সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীর জন্য আন্দোলন কেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেছেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়েছে। যেখানে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, এতিমের হক ফাঁকি দেওয়া যাবে না। এতিমের হক এতিমকে বুঝিয়ে দিতে হবে। সেখানে একজন এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীর জন্য আন্দোলন কেন?

বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (বড়মাঠ) জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এতিমদের সম্পদ মেরে খেলে তাদের শাস্তি পেতে হয়, আজ সেই শাস্তি খালেদা জিয়াও পেয়েছেন। অন্যায় করলে যে শাস্তি পেতে হয়, আজ তা প্রমাণিত হয়েছে। লজ্জা থাকলে জীবনে আর লুটপাট করবে না, মানুষের অর্থসম্পদ কেড়ে নেবেন না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আমরা যখন দেশের উন্নয়ন করি, বিএনপি কী করে? ওই মির্জা ফখরুল ইসলাম, সারা দিন মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যা বলতে বলতে গলা ফুলিয়ে ফেলেছে। মাঝে মাঝে চিকিৎসাও করতে বিদেশেও যায়। আল্লাহর তো একটা বিচার আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কী করেছিলেন? বিমান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, বিমানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে রেখে গিয়েছিলেন। বিমান রাডারগুলোও ধ্বংস করে রেখে গিয়েছিলো। আমরা আসার পর এখন পর্যন্ত ৮টি নতুন বিমান বাংলাদেশ বিমানে যুক্ত হয়েছে। বিমান আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর বিএনপি রেলের পর সৈয়দপুর-বরিশালের মতো অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোর সাথে সাথে বিমানবন্দরগুলোও বন্ধ করে দেয়। আমরা আবারও ক্ষমতায় এসে সেগুলো পুনরায় চালু করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাসহ গত নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপির আন্দোলনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর নামে সন্ত্রাস-তাণ্ডব চালিয়েছিল। সে সময় অনেক মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। সিএনজি চালককে পুড়িয়ে মেরেছে তারা। হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলে তারা।

তিনি বলেন, ‘আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কেটে ফেলে, আমরা রাস্তা করি, তারা ধ্বংস করে। তবে আমরা তাদের সেই জ্বালাও-পোড়াও কঠোর হাতে দমন করেছি। জনগণ যখনই তাদের প্রতিরোধ করেছে, তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘এরা মানুষকে লুটপাট করে খেতে জানে মানুষকে কিছু দিতে পারে না। তারা দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে। আর আমরা সেই টাকা ফেরত আনছি। চুরির টাকা সিঙ্গাপুর যুক্তরাষ্ট্রে ধরা পড়েছে। শুধু ৯৮০ কোটি টাকা ব্যাংক থেকেই আত্মসাৎ করেছে। ফেরত দেওয়ার কোনো নাম নেই।’

বিএনপি ক্ষমতায় আসে এ দেশের সম্পদ লুটপাট করতে- এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশ ও মানুষের উন্নয়ন হয়, দেশ এগিয়ে যায়। তারা আগুন দিয়ে, পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের কারণে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তাদের আমলে বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি, জঙ্গিবাদের সৃষ্টি। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশে সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।

যত দূরেই থাকি না কেন সবসময় আমি আপনাদের সঙ্গে আছি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বাংলাদেশের আনাচে কানাচে চিনি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমি গিয়েছি। আমি পায়ে হেঁটেছি, নৌকায় চড়েছি, ট্রেনে যাতায়াত করেছি। আমি ভালো করে জানি দেশের কোথায় কোন সমস্যা।

নিজেকে জনগণের সেবক দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ক্ষমতায় এসে মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করি। দেশের প্রধান হিসেবে নিজেকে সেবক মনে করি। আমার ওপর ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। আমি সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করছি।

এ জনসভা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ারও আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি বলেন, আমার হারানোর কিছু নেই। পাওয়ারও কিছু নেই। আপনাদের সেবা করতে চাই। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নৌকা মার্কায় ভোট চাই। হাত তুলে ওয়াদা করুন নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন।

জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ৩৩টি উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে, ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা হতে বালিয়াডাঙ্গী মোড় পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করা; বালিয়াডাঙ্গীতে তিনটি সড়কে এবং রাণীশংকৈলে একটি সড়কে সেতু, সদর উপজেলা পরিষদ ও হরিপুর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, জেলা পিটিআই ভবন সম্প্রসারণ; সদর উপজেলায় পারপুগী-নেকমরদ সড়ক উন্নয়ন, রাণীশং কৈলেতীরনই নদীর উপর সমন্বিত পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নির্মাণ; পীরগঞ্জ উপজেলায় এক লক্ষ পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতার সম্পন্ন নতুন গুদাম উদ্বোধন।

এ সময় মাইক থেকে স্লোগান ওঠে ‘ঠাকুরগাঁওয়ের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’, ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যার আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম।’




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: