সর্বশেষ আপডেট : ৩৯ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শুভ জন্মদিন তামিম ইকবাল

স্পোর্টস ডেস্ক::
ঠিক ১১ বছর আগের কথা। একটা ছেলে নাম করা এক ক্রিকেট তারকার ভাতিজা ছিলেন। বাবার স্বপ্ন ছিলো ছেলে দুটো ক্রিকেটার হোক। এক ছেলে ক্রিকেটকে নিয়ে গিয়েছিলেন অনেক দূর, কিন্ত তার আগেই ইনজুরিতে নিভে যায় ছেলের ক্যারিয়ার।

আর আরেকজন?

বয়স মাত্র ১৮। বড় ভাই যেখানে ক্যারিয়ার শেষ করে গেলো, সেখান থেকেই পথ ধরলো ছেলেটা।

নবাগত প্লেয়ার, অভিজ্ঞতা নেই বলে নাটকীয়তা শুরু করে দেয় প্রিমিয়ার লিগের মালিকগুলো। ছেলেটি তা চেয়ে চেয়ে দেখতে লাগলো। অবুঝ ছেলেটি বুঝতে শুরু করলো সমাজের নির্মম বাস্তবতাকে।

চাচা তো সবই দেখছিলেন। ছেলেটির কাধের উপর রেখে দিলেন তার হাত, নিজেদের দলেই রেখে দিলেন তাকে।

বলতে বলতে তিন মাস চলে যায়, জাতীয় দলে সুযোগ এসে পড়ে ছেলেটির। সেখান থেকেই পথ শুরু, আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

এই ছেলেটিই পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১ম টেস্টের ২য় ইনিংসে ইমরুল কায়েসকে (১৫০) সাথে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৩১২ রান তোলেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েন। যার কারণে ১৯৬০ সালে কলিন কাউড্রে ও জিওফ পুলারের গড়া ২৯০ রানের রেকর্ড ভঙ্গের মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়েন।

একই ম্যাচে ছেলেটি ২০৬ রান করে, বিশ্বে তকমা লাগিয়ে দেন, যা তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ টেস্ট শতরান। এ রান সংগ্রহের ফলে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের গড়া সর্বোচ্চ ২০০ রানের রেকর্ড ব্রেক করেন।

১০-১৪ জুন, ২০১৫ তারিখে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে এই ছেলেটিই বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হন।

গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের সাথেই এই ছেলেটি ক্যারিয়ারে ও দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে চার হাজার রান পূর্ণ করে। তাছাড়াও ২০১৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ১ম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে টি টোয়েন্টি তে শতক রান করেছেন এবং প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে টি টোয়েন্টি তে ১০০০ রান সংগ্রহ করেন।

তারও আগের কথা।

২০০৮ সালে টেস্ট অভিষেক হলেও, ২০০৭ সালেই ওয়ানডে ম্যাচ & টি- টুয়েন্টিতে অভিষেক হয় ছেলেটির।

২০০৭ বিশ্বকাপে যখন তার নাম পড়ে, তখন মাত্র ২টা ওয়ানডে ম্যাচে অভ্যস্ত করেছিলেন নিজেকে, তাও জিম্বাবুয়ের সাথে। বিশ্ব এর আগে যে তামিমকে ভেবেছিলো, তামিম তার উত্তর দিলো উল্টো। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের সাথে ম্যাচে তখন ছিলোনা মুস্তাফিজ, ছিলো তামিম, সাকিব, মাশরাফি। সেই ম্যাচে তামিমের ব্যাটিং এ থমকিত ছিলো বড় বড় ক্রিকেট লিজেন্ডরা।

জিম্বাবুয়ের সাথে চার্লস কভেন্ট্রি যখন সাঈদ আনোয়ারের রেকর্ড ভেঙ্গে অপরাজিত ১৯৪ রান করেছিলেন, স্কোর যখন ৩০০+ ছাড়িয়েছিলো, তখন দলের হাল ধরে এই ছেলেটি । জিম্বাবুয়ে বোলারদের তাচ্ছিল্যময় বোলিং লাইন চুরমার করে ১৫৪ রানের ইনিংস কি ভুলে গেছে বাংলাদেশ।

লর্ডসের মাঠে ইমরুল কে নিয়ে করা দ্রুততম & ১ম বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরির খাতায় নামও কিন্ত এই ছেলের দখলে।

এতোক্ষন ধরে যাকে এতো স্মরণ করছি, সেই ছেলেটি মূলত ‘তামিম ইকবাল ‘। আজ এই ছেলেটির ২৯ তম জম্মদিন। ১৯৮৯ সালের এইদিনে পৃথিবীতে এসেছেন ব্যাটিংয়ে লাল-সবুজের ক্রিকেটের এই অটোমেটিক চয়েস।

আশা করি, তামিমের মতো, বাংলাদেশে আরো শত শত ছেলের উদয় হোক, বাংলাদেশকে নিয়ে চলুক বিশ্বঅঙ্গনে। আজ তার এই বিশেষ দিনে বাংলাদেশ জার্নালের পক্ষ থেকে তাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।



নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: