সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীমঙ্গলে খাস জমিতে বসবাসকারী উচ্ছেদ আতংকে চার হাজার লোক

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:: শ্রীমঙ্গলের রাধানগর নামক এলাকায় খাস জমি থেকে প্রায় ৪০০০ লোক উচ্ছেদ আতংকে ভোগছে বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান এই এলাকায় ১৯৬৫ সাল থেকে এখানে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন কিন্তু কেউ তাদের বাধা দেয় নি। কিন্তু হঠাৎ করে গত বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে এ এলাকায় খাস জমিতে বসবাসরত সকলকে জায়গা ছাড়ার আদেশ দেন।

সরেজমিনে রাধানগর এলাকা পরিদর্শনে গেলে এলাকাবাসী বলেন, আমরা এখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে আমরা কোথাও আশ্রয় না পেয়ে এ এলাকায় এসে সরকারি জমিতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। কেউ কেউ জানান ১৯৬৫ সাল থেকে বসবাস করে আসছেন। তারা বলেন ঘর করার সময় কেউ বাঁধা দেয়নি। দীর্ঘদিনে কেউ ওঠে যেতেও বলেনি। কিন্তু হঠাৎ করে ইউএনও অফিসার এসে এলাকা ছেড়ে যাবার হুমকি দিচ্ছেন। আমাদের ছেলে সন্তানরা স্কুল কলেজে লেখাপড়া করছে। আমরা সকলে দরিদ্র পরিবার। এমন অবস্থায় আমরা কোথায় যাব। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা সবাই দিশেহারা। কোথায় আশ্রয় নেবো তাও জানি না। কোথায় গিয়ে আমরা বসবাস করব। যাবার মত আমাদের ঠিকানা নেই।

কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে হাছমা বেগম নামে এক মহিলা এ প্রতিবেদকে বলেন আমি বংলাদেশ স্বাধীনের এক বছর পর থেকে এখানে বাস করে আসছি। আমার তিন মেয়ে এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি। আমার ভাঙ্গাচুড়া ঘর। আমি হায় হুতাশ করছি। ইউএনও সাহেব এসে বলেন যে দেশ থেকে এসেছি সে দেশে ফিরে যেতে। আমাকে ইন্ডিয়া চলে যেতে বলেন। আমি কি করব। এলাকার লোকজন আমাকে টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগীতা করে। আমার ছেলে চা বাগানে ডিউটি করে তার রোজগার দিয়ে দুবেলা দুমোঠ ভাত খাই। আমি কই যাইমু জানিনা।

শামসুন্নাহার নামে মহিলা বলেন আমরা রিফুজী হয়ে এখানে এসেছি। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় বাস করছি কেউ আমাদের ওঠে যাবার জন্য বলেনি। হটাৎ ইউএনও সাহেব এসে আমাদের ওঠে যেতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন আমরা ভারত থেকে এসেছি ভারতে ফিরে যেতে। আমার ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় গিয়ে নতুন করে বাড়ি বানাব এই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে আছি।

লন্ডন প্রবাসী মো: মোবিন তফাদার জানান , লন্ডনে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে টাকা রোজগার করে দেশে এসে কিছু একটা করতে চেয়েছিরাম। কিন্তু তাতে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল রাধানগর এলাকায় পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একটি রিসোর্ট গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে তাতে বাধা দেয়া হচ্ছে। আমার ক্রয়কৃত জমিতে প্রতিষ্ঠিত রিসোর্টের সাইনবোর্ডটিও খুলে ফেলা হয়েছে। রাস্তার পাশের বাউন্ডারিও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আমাকে ওঠে যাবার জন্য বলা হচ্ছে। এত টাকা খরচ করে রিসোর্ট তৈরী করেছি , তা কিভাবে আমি ছেড়ে দিব। এ অবস্থা রেখে আমি লন্ডনেও যেতে পারছি না। আমি এ চিন্তায় ভেঙ্গে পড়েছি। শুধু আমি একা নয় পুরো এলাকাবাসী আতংকে রয়েছেন। সরকারের উচ্চ পদস্থদের নিকট দাবী যেন এর একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

এরকম সকলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন আমরা এ এলকা ছেড়ে গেলে কোথায় আমাদের ঠিকানা হবে জানিনা। আমরা সরকারের নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমাদের যেন বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন।

এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে বলেন সরকারি খাস জমি চিহিৃত করা এটা আমাদের দায়িত্ব। এটা সবসময় করা হচ্ছে। এখানে কাউকে উচ্ছেদ করার জন্য কোন কাজ করা হচ্ছে না।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: