সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মহাজোটে জাতীয় পার্টি পাচ্ছে ৪০ আসন!

নিউজ ডেস্ক::
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এককভাবে নির্বাচন করার ঢাকঢোল পেটালেও শেষমেশ দলটি মহাজোটের হয়েই নির্বাচন করছে বলে জানা গেছে। আগামী একাদশ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে—এমন হিসাব থেকেই মহাজোটের সঙ্গে দেনদরবার বাড়িয়েছেন এরশাদ। ৩০০ আসনে দলের একক প্রার্থী দেবেন এমন কথা বলে এলেও কার্যত এরশাদের নজর এখন মহাজোট থেকে দলের জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এরশাদ মুখে যাই বলুক, আসলে জাতীয় পার্টির প্রভাব রংপুর বিভাগ ছাড়া আর কোথাও তেমন নেই। তাই দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা ছাড়া অন্য জেলায় দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন বাগানো এরশাদের পক্ষে কঠিনই হবে। দলের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে এসব কথা জানা গেছে।

ওই সূত্র জানায়, এরশাদের পক্ষে মহাজোটের কাছ থেকে দরকষাকষি করেও ৪০টির বেশি আসন বাগানো সম্ভব হবে না। আবার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘুরে গেলে ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়ার সমুদয় প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছেন তিনি। লক্ষ্য, যেকোনোভাবেই হোক ক্ষমতাসীনদের সঙ্গ। ২০১৪ সালে এরশাদের দল থেকে মোট ৩৪ এমপি নির্বাচিত হলেও আসনগুলোর অধিকাংশই ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দখলে। বাস্তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে একটিতেও এককভাবে জেতার সম্ভাবনা নেই জাতীয় পার্টির। যে ৩৪টি আসনে গতবার জয় পেয়েছে তারা, এবার তারমধ্যে ৪-৫টি আসনে সুবিধাজনক ভোট পেতে পারে, তবে জয়ের অবস্থানে থাকার সম্ভাবনা নেই। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে এমন তথ্যের সঙ্গে একমত নন জাপার বর্তমান এমপিরা। তবে দলটির একজন প্রেসিডিয়াম মেম্বার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মহাজোটকে শক্তিশালী করতে ও সরকারকে ফের ক্ষমতায় আনতে সর্বোচ্চ ৪০টি আসন আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে পারে। তাও ২০০৮ সালের নির্বাচনের জরিপের ভিত্তিতে দেওয়া হতে পারে।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি নির্বাচনে দলের প্রার্থীর জয়ের পর চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন রংপুর বিভাগের নেতারা। সে কারণে মহাজোটের সঙ্গে দরকষাকষিতে জাতীয় পার্টি সুবিধা নিতে চাইছে। কিন্তু রংপুর বিভাগ ছাড়া দেশের অন্য কোনো জেলায় জয় পাওয়ার সম্ভাবনা নেই দলটির। এমনটি মনে করছেন জাপার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সেজন্য অনেকে নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির তৎপরতা দেখালেও বাস্তবে টাকা-পয়সা খরচ করছেন না কোনো নেতাই। জাপার ৩৪ জন সিটিং এমপির মধ্যে ৭-৮ জন ছাড়া বাকিরা এলাকাবিমুখ। একইসঙ্গে সংরক্ষিত ৬টি নারী আসনেও জাপার অবস্থান একবারেই নেই।

দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, গেল নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচন সেভাবে হবে না। তাই অনেকে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নিজেদের পকেট ভারি করতে ব্যস্ত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ নেতা বলেন, ওপরে ওপরে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশা না ছাড়লেও ভেতরে ভেতরে তারা ঠিকই বুঝছেন আগামীতে তারা প্রার্থী হচ্ছেন না। এ আশঙ্কা থেকে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া ছেড়ে দিয়েছেন সব নেতাই।

অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ে যেসব নেতা নীতিনির্ধারণে জড়িত থাকবেন, তাদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় সংগঠনের কার্যক্রম-জনসমর্থন না থাকলেও মহাজোটের মনোনয়ন পেতে পারেন। এদের মধ্যে রয়েছেন জিএম কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মসিউর রহমান রাঙ্গা, ফখরুল ইমাম, তাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ বেশ কয়েক নেতা। বাকিদের দরকষাকষির মাধ্যমে জোটের মনোনয়ন নিয়ে দিতে পারেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যেসব জেলাতে জাতীয় পার্টির আধিপত্য ও সাংগঠনিক শক্তি বেশি এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট, সেই জেলাগুলো টার্গেট করে মহাজোটের কাছে প্রায় ৭০ আসনের দাবি জানাবেন জাপা চেয়ারম্যান।

দলটির একটি সূত্র জানায়, স্বাভাবিকভাবে মনোনয়ন পাবেন রংপুর-৩ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ময়মনসিংহ-৪ বেগম রওশন এরশাদ, লালমনিরহাট-৩ জিএম কাদের, পটুয়াখালী-১ এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, ঢাকা-৪ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-১ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, বরিশাল-৬ নাসরিন জাহান রত্না, নীলফামারী-৪ আসনে আলহাজ শওকত চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৩ মুজিবুল হক চুন্নু, কুড়িগ্রাম-১ মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ একেএম সেলিম ওসমান, চট্টগ্রাম-৫ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু প্রমুখ।

দলটির অপর একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, আগামীতে মহাজোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন না ঢাকা-৬ আসনের কাজী ফিরোজ রশীদ, বগুড়া-২ আসন থেকে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, বগুড়া-৩ আসন থেকে অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ওমর, বগুড়া-৭ আসন থেকে অ্যাডভোকেট আলতাফ আলী, জামালপুর-৪ থেকে মামুনুর রশীদ, ময়মনসিংহ-৫ থেকে সালাহউদ্দীন আহমেদ মুক্তি, ময়মনসিংহ-৭ থেকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাগারে আটক এমএ হান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৩ থেকে লিয়াকত হোসেন খোকা, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্, সিলেট-২ মো. ইয়াহিয়া চৌধুরী, সিলেট-৫ মো. সেলিম উদ্দিন, হবিগঞ্জ-১ মুনিম চৌধুরী বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, কুমিল্লা-২ মো. আমির হোসেন ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৮ মো. নুরুল ইসলাম মিলন, লক্ষ্মীপুর-২ মোহাম্মাদ নোমান ও কক্সবাজার-১ হাজী মো. ইলিয়াস। এদের কাউকে আগামী একাদশ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী করা হচ্ছে না। তবে বিশেষ বিবেচনায় জোটের একাধিক আসনে উন্মুক্ত ভোট করার সিদ্ধান্ত থাকলে অনেকের ভাগ্য খুলতে পারে। এ ছাড়া ৪০টি আসনের মধ্যে সিলেটে ১টি, ফেনীতে ১টি আসনে জাপাকে মনোনয়ন দিতে পারে মহাজোট। তবে নির্দিষ্ট করে এ দুটি আসনের কথা এখন পর্যন্ত বলা হয়নি।

দলটির আরেক সূত্র জানায়, বেশ কয়েকটি আসনে মহাজোটের প্রার্থীর জন্য পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ নতুনদের স্থান দিতে পারেন। সেসব আসন এখন পর্যন্ত চিহ্নিত হয়নি। একইভাবে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, মাহজাবীন মোরশেদ, মেরিনা রহমান, রওশন আরা মান্নান, শাহানারা খোরশেদ আরা হক সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হলেও আগামীতে তাদের স্থানে নতুনদের স্থান দিতে পারেন পার্টির চেয়ারম্যান। দলের নেতাদের মনোনয়ন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির বর্তমান নির্বাচনী অবস্থান হচ্ছে তিনশ আসনে নির্বাচন করার। কোন জোটে গিয়ে কত আসন চাইবে দল বলার বা হিসাব করার সময় এখনো আসেনি।

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক: লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: