সর্বশেষ আপডেট : ২৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রোহিঙ্গা নির্যাতনকারীদের বিচার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের আহ্বান

প্রবাস ডেস্ক:: রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে গত ২০ মার্চ নেদারল্যান্ডের হেগে ‘মিয়ানমারের নিঃসঙ্গ একজনের আহ্বান’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে, মিয়ানমারের নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী খিন জ উইনসহ বক্তারা এ সমস্যার পিছনে অভিযুক্তদের বিচার করা এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ অবরোধ আরোপের আহ্বান জানান।

হেগের ‘হিউম্যানিটি হাউজ’ নামে পরিচিত একটি জাদুঘর এবং থিংক-ট্যাঙ্ক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল এবং নেদারল্যান্ড পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়া ডিভিশনের প্রধান মিরা উল্ডবার্গ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং এনজিও’র প্রতিনিধিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর মিয়ানমার সরকার কর্তৃক বিগত প্রায় একদশক ধরে যে পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ ও নির্যাতন চালাচ্ছে এবং যার ফলশ্রুতিতে ১০ লাখের উপর রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে এবং কিভাবে বাংলাদেশ তা মোকাবিলা করছে তা তুলে ধরেন। জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে উদ্ভূত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তাজনিত, সামাজিক ইত্যাদি সমস্যার কথা উল্লেখপূর্বক রাষ্ট্রদূত বেলাল মানবতার খাতিরে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উপর জোর দেন।

জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে তাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার আহ্বান জানান। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত ৫ দফাও তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বেলাল এই জাতিগত নিধনযজ্ঞে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে এবং ভবিষ্যতে এধরনের অপরাধ যেন সংগঠিত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেদারল্যান্ডের (জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি হিসেবে) প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচনায় মিরা উল্ডবার্গ জানান যে নেদারল্যান্ড রোহিঙ্গা সমস্যাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচীতে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা নিরসনে অভিযুক্তদের চিহ্নিত ও তাদের উপর প্রয়োজনীয় অবরোধ আরোপ ফলপ্রসূ হবে বলে মন্তব্য করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলায় মিয়ানমার সরকারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি’র ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে জনাব খিন জ উইন মিয়ানমারের গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের সময়ে রাখাইন প্রদেশে সংগঠিত নির্যাতনকে জঘন্যতম জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে মন্তব্য করেন।

জনাব খিন বলেন ‘রাখাইন’ থেকেই ‘রোহিঙ্গা’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে মিয়ানমার জাতীয়তাবাদের প্রতি তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। জনাব খিন জ উইন খুব স্বল্পসংখ্যক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একজন যিনি ন্যায়ের কথা বলছেন। ইতোপূর্বে তিনি রাজনৈতিক বন্দী ছিলেন এবং বর্তমানে ইয়াংগুন ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘তাম্পাদিপা’র পরিচালক।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: