সর্বশেষ আপডেট : ৩৯ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমি তো প্রতারক সুন্দরী হতে চাইনি: এভ্রিল

বিনোদন ডেস্ক:: ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার কথা তো সবাই জানেনই। ওখানে কোথাও উল্লেখ ছিলো না, প্রতিযোগীর স্ট্যাটাস কী? সিঙ্গেল, ডিভোর্সি নাকি ম্যারিড? ওখানে কোথাও লেখা ছিলো না যে, বাল্য বিবাহিত বা বাল্য ডিভোর্সি। এই ধরণের কোনও অপশন ছিলো না সেখানে। আমি কারো কাছে কখনো প্রতারক হতে চাইনি। আমি মিথ্যা খুবই কম বলি। আর যেখানে বাংলাদেশের আইনে বলা আছে, বাল্য বিবাহটা কোনো বিয়েই না। তাহলে আমি এটাকে বিয়ে কেন মানবো? কেন আমাকে সবাই প্রতারক সুন্দরী বলে ডাকবে? কেন?’

কান্না জড়ানো কন্ঠে কথাগুলো বলেছেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগী জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। গত শনিবার (৩১ মার্চ) চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ‘জাগো বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে নিজের বাল্য বিয়ে প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন এভ্রিল।

জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটির এই পর্বের নাম বিষয় ছিলো ‘বাল্য বিবাহ’। এটা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে আসেন এভ্রিল। তার বাল্য বিবাহের পুরো ঘটনাটি শেয়ার করেন ‘জাগো বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে।

এভ্রিল বলেন, ছোটবেলা থেকে খুব বেশি ডানপিটে ছিলেন আমি। বাবার সঙ্গে শৈশব থেকে আমার বন্ধনটা ছিল অন্যরকম। আমরা চার ভাইবোন। আমার মনে হতো, ওই সময় বাবা আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, আমাকেই প্রাধান্য দিতেন। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার একমাস পর একদিন শুনলাম, আমাকে দেখতে আসবে। হাতে আংটি পরিয়ে দেবে। আমি তো শুনে রেগে কান্নাকাটি শুরু করে দিলাম।

এভ্রিল আরো বলেন, সেই সময় আমার বয়স ছিলো ১৬ বছর। বিয়ের কথা শোনার পর কেঁদে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে ধরে আনা হলো। সবাই জানালো, এখন আমাকে আংটি পরাতে আসবে। তখন বাবার কাছে জানতে চাইলাম, কেন আমাকে বিয়ে দিতে চাইছো? বাবা বললো, ‘দেখো, তুমি মেয়ে হয়ে জন্মেছো, আমার তো একটা দায়িত্ব আছে। আমার মেয়েকে আমি বিয়ে দেবো, আমার দায়িত্বটা শেষ করবো’। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমাকে বিয়ে দিলেই তোমার দায়িত্ব শেষ? তিনি জোর গলায় বললেন, ‘হ্যাঁ, শেষ’। তখন বাবার পা ধরে খুব কেঁদে বলছিলাম, বিয়ে করবো না। পড়ালেখা করবো। কিন্তু তিনি কিছুতেই শুনছিলেন না। মনে হচ্ছিল, বাবা পাষাণ হয়ে গিয়েছিলেন!

এটারও কারণ আছে বলে জানান এভ্রিল। তিনি বলেন, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মধ্যবিত্ত পরিবারে সুন্দরী বা লম্বা মেয়ে থাকলে চারপাশের মানুষগুলো অনেক ডিস্টার্ব করে। মানুষ বাবাকে যে চাপ দিচ্ছিল তা নিতে পারছিলেন না তিনি। যদি আমাকে কেউ তুলে নিয়ে যায়, এই ভয় ধরে বসেছিল তাকে। মান-সম্মান নিয়ে খুব ভয় পান তিনি। তখন বাবাকে একটা কথা বলেছিলাম, তুমি তোমার দায়িত্ব শেষ করো ঠিক আছে কিন্তু আজ থেকে তুমি আমার বাবা না। ছোটবেলা থেকে তোমার সঙ্গে আমার এত ভালোবাসার সম্পর্ক, অথচ আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছো না, আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করার কথা তুমি একবারও ভাবছো না, শুধু সমাজের কথা চিন্তা করে একটা ছোট মেয়েকে তুমি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছো। তোমার মেয়ের নিরাপত্তা দিতে পারছো না বলে বিয়ে দিচ্ছো, সেক্ষেত্রে তুমি আমার বাবা হতেই পারো না। তার সঙ্গে আমার শেষ কথা ছিল এটুকুই।

তারপর বিয়ে করে নেন এভ্রিল। বিয়েতে এভ্রিল তার মাকে বলেন, মা আমি সুইসাইড করবো। আমি মরে যাবো। মা আমাকে কানে কানে বলেছিলেন, তুই শুধু বেঁচে থাকবি আমার জন্য। যদি তুই কালকে মরে যাস, তাহলে কিন্তু কবরে একটা লাশ যাবে না, যাবে দুইটা লাশ! কারণ আমি তোকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।

এভ্রিলের ভাষ্যে, একটা মেয়ে একা একা ঘর থেকে বের হয়ে আসা। তার কোনো সাপোর্ট নেই। সে কিভাবে পড়ালেখা করবে। সমাজের মানুষের কথা শুনতে হচ্ছে। স্ট্রাগল করা অনেক বেশি কঠিন একটা মেয়ের জন্য।

বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার পর এভ্রিল তার এক বান্ধবীর বাসায় ওঠেন। তিনি জানান, তার আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে শুধু তার পরিশ্রম নয়, তার মায়ের পরিশ্রম নয়, আশেপাশের আরো কয়েকটা মানুষের অনেক সাপোর্ট ছিলো।

এভ্রিল বলেন, আমি অতীত নিয়ে ভাবতে চাই না। শুধু এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে চাই। সারাজীবন আর শেষ নিঃশ্বাস অবধি স্বপ্ন দেখতে চাই। স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা যাবে না। মানুষ তখনই ফুরিয়ে যায়, শেষ হয়ে যায়, যখন সে স্বপ্ন দেখতে ভুলে যায়। ওইসব সমাজকে দেখিয়ে দিতে চাই, যারা একটা মেয়ের বয়স নিয়ে ভাবে না, তার বিয়ে হলে কী ঘটতে পারে তা চিন্তা করে না, যারা শুধু দারিদ্র, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দিক চিন্তা করে মেয়েটাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠালেই যেন বোঝা শেষ।

এভ্রিলের এই বেদনাদায়ক গল্প শোনার পর উপস্থাপক মোশাররফ করিম বলেন, আমি চাই বাল্যবিয়ের কারণে তোমার (এভ্রিল) বেদনাটা ছুঁয়ে যাক দর্শকের মনকে। যেন দর্শকও ব্যথিত হন আর সবার টনক নড়ে। এভ্রিলের বাবা তার মেয়েকে ভালোবাসতেন। সেখানে সমস্যা ছিল না। কিন্তু এভ্রিলকে বিয়ে না দিলে কী কী ঘটতে পারে, সেইসব ভয় যে তাকে দেখানো হলো, সেই ভয় থেকে তিনি সরতে পারলেন না। তাই সেই ভয়ের উৎসটাকে তাড়ানো সবচেয়ে জরুরি। যেখান থেকে আমি স্বাধীনভাবে বলতে পারবো- আমি এই হতে চাই, আমাকে হতে দাও। আমাকে ভয় দেখিও না। কারণ আমি, এভ্রিল, আমরা যারা এ দেশের মানুষ, এ দেশের সন্তান, তারা প্রত্যেকেই এ দেশের সম্পদ। তাদেরকে হয়ে উঠতে দিতে হবে। তাই ভয়কে তাড়াতে হবে।

উল্লেখ্য, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় প্রথমে এভ্রিল বিজয়ী হন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি বিবাহিত। তাই তার মুকুট বাতিল করা হয়। পরে জেসিয়া ইসলামকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: