সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চায় না মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
সম্প্রতি সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের অনেকেই বলেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে মিয়ানমারে ফিরে যাবার চিন্তা না করে সেজন্য তাদের মনে ভয় ভীতি ছড়ানোর মহড়া দিয়েছে সে দেশের সেনাবাহিনী।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রথমে ফিরিয়ে নেবার বিষয়টি বলেছিল বাংলাদেশ।
কেননা সেসব রোহিঙ্গা এখনো বাংলাদেশের অভ্রন্তরে ঢোকেনি। তাই তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন নেই। সেজন্যই তাদের প্রথমে ফিরিয়ে নেবার বিষয়টি তুলে ধরেছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের সরে যাবার নির্দেশনা দিয়ে মিয়ানমার বুঝিয়ে দিল প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তারা কতটা অনাগ্রহী। এমটাই মনে করছেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান।

মুনিরুজ্জামান বলেন, “মিয়ানমারের এ ধরনের পদক্ষেপ অসহযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রোহিঙ্গারা এমনিতেই মিয়ানমারে ফিরে যাবার ব্যাপারে ভীত। তার উপর এ ধরনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি তাদের মনে আরো ভয় তৈরি করবে।”

গত অগাস্ট মাসে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর বাংলাদেশ নানা কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়েছিল। যার ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার বিষয়ে মিয়ানমারের সাথে একটি দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন সমঝোতা করে বাংলাদেশ। গত নভেম্বরের মাঝামাঝিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের পর সে চুক্তি হয়।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন মনে করেন, সীমান্তের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আবারো জানান দিল যে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা মোটেও সফল হচ্ছে না। তাহলে বাংলাদেশের সামনে আর বিকল্প আছে কী?

এ প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ” এক পক্ষের আগ্রহে কখনো দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সমাধান হবে না। আমাদের বহুপক্ষীয়ভাবে চেষ্টা করতে হবে। বাংলাদেশ তো দ্বিপক্ষীয়-ভাবে মিয়ানমারের উপর কোন চাপ তৈরি করতে পারবে না।”

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের উপর নানা ধরনের চাপ তৈরির চেষ্টা করছে আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জাতিগত-ভাবে নিধন করার প্রমাণ মিলছে বলে মনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন।

কিন্তু মিয়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে বড় শক্তি চীন, রাশিয়া এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারত। আন্তর্জাতিকভাবে নানা বিবৃতি এবং সমালোচনা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারছে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান মনে করেন, শুধু সমালোচনা কিংবা বিবৃতি দিয়ে মিয়ানমারের উপর কোন চাপ তৈরি করতে পারবে না। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে, যখন মিয়ানমারের উপর সামরিক হস্তক্ষেপই হতে পারে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান। যদি সামান্য পরিমাণও সামরিক হস্তক্ষেপ করা যায় তাহলে এর মাধ্যমে মিয়ানমার বাহিনীকে বাধ্য করা যাবে।

রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে মিয়ানমারের দিক থেকে সীমান্তে সামরিক উস্কানি ছিল বলে বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে। মিয়ানমারের হেলিকপ্টার বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, সীমান্তে সংঘাত তৈরির জন্য উস্কানি দিয়েছিল মিয়ানমার কিন্তু বাংলাদেশ সংযম দেখিয়েছে।

তবে শাহিদুজ্জামানের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। তিনি মনে করেন সীমান্তে বাংলাদেশ যদি কোন পাল্টা জবাব দিতে চায় তাহলে পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আশা ভেস্তে যেতে পারে। মুনিরুজ্জামান বলেন, ” মিয়ানমারের ফাঁদে পা দেয়া বাংলাদেশের উচিত হবে না। সীমান্তে সংঘাতময় পরিস্থিতির তৈরি হলে সেটি কোন সময় বাংলাদেশের স্বার্থে যাবে না।”

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী কতটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে সেটি তাদের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায়। বিবিসি’র বার্মিজ ভাষা বিভাগ বলছে নো ম্যানস ল্যান্ড বা জিরো লাইন শব্দগুলো যাতে ব্যবহার না করা হয় সেজন্য মিয়ানমারের গণমাধ্যমকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিবিসির বার্মিজ ভাষা বিভাগের বো মও ব্যাখ্যা করছিলেন, সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধির পেছনে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরছে মিয়ানমার।

বো মও বলেন, ” বার্মার কর্তৃপক্ষ মনে করে সীমান্তে আরসার (আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি) সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে। ”

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার বিষয়ে মিয়ানমার কি সত্যিই আগ্রহী?

ভারতের সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক নিয়মিত মিয়ানমারে আসা-যাওয়া করেন। সেখানকার সরকার এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি কথা বলেন। বিবিসি বাংলাকে সুবীর ভৌমিক বলেন, “সেনাবাহিনীর একটি অংশ এ প্রত্যাবাসন ঘটুক সেটা চায় না। মিয়ানমার আর্মির মধ্যে একটি ভেস্টেড ইন্টারেস্ট আছে যারা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আটকাতে চায়।”

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, রোহিঙ্গা সংকটের ছয়মাস পার হলেও এ সংকট সমাধানের কোন লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। এ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঘাড়েই চেপে গেল কিনা সেটি নিয়েও অনেকে আশংকা প্রকাশ করেন।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন

সূত্র: বিবিসি বাংলা




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: