সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কোনো মানুষই অপরাধী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না : রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক:: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, পৃথিবীর কোনো মানুষই অপরাধী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশই তাদেরকে অপরাধী করে তোলে। আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সমাজে পুনর্বাসন করতে কারা কর্তৃপক্ষকে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ জেল এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও বন্দিদের অপরাধ প্রবণতা কমানোর উদ্যোগ সকলের অকুণ্ঠ প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে বন্দির হাতকে দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তরের জন্য কারাগারে কারিগরী প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ অন্যতম।

রাষ্ট্রপতি মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে কারাসপ্তাহ-২০১৮ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কারা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বিক্রয় করে লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ বন্দিদের প্রদান করার সিদ্ধান্ত একটি সময়োচিত পদক্ষেপ। সাজা শেষে কারা শিল্পে নিয়োগের ফলে লব্দ জ্ঞান এবং প্রাপ্ত লভ্যাংশের অর্থ কাজে লাগিয়ে তারা সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ পাচ্ছে। এতে সমাজে অপরাধ করার প্রবণতাও হ্রাস পাবে। এ ছাড়া কারাবন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার জন্য ‘মোবাইল ফোন বুথ’চালু একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এ সব পদক্ষেপের ফলে কারাবন্দিরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।

রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী, কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকসহ সামরিক, বেসামরিক ও কারা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি কারা রক্ষীদের আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। তিনি সেরা কারা কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান ও প্যারেড কমান্ডারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ কারাগারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময় আমাকেও গ্রেফতার করা হয়। আমি ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলাম। কারাগারে কেবল অপরাধী নয়, রাজবন্দি হিসেবে অনেক নেতা-কর্মীকে জেলে কাটাতে হয়। আমাদের জাতির পিতাকেও রাজনৈতিক কারণে ১৪ বছরের অধিক সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে। তাই কারাগারের জীবন সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতাও কম নয়। জাতির দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতায় আমাদের জাতীয় চার নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে প্রাণ দিতে হয়।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১৩টি কারাগার নতুনভাবে নির্মাণের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কারাগারের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সিসিটিভি, আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টরসহ আধুনিক নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। কারাগারগুলোর বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রিজন্স অ্যাক্ট পরিবর্তন করে নতুনভাবে ‘প্রিজন্স এন্ড কারেকশনাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। সর্বোপরি কারা প্রশাসনের দক্ষ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের কারাগারগুলো ক্রমান্বয়ে সংশোধনাগারে পরিণত হচ্ছে।

এর আগে তিনি বেলুন উড়িয়ে কারাসপ্তাহ উদ্বোধন করেন এবং খোলাজিপে চড়ে কারামহাপরিদর্শকের সঙ্গে প্যারেড পরিদর্শন করেন।


নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: