সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দোয়ারাবাজারে আবারো স্লুইচ গেটের বদলে পাউবোর দায়সারা বাধ নির্মাণ, কৃষকরা শঙ্কিত

তাজুল ইসলাম, দোয়ারাবাজার:: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুরে মুহিবুর রহমান মানিক সোনালি নূর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নূরপুরগামী জোড়খলা আবোড়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পেটফুলা ফসল রক্ষা বাধটি এবারও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক একতরফা দায়সারাভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। উপেক্ষিত হয়েছে কৃষক ও স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি। বছরের পর বছর পেটফুলা বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এই বাধটি কোনো কাজে আসছেনা। আগাম বন্যা থেকে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম, ধর্মীয় ও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা এবং ফসল রক্ষার জন্য এই বাধটি নিমির্ত হলেও স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকরা শঙ্কিত।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, পেটফুলা নামকস্থানে স্লুইচ গেইট নির্মাণ এলাকাবাসী ও হাওরের কৃষকদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ পেটফুলায় স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন, সভা সমাবেশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন বেশ কয়েকবার। কিন্তু নামমাত্র দায়সারা আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ আপামর জনসাধারণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি যা আজোবধি আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে পেটফুলা ফসল রক্ষা বাধটি ঝুঁকিপূর্ন। বাধের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পাহাড়ি নদী খাসিয়ামারা বয়ে চলেছে আর উত্তর-পশ্চিম দিকে সুরমা নদী বিধৌত কাঙলার হাওরের অবস্থান। যে কারণে স্বাভাবিক বন্যা হওয়ার আগেই পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট খাসিয়ামারা নদীর আগাম বন্যায় প্রথমেই আঘাত হানে পেটফুলা ফসল রক্ষা বাধে। ফলে বন্যার পানির তোড়ে বাধের নিচ থেকে মাটি কাঙলার হাওরে সরে যাওয়াতে প্রতিবারই ভাঙনের সম্মুখীন হয় পেটফুলা ফসল রক্ষা বাধ। বছরে বছরে এই বেড়িবাঁধটি নির্মিত হলেও কোনো বছরেই এই বেড়িবাঁধটি টিকানো সম্ভব হয়নি। বরং বারবার পেটফুলা বেড়িবাঁধ ভেঙে বাধের মাটিতে পার্শ্ববর্তী কাঙলার হাওরের বোরো ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে হাওরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি বালি ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় অত্র হাওরের কৃষকদের জীবিকার একমাত্র ভরসা বোরো ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে বাধ নির্মাণের জন্য বছরের পর বছর পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে মাটি নেয়ার ফলে এবার বাধের আশপাশে মাটির সংকট দেখা দিয়েছে।

বরাবরের ন্যায় এবারও এই বাধটি পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে বাধ নির্মাণের জন্য আশপাশে মাটিও পাওয়া যাবেনা। আগাম বন্যা থেকে আশপাশের নূরপুর, আলীপুর, সোনাপুর গ্রাম ও কাঙলার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য পেটফুলা ফসল রক্ষা বাধে স্লুইচ গেইট নির্মাণ অতীব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে নির্মিত পেটফুলা ফসল রক্ষা বাধটি কোনো উপকারে না আসায় বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন কৃষকসহ সাধারণ মানুষ। প্রতিবছরই বাধ নির্মাণে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হচ্ছে, অপরদিকে দায়সারা বাধ নির্মান করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে পাউবো কর্তৃপক্ষের অসাধু কর্তাব্যক্তিরা। স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয় নূরপুর-আলীপুরের মধ্যবর্তী পেটফুলা বেড়িবাঁধটি পরিদর্শন করে উক্ত বেড়িবাঁধে স্লুইচ গেইট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। জানা যায়, সোনাপুর থেকে পেটফুলা হয়ে সুলতানপুর পর্যন্ত ফসল রক্ষা বাধের এবারের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২০ লক্ষ টাকা। যোগাযোগ করা হলে এ প্রসঙ্গে মুহিবুর রহমান মানিক সোনালি নূর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর পেটফুলা ফসল রক্ষা বাধটি পাহাড়ি ঢলে ভেঙে আশপাশের গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ফসলি জমি প্লাবিত হয়। এতে করে বর্ষাকালে হাওর এলাকার বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের চরম সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। এতে পাঠদানেও চরম ব্যাঘাত ঘটে। এখানে স্লুইচ গেইট দেয়া জরুরি।

নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহম্মদ মশিউর রহমান বিএসসি জানান, পেটফুলা বেড়িবাঁধ ভেঙে অকাল বন্যায় বেশ কয়েকবার আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের গ্রাম ও হাওরের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখানে স্লুইচ গেইট ছাড়া এই এলাকার ফসলি জমির সুরক্ষা অসম্ভব। বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনা করে এখানে দ্রুত স্লুইচ গেইট দেয়া উচিত। নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা বোরো চাষি আব্দুর রউফ দিলীপ জানান, ফসল রক্ষার নামে প্রতিবছর পেটফুলা ফসল রক্ষা বাধটি নির্মিত হলেও এটি ফসল রক্ষার কাজে আসছেনা। উপরন্তু প্রতিবছর এই বাধ ভেঙে আমাদের বোরো ফসলি জমিতে চর পড়েছে। শত শত বোরো চাষিদের আবাদি জমি এখন অনাবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে।আমরা পেটফুলা বেড়িবাঁধের বদলে এই স্থানটিতে স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবি জানালেও পাউবোসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি বরাবরই উপেক্ষিত। যদি সত্যিকার অর্থেই সরকার হাওরের দরিদ্র কৃষকদের ফসল রক্ষার্থে সচেষ্ট হন তবে এখানে বেড়িবাঁধ নয় স্লুইচ গেইট দেওয়া হোক। একই গ্রামের ইউপি সদস্য আলীনূর জানান, এখানে স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবি বাস্তবসম্মত। আমাদের সকলের জোরদাবি অবিলম্বে পেটফুলায় স্লুইচ গেইট নির্মাণ করা হোক। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির জানান, পেটফুলা ফসল রক্ষা বাধে স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবিতে উপজেলা প্রশাসনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে বেশ কয়েকবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু আমাদের দাবি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। পেটফুলা ফসল রক্ষা বাধ নির্মাণে আশাপাশে মাটি না পাওয়ায় আবাদি জমির মাটি কেটে বাধ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে অনেক ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে গেছে। সামনে স্লুইচ গেইট না দিলে এখানে বাধ নির্মাণের মতো মাটিও পাওয়া যাবেনা। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয় সরজমিনে বাধ পরিদর্শন করে গেছেন। জেলা প্রশাসকের নিকট আমরা স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবি জানালে তিনি আমাদেরকে আগামিতে স্লুইচ গেট নির্মাণের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, পেটফুলা নামক ফসল রক্ষা বাধটি ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে ওই বেড়িবাঁধটি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে নিয়ে আমরা সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় স্থানীয়দের দাবিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এখন যেহেতু ফসল রক্ষা বাধ নির্মিত হয়েগেছে, এই সময়ে স্লুইচ গেইট নির্মাণ করা সম্ভব নয় তবে আগামিতে এই স্থানটিতে স্লুইচ গেইট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: