সর্বশেষ আপডেট : ১৮ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত হলেন মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ:: একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়া খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরজাহান বেগম ওরফে কাকন বিবি মারা গেছেন।  ইন্নালিল্লাহী…রাজিউন। সিলেট এম.এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় বুধবার রাত সোয়া ১১টায় এই বীর প্রতীকের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম মাহবুবুল হক। ষ¦াসকষ্ঠ নিয়ে গত সোমবার এই হাসপাতালে শেষবারের মতো ভর্তি হয়েছিলেন শতবর্ষী কাকন বিবি। এর আগে হত বছরের জুলাইয়ে পরবর্তীতে ডিসেম্বরে দুদফায় ভর্তি হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেন তিনি।

কাকন বিবির জন্ম ১৯৯৫ সালে বলে জানিয়েছেন তার ভাগ্নে ইনছান আলী। মেঘালয়ের নেত্রাই হাসিয়া পল্লীতে তিনি জন্মেছিলেন বলে সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ স্বীকার করেন। কাকন বিবির স্বামী সাঈদ আলীও প্রয়াত হয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ী সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার জিরারগাঁও গ্রামে।  ১৯৭১ সালে ৩ দিনের নবজাতক কন্যাকে রেখে যুদ্ধে চলে যান কাকন বিবি। জুন মাসে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কাছে ধরা পড়েন তিনি। বাংকারে আটকে দিনের পর দিন তাকে নির্যাতন করে পাকবাহিনী। ছাড়া পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর কাছে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন কাকন বিবি। রহমত আলীর দলে সদস্য হয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ করেন তিনি। একইসঙ্গে চালিয়ে চান গুপ্তচর বৃত্তির কাজ। নভেম্বর মাসে ৫নং সেক্টরের সেলা সাবসেক্টরের অধীনস্থ টেংরাঠিলার সম্মুখ যুদ্ধে কয়েকটি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়।

পরে আমবাড়ী,বাংলাবাজার,টেবলাই,বালিউড়া,মহব্বতপুর,বেতুরা দুর্বণটিলা ও ছাতক পেপার মিলের যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে তাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার বাদ আছর নামাজে জানাযা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই মহিয়সী নারীকে দাফন করা হয়। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবির মৃত্যুতে সুগভীর শোক প্রকাশ ও তার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ ৫ আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক,সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার সংরক্ষিত আসনের এমপি এডভোকেট শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ সাবিরুল ইসলাম,দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক,মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আহবায়ক এডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু,আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবীর,সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নয়ন,সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জাহান,সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক আল-হেলাল ও সাধারন সম্পাদক ছাদিয়া বখত সুরভী।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে. এ. রাহিম. সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: