সর্বশেষ আপডেট : ৫৮ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউনিয়নে পানির জন্য কৃষকদের আহাজারি

তোফায়েল পাপ্পু, শ্রীমঙ্গল:: শ্রীমঙ্গলে আশিদ্রোন ইউনিয়নে পানির অভাবে ফসলের ক্ষেত ফেঁটে চৌচির হয়ে উঠেছে। পানির জন্য কৃষকরা আহাকার চিৎকার করছেন। বুরো ফসল নিয়ে দিশেহারা কৃষকের মাথায় পড়েছে হাত। নানা শঙ্খায় ভোগছেন তারা। এ ব্যপারে আশিদ্রোণ গ্রামের সাবেক এক জনপ্রতিনিধিসহ কয়েকজনের নামে কৃষকেদের জন্য সেচের পানি ব্যবস্থা করার বিষয়ে নানা টালবাহানার অভিযোগ করেন গ্রামবাসী। কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা আছে বলে স্বীকার করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি বুরো মৌসুমে এলাকার সাবেক মেম্বার আলতাফুর রহমানের নেতৃত্বে গ্রামের কাদির মিয়া ও রিপন মিয়া গ্রামবাসীকে প্রতি কেয়ার জমিতে ৮০০ টাকা হারে সেচের পানি ব্যবস্থা করে দেবার কথা বলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। টাকা দিয়েও পানি না পেয়ে কৃষকরা একদিকে যেমন দুশ্চিন্তায় ভূগছেন অন্যদিকে ক্ষোভে ফোঁসে উঠেছেন তারা। আশিদ্রোন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের খোসবাশ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পনির অভাবে বুরো ধানের ক্ষেতে বিরাট বিরাট ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে গাছ মরে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা পানির জন্য আন্দোলনে প্রতিবাদী হয়ে জড়ো হয়েছেন। সকলের চোখে-মুখে যেনো হতাশার ছাপ। ফসল বাঁচাতে কেবল “পানি চাই-পানি চাই” বলে আহাকার চিৎকার করছেন কৃষকরা।

কৃষকরা বলেন, পানির জন্য ওই ইউনিয়নের লাকির বন্দ, ফকির বন্দ, তুলশি কাড়ির বন্দ, মুরি খলার বন্দ ও তিতপুরের বন্দের প্রায় হাজার একর জমির বুরো চাষ হুমকীর মুখে রয়েছে।  কৃষক নিরোদ দেবনাথ, আমিন মিয়া, সুবোধ দেবনাথ, আব্দুস সালাম ও সুফি মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কাদির মিয়া সেচ মেশিন দেখিয়ে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। পানি দেবার কথা বলে টাকা নিয়েছে। এখন পানি দিচ্ছে না। পানি চাইতে গেলে উল্টো আমাদের উপরে চড়াও হয়ে উঠে। এ ব্যাপরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আহাদ বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য মো. আলতাফুর রহমানের সহযোগিতায় কাদির মিয়া সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) থেকে ৫ হাজার টাকা সিকিউরিটি মানি জমা দিয়ে বাৎসরিক ৭ হাজার টাকা হারে দুইটি সেচ মেশিনের ব্যবস্থা করেন। পরে গ্রামবাসীর সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সেচের পানি বন্টনের জন্য টাকা উত্তোলন করতে শুরু করে। প্রথমদিকে দু/একদিন পানি দিয়ে এখন আর পানি দিচ্ছে না তারা।

কেনো পানি দিচ্ছে না, জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ বিষয়ে কদির মিয়া কোন গুরুত্ব দেয়নি বলে জানান তিনি। এদিকে কৃষকদের অভিযোগ সত্য নায় উল্লেখ করে কাদির মিয়া বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেশিন কয়েকদিন বন্ধ ছিলো। তাছাড়া টাকা-পয়সারও সমস্যার অছে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা আছে এবং বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে মীমাংশার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন আশিদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রণেন্দ্রপ্রসাদ বর্ধন (জহর)।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: