তিনি নেন। প্রতিদিন ১টি টুকরীর বেশি তৈরী করা সম্ভব হয় না। একটি টুকরী ৭৫/৮০ টাকা বিক্রি করা যায়। জীবন যুদ্ধে কষ্ট করে দিনাপাত করছেন তিনি। সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা পান কি না এমন উত্তরে জানান, অনেকেই আসেন, অনেকেই আশ^াস দিয়ে যান সেই আশ^াসের মধ্যে নি:শ^াস নিয়ে আছি। তবে কয়েকবছর পূর্বে সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ এর মাধ্যমে পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান হাজী এখলাছুর রহমান থাকাকালীন সময়ে একটি ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছিল। সেই ভাতা পাচ্ছেন। গত দুই বছর পূর্বে শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে সাংবাদিক পিন্টু দেবনাথ এর মাধ্যমে জুবেদা খাতুন ফাউন্ডেশন ট্রাষ্ট কর্তৃক ২ হাজার টাকা পান। এছাড়া সেলিম আহমদ চৌধুরী চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করেন। হুইল চেয়ারটি ভেঙ্গে গেছে। তিনি আরেকটি হুইল চেয়ার ক্রয় করেছেন সেই চেয়ার দিয়ে চলাফেলা করছেন। সেটা পুরানো হয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম।
বসে বসে কাজ করতে আপনার কোন কষ্ট হয় না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বসা ছাড়াতো আমার আর কোন উপায় নেই, সব কাজ কর্ম বসেই করতে হয়।
দু’পা নেই তবুও থেমে নেই। জীবন-সংগ্রামে এই ব্যক্তিটি অতি যন্ত্রণা নিয়ে কোনভাবে বেঁচে আছেন। একুট সহযোগিতা পেলে হয়তো শেষ বয়সে সুখে শান্তিতে থেকে শেষ নি:শ্বাস নিতে পারবেন।







নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: