সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলছে ষাটমাছড়ার পুন:খনন কাজ

আবদুর রব, বড়লেখা:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরশহরের কৃত্রিম জলাবদ্ধতার হাত থেকে পৌরবাসীকে রক্ষা করতে শহরের উত্তর সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত ষাটমাছড়ার পুন:খনন কাজ এগিয়ে চলছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ছড়াটি ভরাট হওয়ায় বর্ষায় ভারী বর্ষণ হলেই পৌর শহর তলিয়ে যায়। এদিকে ষাটমাছড়ার চার কিলোমিটার এলাকা খনন করার কথা থাকলেও বরাদ্দ না পাওয়ায় এখন দুই কলোমিটারের খনন কাজ চলছে। মঙ্গলবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম সরেজমিনে ছড়ার খনন কাজ পরিদর্শন করেন।

পৌর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হওয়ার কারণে ভারী বৃষ্টি হলেই ষাটমাছড়ার পানি পাড় উপচে বড়লেখা পৌর এলাকা প্লাবিত করে। কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে যায় শহরের বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা। জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে পৌরবাসীকে মুক্তি দিতে বিএডিসি ষাটমাছড়া পুন:খননের প্রকল্প গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে চার কিলোমিটার পুন:খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দ মিলে মাত্র দুই কিলোমিটারের। এতে ব্যয় হবে ৩০ লাখ টাকা। গত ২২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ছড়ার খনন কাজ শুরু হয়।

এদিকে ষাটমাছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধের আদিত্যের মহাল মন্দির কোণা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এই এলাকায় বাঁধে হাতি দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এই স্থানে প্রায় ১০০ ফুট জায়গার বাঁধ প্রতিবছর ভেঙে ব্যাপক ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়। ভাঙন স্থানের পাড় মজবুত করতে পোষা হাতি লাগানো হয়েছে। এসকাভেটর দিয়ে বাঁধের ভাঙন স্থানে মাটি ফেলা হচ্ছে। হাতি সেই স্থানটির মাটি পায়ের চাপে শক্ত করছে।
এ সময় পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, বড়লেখা বণিক সমিতির সভাপতি মো. আলাউদ্দিন, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল মালিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

হাতির মাহুত কাছিম আলী বলেন, ‘পাঁচ হাজার টাকা দিন চুক্তিতে হাতি দিয়ে বাঁধের মাটিগুলো বসিয়ে দিচ্ছি। মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করেছি। শেষ করতে আরও কয়েকদিন লাগবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম, গোবিন্দ দত্ত ও বাবুল রবি দাস জানান, ‘ছড়াটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিচের দিকে নামতে পারেনা। যার কারণে বাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হত। বর্ষায় বাঁধ ভেঙে আমাদের বাড়ি-ঘরে, রাস্তায় পানি উঠত। ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়। তখন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এখন ছড়া খনন হচ্ছে। বাঁধ শক্ত করা হচ্ছে। হাতি দিয়ে মাটি বসানোর কাজটা ভালো হচ্ছে। এতে বাঁধ ভাঙবে না। শক্ত হবে।’

এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ষাটমাছড়ার চার কিলোমিটার খনন করার কথা ছিল। কিন্তু এখন দুই কিলোমিটার খনন করা হচ্ছে। একসাথে ৪ কিলোমিটার খনন না করায় আগামী বর্ষায় ভারী বর্ষণে আবারও বন্যার সৃষ্টি হবে। ২ কিলোমিটার খনন করার সুফল পাওয়া যাবে না। ভরাট দুই কিলোমিটারের বাঁধ উপচে শহর প্লাবিত হবে।

পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী জানান, ‘ষাটমা ছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধে প্রতিবছর পৌরসভার পক্ষ থেকে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। কিন্তু বন্যায় ছড়াটির বিভিন্নস্থানে ভাঙন দেখা দেয়। যে কারণে শহরের আদিত্যের মহাল, আইলাপুর ও গাজীটেকা আংশিক বন্যায় ডুবে যায়। এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। জনদুর্ভোগ লাগবে এখানে যুতসই বাঁধ দেয়ার চিন্তা মাথায় আসে। এ জন্য এসকাভেটর দিয়ে ছড়া খনন কাজ করানোর পাশাপাশি বাঁধ শক্ত করতে পোষা হাতি লাগানো হয়েছে।’ তিনি আরো জানান, বড়লেখা পাহাড়ি অঞ্চল। আগে এ অঞ্চলের পাহাড়, বাঁশমহালে ও বিভিন্ন পর্যায়ে বাঁধ মজবুত করতে হাতি ব্যবহার করা হত। সে কথা চিন্তা করে এখানে বাঁধ মজুবত করতে হাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। যাতে বাঁধ টেকসই হয়। এখানে প্রায় ১’শ ফুট জায়গায় ভাঙন রয়েছে। বাঁধ মজবুত করার কাজটি পৌরসভার পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: