সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঢাবির নতুন উদ্ভাবন ‘সোলার ইলেকট্রিক ইন্ডাকশান কুকার’

ঢাকা শহরের অনেক নতুন বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নেই। রান্নার জন্য প্রতি মাসে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে তাদের বাড়তি টাকা গুনতে হয়। এছাড়া সংযোগ থাকলেও অনেক সময় গ্যাস থাকেনা। অন্যদিকে গ্রামে চলে লাকড়ির চুলা। সেখানে জ্বালানি বেশি খরচ হয়। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল গবেষক রান্নাকে সহজ, নিরাপদ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য প্রযুক্তির সংমিশ্রণে সম্পূর্ণ নতুন এক চুলার আবিষ্কার করেছেন। এটাকে তারা নাম দিয়েছেন ‘সোলার ইলেকট্রিক ইন্ডাকশান কুকার’।

ঢাবি শক্তি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুল হক ও চার সদস্যের একটি চৌকষ দল এ চুলার উদ্ভাবন করেন। এর আগেও দেশে ইন্ডাকশান কুকার ছিলো। তবে আগে বিদ্যুতের মাধ্যমে এ চুলা ব্যবহার করা যেতো। আর নতুন প্রযুক্তির এ চুলা সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে।

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক এ গবেষণা দলের প্রধান। তার সঙ্গে কাজ করেছেন ঢাবির ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, শক্তি ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম নাসিফ শামস, প্রভাষক আবু শাহাদৎ মো. ইব্রাহিম এবং ইন্সটিটিউটের কারিগরি কর্মচারী মাসুদ রানা।

উদ্ভাবিত এ চুলা এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শক্তি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুল হকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ জার্নালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জোবায়ের আবদুল্লাহ।

আপনাদের সম্পূর্ণ নতুন উদ্ভাবিত এ চুলা সম্পর্কে কিছু বলুন…

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: আমাদের এই উদ্ভাবনের নাম ‘সোলার ইলেকট্রিক ইন্ডাকশান কুকার’। এটা এতদিন ডাইরেক্ট এসিতে চলতো। এখন থেকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ডিসিতে চলবে। ইন্ডাকশান কুকারের সার্কিটটাকে মোডিফাই করা হয়েছে এবং এর ভেতরের মাইক্রো কন্ট্রোলার প্রোগ্রামকে পরিবর্তন করা হয়েছে।

বর্তমান বাজারে এর অবস্থান কি?

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: বর্তমানে ইলেকট্রিক ইন্ডাকশান কুকার দেশের সব জায়গায় পাওয়া যায়, যা ২২০ ভোল্ট এসিতে চলে। ডিসিতে চলার মতো কোথাও পাওয়া যায় না।

গ্রাম এবং শহরে এর ব্যবহারে কোনো পার্থক্য আছে কিনা?

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: গ্রাম এবং শহরে এ চুলা ব্যবহারে কোনো পার্থক্য নেই। এ চুলা ব্যবহারের জন্য বাড়িতে ২০০-২৫০ ওয়াটের একটি বাড়তি সোলার প্যানেল লাগিয়ে নিলেই হবে। সূর্যের আলো থাকা অবস্থায় এটা যেমন ব্যবহার করা যাবে তেমনি সূর্যের আলো না থাকলেও ব্যবহার করা যাবে। তবে রাতের বেলায় ব্যবহারের জন্য চুলার সাথে একটা ব্যাটারি যোগ করতে হবে। ২০০-২৫০ ওয়াটের একটা সোলার প্যানেল ২০ বছর সার্ভিস দেয়। তাই এ চুলা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে।

পাত্র তুলে ফেললে কি এটি আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাবে?

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: এ চুলা প্লেটের সঙ্গে লাগানো থাকে, তাই পাত্রের তলা ছাড়া এর আশেপাশে গরম হয় না। ফলে এটা জ্বালানি সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। পাত্র তুলে ফেললে চুলা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাবে। এটা অনেক আধুনিক প্রযুক্তি।

পাত্রটা কী ধরনের হবে?

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: এসব পাত্র আমাদের দেশে ৩০০-৫০০ টাকার মধ্যে সর্বত্রই পাওয়া যায়। পাত্র অবশ্যই লোহার হতে হবে, যাতে ম্যাগনেট (চুম্বক) আকর্ষণ হবে। কারণ অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে চুম্বক আকর্ষণ করে না।

স্বাভাবিক চুলার রান্না আর এ চুলার রান্নায় সময়ের কোনো পার্থক্য আছে কি?

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: একদমই না। স্বাভাবিক চুলার রান্নায় যে সময় লাগে এ চুলায়ও একই সময়ে রান্না করা যাবে।

আপনি কেন মনে করছেন এটি মানুষ কিনবে?

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: এ চুলা অত্যন্ত নিরাপদ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী। এ চুলা ব্যবহার করলে প্রায় ৯০% জ্বালানি সাশ্রয় হবে। তাছাড়া গ্রাম বা শহরের মানুষকে প্রতিদিনই রান্না করতে হয়। রান্না করার জন্য যদি তাদেরকে এমন সহজ একটা পদ্ধতি সম্পর্কে পরিচয় করে দেয়া যায়, তবেই মানুষ এ চুলা কিনবে। একটা ফ্রিজের দামই যেখানে ৫০-৬০ হাজার টাকা সেখানে আমাদের উদ্ভাবনকৃত চুলা, ব্যাটারি এবং সোলার প্যানেলসহ দাম পড়বে সর্বসাকুল্যে ২৫-৩০ হাজার টাকার মতো। একটা পরিবারের জ্বালানির পেছনে মাসিক যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় তা হিসেব করলে এ চুলার পিছনে ব্যয়কৃত টাকা ৩-৪ বছরে পে-ব্যাক হয়ে যায়। দিনে ৩-৪ বার আমাদের চুলা ব্যবহার করতে হয়, সেজন্যই মানুষ এটা কিনবে।

 এই উদ্ভাবনের বাজারজাতকরণে আপনাদের কোনো চিন্তা আছে কিনা?

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: আমরা গবেষক। আমরা দেশের সোলার কোস্পানিগুলোকে এ প্রযুক্তিটা দিবো। তারা এটাকে বাজারজাত করবে। যদি কোনো সমস্যা ধরা পড়ে তবে আমরা সেটির সমাধান করে দিবো। আমরা পরীক্ষামূলকভাবে অল্প কয়েকটা সোলার ইলেকট্রিক ইন্ডাকশান কুকার তৈরী করেছি। যদি বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি কিনে এনে হাজার হাজার চুলা তৈরি করা হয় তবে অবশ্যই এ চুলার দাম কমবে এবং আরো সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যাবে।

 আপনারা এ চুলা বানানোর আইডিয়াটা কিভাবে পেলেন?

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: প্রধানমন্ত্রীর ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখলাম, সেখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রান্নার ব্যবস্থা নাই। লাকড়ির চুলায় মানুষদের রান্না করতে হয়, এটা অনেক ব্যয়সাধ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া বায়োগ্যাসও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। সোলার প্যানেলে ব্যবহার করে খুব সহজে এ চুলা সেখানে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টার উৎসাহেও আমরা এ আবিষ্কারের আইডিয়াটা পাই।

 রোহিঙ্গাদের বন উজাড় করে রান্না বন্ধে আপনাদের উদ্ভাবিত চুলা কিভাবে কাজে লাগবে?

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: আমরা যদি সোলার প্যানেল দিয়ে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে তাদের জন্য আলাদা কয়েকটা রান্নার ঘর করে দেই, তাহলে তারা আর বন উজাড় করবে না। ঘরের মধ্যে থেকেই তারা রান্না করতে পারবে। এর মাধ্যমে আমরা বন উজাড় বন্ধ করতে পারবো এবং একটা দীর্ঘময়াদী সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারবো।

 একটানা কত বছর পর্যন্ত এটা কাজ করবে?

অধ্যাপক ড. সাইফুল হক: এ ধরনের চুলা সর্বত্রই পাওয়া যায়। আমরা নতুন করে শুধু এর সার্কিটটাকে মোডিফাই করেছি। এটা দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই হবে।

ঢাবি শক্তি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুল হক




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: