সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রায়ই ভুল এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা দেয় ত্রিভুবনের এটিসি টাওয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার থেকে অতীতেও বিমানের পাইলটদের কাছে ভুল বার্তা দেয়ার নজির রয়েছে। বিমানের নিরাপত্তার সঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। শুধু এটিসি টাওয়ারই নয়; দেশটির আবহাওয়া বিভাগও (ডিএইচএম) নেপালের আবহাওয়া-সংক্রান্ত ভুল তথ্য অনেক সময় প্রকাশ করে।

পাইলটদের কাছে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এটিসি টাওয়ারের ভুল বার্তার ব্যাপারে ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য হিমালয়ান টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এটিসি টাওয়ার থেকে প্রায়ই পাইলটদের কাছে এ ধরনের ভুল বার্তা দেয়া হয়।

ওই সময় হিমালয়ান টাইমসকে বিমানের একাধিক পাইলট বলেন, তারা প্রায়ই এটিসি টাওয়ার থেকে আবহাওয়া-সংক্রান্ত ভুল বার্তা পান।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এটিসি টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের কথা স্মরণ করে জ্যেষ্ঠ এক পাইলট বলেন, ‘টাওয়ার থেকে জানানো হয় যে, আজ সকালে বিমানবন্দরের দৃষ্টিসীমা তিন কিলোমিটার। কিন্তু কাঠমান্ডু কুয়াশায় ঢেকে যাওয়ায় ডিএইচএমের তথ্য সে সময় জানায় বিমানবন্দরের দৃষ্টিসীমা দেড় কিলোমিটারের কম।’

atc-1

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের স্পর্শকাতর ব্যাপারে ভুল তথ্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।’ ওই পাইলট অধিকাংশ সময় বোয়িং ৭৫৭-২০০ ফ্লাইট পরিচালনা করেন। এ বিমান অবতরণের জন্য ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাইলটের দৃষ্টিসীমা কমপক্ষে ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার থাকা প্রয়োজন।

তবে শুধুমাত্র ত্রিভুবন বিমানবন্দরেই যে এ ধরনের ভুল বার্তা দেয়া হয় তা নয়। বিমানের পাইলটরা বলছেন, লুকলাভিত্তিক তেনজিং হিলারি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় একই ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দরের তালিকায় রয়েছে নেপালের লুকলার এ বিমানবন্দর।

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের এক চালক হিমালয় টাইমসকে বলেন, ‘লুকলার টাওয়ার থেকে যে ধরনের তথ্য দেয়া হয় তা যথেষ্ঠ নয়। প্রায়ই ভুল এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা দেয়া হয়।

লুকলার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানসম্মত প্রক্রিয়া অনুস্মরণ করে এমন বার্তা দিচ্ছে কি-না তা নেপালের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের (সিএএএন) পর্যবেক্ষণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন ওই পাইলট।

atc-1

গত সোমবার (১২ মার্চ) ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস ২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দুর্ঘটনায় পতিত হয়।

বিমানবন্দরের এটিসি টাওয়ারের দেয়া ভুল অবতরণ বার্তার জেরে আকাশে অপেক্ষা করতে থাকে বিমানটি। পরে ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। আহত হন ১০ বাংলাদেশি। তাদের নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ত্রিভুবন বিমানবন্দরটিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো বিমান অবতরণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বিমানের পাশাপাশি সেখানে হেলিকপ্টারও বিধ্বস্ত হয়েছে।

আর সর্বশেষ দুর্ঘটনার শিকার হলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: