সর্বশেষ আপডেট : ৪৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জগন্নাথপুরে বেড়িবাধের কাজ শেষ, বিলের জন্য পিআইসিদের হাহাকার

ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ,জগন্নাথপুর:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নলুয়ার হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাধের কাজ শেষ হলেও পুরো বিল দেয়া হয়নি। বিলের জন্য পিআইসিদের মধ্যে হাহাকার বিরাজ করছে।

জানাগেছে, এবার জগন্নাথপুর উপজেলার ৫২ কিলোমিটার বেড়িবাধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য মোট ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। ৯২টি পিআইসি কমিটির মাধ্যমে কাজ করা হয়। শুরুতে এক্সেভেটর মেশিন ও মাটি কাটার শ্রমিকের অভাবে কাজে কিছুটা গাফিলাতি ছিল। পরে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ ও পাইবো’র এসও নাসির উদ্দিনের কঠোর তদারকিতে কাজের গতি বৃদ্ধি পায়।

গ্রেফতার আতঙ্কে পিআইসিরা দিন-রাত কাজ করান। এতে পিআইসিদের অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষ ২/৩ গুন বেশি মূল্য দিয়ে কাজ করাতে হয়েছে। অবশেষে বেড়িবাধের কাজ শেষ হলেও পুরো বিল দেয়া হয়নি। প্রথমে কাজ শেষ করতে দিশেহারা থাকলেও বর্তমানে বিলের জন্য পিআইসিরা হাহাকার করছেন। খোজ নিয়ে জানাগেছে, পিআইসিরা এ পর্যন্ত ৪টি বিলের মধ্যে মাত্র ২টি বিল পেয়েছেন। বাকি বিলের জন্য তারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন। এর মধ্যে কাজ চলাকালীন সময়ে অনেক পিআইসিগণ কাজ দ্রুত শেষ করতে অনেকের কাছ সুদে ঋণ নেন। বিল পাওয়ার পর দেয়ার কথা ছিল। এখন বিল না পাওয়ায় পাওনা ধারদের ভয়ে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে এবার বেড়িবাধের মান সম্মত কাজ দেখে স্থানীয় কৃষকসহ জনমনে স্বস্তি বিরাজ করছে। দেশ স্বাধীনের পর এতো ভাল বেড়িবাধের কাজ আর কখনো হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিমত। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আরশ মিয়া বলেন, কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকিতে পিআইসিগণের সাময়িক কষ্ট হলেও দ্রুত মান সম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এবার অন্য বছরের তুলনায় ভাল কাজ হওয়ায় কৃষকরা অনেক খুশি।

পিআইসি কমিটির সভাপতি ছালিকুর রহমান, জুয়েল মেম্বার, রনধীর মেম্বার সহ পিআইসিরা বলেন, আমাদের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেলেও এখনো পুরো বিল পাইনি। এর মধ্যে কর্তৃপক্ষের ভয়ে দ্রুত কাজ করাতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় হয় এবং ঋণ করতে হয়েছে। বর্তমানে পাওনা ধারদের প্রচন্ড চাপে রয়েছি। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাকি বিল দিতে তারা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। সেই সাথে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন কর্তৃপক্ষের কঠোর চাপের কারণে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। তা না হলে এখনো কাজ শেষ করা যেত না।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী জগন্নাথপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত (এসও) নাসির উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে মাটির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। তবে বাধে গাছ লাগানোসহ অন্যান্য সামান্য কাজ বাকি রয়েছে। বর্তমানে শেষ করা কাজের ম্যাজারমেন্ট চলছে। আগামি সপ্তাহ ১০ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ম্যাজারমেন্ট শেষ হলেই পিআইসিরা বাকি বিল পাবেন। এ সময় পর্যন্ত তাদেরকে ধর্য্য রাখতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: