সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছয় কারণে বিশ্বকাপে ভুগতে পারে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক:: ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে পরাজিত হওয়ার পর পুরো ব্রাজিল ফুটবলেরই যেন ভিত নড়ে গিয়েছিল। ৫ বারের বিশ্বজয়ীদের ফুটবল কাঠামো নিয়ে ভাবতে শুরু করতে হয়েছিল দেশটির কর্তাব্যাক্তিদের। যে ফুটবলই তাদের জীবন ধারনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম, তাদের এতটা ভারডুবি- কোনভাবেই মানতে পারেনি ব্রাজিল জনগণ।

ঠিক একই অবস্থা না হলেও, আর্জেন্টিনা ফুটবলেও বেজে উঠেছে সতর্ক সঙ্কেত। রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক তিন মাস আগে প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচে স্পেনের কাছে ৬-১ গোলে পরাজিত হওয়ার কারণে টনক নড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল সম্পর্কিত কর্তাব্যাক্তিদের। যদিও, কোনো সমস্যা থাকলে কিংবা কোনো ঘাটতি ধরা পড়লেও বিশ্বকাপের আগে যে সময় হাতে বাকি আছে, সে সময়ের মধ্যে তা পূরণ করা সম্ভব নয়।

তবুও, চুনকাম খসে গেলে সেখানে দ্রুত রঙ লাগিয়ে নতুন করে তোলা সম্ভব। আর্জেন্টিনা ফুটবলে সেই রঙটা পাকাপোক্ত করে নেয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ কোচ হোর্হে সাম্পাওলির সামনে। তবুও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আর্জেন্টিনার এমন ৬টি বিষয় উঠে এসেছে, যেগুলো বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিদের বেশ সমস্যায় ফেলতে পারে। মেসিদের বিশ্বকাপ জয়ের পথে এই ৬টি বিষয় বড় বাধা হতে পারে বলে বিশ্বাস ইউরেপিয়ান ফুটবল বিশেষজ্ঞদের।

মাদ্রিদ ভিত্তিক জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কায় স্পেনের সঙ্গে তুলনা করে তুলে ধরা হয়েছে এই ৬টি বিষয়। সেগুলোই তুলে ধরা হয়েছে জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য।

খেলার সংস্কৃতি
মাদ্রিদের ম্যাচটিই স্পেন এবং তাদের লাতিন আমেরিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট করে তুলেছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আইবেরিয়ান অঞ্চলের (স্পেন, পর্তুগাল প্রভৃতি দেশ) ফুটবল সংস্কৃতি গত ১০ বছর ধরে গড়ে উঠছে কঠোর পরিশ্রম এবং বিশাল বিশাল বিনিয়োগের ওপর। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দেখছে তাদের সেরা সেরা ফুটবলাররা তরুণ বয়সেই নিজের দেশ ছেড়ে যাচ্ছে। আবার মাত্র আট বছরের মধ্যে ৬ জন কোচের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট লাইনআপ গড়ে ওঠাও বেশ কঠিন।

সিনিয়রদের ব্যর্থতা
বিশেষ করে গঞ্জালো হিগুয়াইন, হ্যাভিয়ের মাচেরানো এবং এভার বানেগা- এই তিন খেলোয়াড় ছিল একেবারে গড় পড়তার চেয়ে খুবই নিচু মানের। আর্জেন্টিনা জার্সি গায়ে উঠলেই কেন যেন ফুটবল খেলাটাই ভুলে যান তারা। তিনজনই তারা খেলেন গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে। সেখানে যদি নিষ্প্রভ হয়ে পড়েন তারা তিনজন, তাহলে পুরো দলটির কী অবস্থা দাঁড়ায় একবার ভেবে দেখুন! তারা তিনজনই বিশ্বকাপে খেলতে যাবেন। তবে কোচ হোর্হে সাম্পাওলির অবশ্যই স্টার্টিং একাদশে এই তিনজনের বিকল্প তৈরি করে রাখা উচিৎ। সঙ্গে রাখতে পারেন জিওভানি লো সেলসোকে।

কোচ
হোর্হে সাম্পাওলি সম্পর্কে বলতে গেলে খুব সংক্ষিপ্ত একটি কথাই উঠে আসবে, ‘তার চিন্তা এবং কর্মে রয়েছে নানা মিশ্রণ।’ বিশ্বকাপে খেলাটা যে দলের কাছে অনেক দুরের পথ মনে হচ্ছিল, এমন একটি সংগ্রামরত দলের দায়িত্ব নেয়ার পর তাদেরকে বিশ্বকাপে খেলার টিকিট এনে দেয়া কম কথা নয়। এর অর্থ, তার চাহিদা অনুযায়ী হাই-প্রেসিং এবং অ্যাটাকিং ফুটবলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না মার্কোস রোহো এবং নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর মত ফুটবলাররা। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আর্জেন্টিনা কোচই চায়নি বিশ্বকাপের আগে স্পেনের মুখোমুখি হতে। তাহলে তাদের সব দুর্বলতা ফাঁস হয়ে যাবে সবার সামনে। শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো।

ইনজুরি
পাওলো দিবালার নাম সবার ঠোকেই উচ্চারণ হচ্ছে। বিশেষ করে স্পেনের কাছে বড় পরাজয়ের পর দিবালাকে দলে নেয়ার জোরালো দাবি উঠছে। এবং শেষ পর্যন্ত সাম্পাওলির ম্যান অব রাশিয়ার তালিকায় উঠেও যেতে পারে জুভেন্টাস তারকার নাম। একআ কথা প্রজোয্য হতে পারে মাউরো ইকার্দির ক্ষেত্রেও। আর্জেন্টাইন স্থানীয় চাপের কারণে মাদ্রিদে সাম্পাওলি অভিষেক ঘটিয়েছেন লোতারো মার্টিনেজকে। হয়তো বা তিনি হতে পারেন পরবর্তী সার্জিও আগুয়েরো। অথচ, সামনে এগুনোর জন্য তিনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুতই নন। এছাড়া এডওয়ার্ডো সিলভিও কিংবা এনজো পেরেজও হয়তো বা সাম্পাওলির দলে শক্তির সঞ্চার করবেন, যদি তারা ইজুরি থেকে সেরে উঠে পুরোপুরি ফিট হতে পারেন। ছোটখাট ইনজুরিতে পড়ছেন লিওনেল মেসিও। এ কারণে তার ওপরও সতর্ক দৃষ্টি আর্জেন্টাইনদের।

‘মেজা’র উত্থান
২৬ বছর বয়সী ম্যাক্সিমিলিয়ানো মেজা হতে পারে আর্জেন্টিনা দলের জন্য সর্বশেষ ভুল। এখনও তিনি ফুটবল খেলছেন নিজের জন্মস্থান ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের হয়ে। যদিও, বেশ কয়েকটি বিষয়ের কারণে, শেষ পর্যন্ত মেজার বিশ্বকাপের জন্য ওয়াইল্ডকার্ডে পরিণত করতে পারে। বিশেষ করে করে, স্পেনের বিপক্ষে অবিচল অভিষেক তাকে রাশিয়াগামী দলে জায়গাও করে দিতে পারে।

কী করতে পারেন মেসি?
আর্জেন্টিনার প্রয়োজন একজন মেসি। যিনি অলৌকিক ঘটনার জন্ম দিয়ে আবারও নিজ দেশের জন্য বিশ্বকাপের শিরোপা তুলে ধরতে পারবেন। কেবল লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেই সম্ভব এমন কিছু করতে পারা। কিন্তু জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স কিংবা ব্রাজিল কী তাকে তা করতে দেবে? এটা কখনোই সম্ভব নয়। যদি হয়েই যায়, তাহলে সেটা হবে আরেটা ১৯৮৬।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: