সর্বশেষ আপডেট : ২২ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পরীক্ষার আগে অভিভাবকদের উদ্দেশে এক প্রিন্সিপালের অসাধারণ চিঠি

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক::
বর্তমান বিশ্বে চলছে এক অস্থির প্রতিযোগিতা, কে কাকে পিছে ফেলে এগিয়ে যেতে পারে। আর এজন্য শুধু সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়াই যথেষ্ট হিসেবে বিবেচিত হয় না। পাশাপাশি একাডেমিক পরীক্ষাগুলোতেও দরকার খুব ভালো নম্বর। নয়ত একটি নম্বরের জন্যই হয়ত কাউকে এক হাজার জনের চেয়ে পিছিয়ে যেতে হয়। এজন্য সব শিক্ষার্থীরাই ভালো ফলাফলের চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত।

বসে নেই বাবা-মায়েরাও। তারাও সন্তানদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতায় সহজেই সামিল হন। কোমলমতি শিশুদের উপর অমানুষিক মানসিক চাপ দিতে, কিংবা কাঁধে শরীরের চেয়ে বড় ব্যাকপ্যাক চাপিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না তারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্তানকে খাটিয়ে মারেন, দৌড় করান এক টিউশন থেকে আরেক টিউশনে।

কিন্তু এরপরও যদি কেউ পরীক্ষায় তুলনামূলক খারাপ ফল করলে তার উপর নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন। আর সেই নির্যাতন সইতে না পেরে অনেক শিশুই ভিতরে ভিতরে মরমে মরে যায়। কেউ কেউ তো আত্মহননের মত পথও বেছে নেয়।

কিন্তু পরীক্ষার এই অচলায়তন ভাঙার মত সাহস বা আন্তরিকতা নেই কারও। না সচেতন নাগরিকদের, না সুশীল সমাজের, না সরকারের। এ চিত্র শুধু আমাদের বাংলাদেশেরই, এমনটি ভাবলে খুব বড় রকমের ভুল হবে। এ চিত্র আজ গোটা বিশ্বেরই। তবে কখনও কখনও দুই-একটি ব্যতিক্রমও কিন্তু চোখে পড়ে।

সেরকমই একটি দৃষ্টান্ত হলো বছরখানেক আগে ভার্চুয়াল জগতে ভাইরাল হওয়া একটি চিঠি। সেটি লিখেছিলেন সিঙ্গাপুরের কোন একটি স্কুলের শিক্ষক। তার স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে। তার এই চিঠির বলিষ্ঠ বক্তব্য ও যুক্তিসঙ্গত সত্য-বয়ান মুগ্ধতা ছড়িয়েছিল গোটা বিশ্বজুড়ে। অনেক মানুষই তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছিল সেই চিঠি পড়ে।

কী এমন যাদু ছিল সেই চিঠিতে যা পড়ে বদলে গেছে অনেক শিক্ষার্থী এমন বাব-মায়েরাও? চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক।

প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ,

খুব শীঘ্রই আপনাদের সন্তানদের পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। আমি জানি আপনারা আপনাদের সন্তানেরা যাতে ভালো করে সে ব্যাপারে খুবই চিন্তিত।

কিন্তু অনুগ্রহ করে একটি কথা মনে রাখবেন, যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে চলেছে তাদের মধ্যে রয়েছে এমন একজন শিল্পী, যার গণিত বোঝার কোন প্রয়োজন নেই। আছে এমন একজন উদ্যোক্তা, যার ইতিহাস বা ইংরেজি সাহিত্য বোঝা না বোঝায় কিছুই যায় আসে না। তারপর আছে একজন সংগীতশিল্পী, রসায়ন বুঝতে যার বয়েই গেছে। তারপর আছে একজন অ্যাথলেট, ফিজিক্সের চেয়ে ফিজিক্যাল ফিটনেস যার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যদি আপনার সন্তান সর্বোচ্চ নাম্বার পায়, তাহলে তো সেটি চমৎকার একটি ব্যাপার! কিন্তু সে যদি তা না পায়, দয়া করে তার আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানবেন না। নিজের ব্যাপারে তার যে আত্মসম্মানবোধ আছে, সেটিকে ধ্বংস করে দেবেন না। তাকে বলবেন যে এটি কিছুই না। এটি কেবলই একটি পরীক্ষা। তাকে বলবেন, জীবনে তার আরও অনেক বড় বড় সাফল্য অর্জনের রয়েছে। তাকে বলবেন, তাকে আপনি ভালোবাসেন, আর তার পরীক্ষার নম্বর দিয়ে আপনি তাকে বিচার করেন না। দয়া করে এই কাজটি করবেন। এবং যদি আপনি তা করেন, দেখবেন একদিন কীভাবে আপনার সন্তান বিশ্বজয় করছে। তার মধ্যে যে অপার সম্ভাবনার বীজ লুকিয়ে আছে, একটি পরীক্ষার কম নম্বর তাকে বিনষ্ট করতে পারবে না। তার স্বপ্ন ও মেধার গায়ে আঁচড় বসাতে পারবে না। এবং অনুগ্রহ করে এমনটি ভাবা বন্ধ করুন যে, কেবল ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়াররাই পৃথিবীর একমাত্র সুখী মানুষ!

উষ্ণ অভিবাদন
প্রিন্সিপাল

এটি এমনই এক চিঠি যা কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা দিনক্ষণ দিয়ে বেধে রাখা যায় না। চিঠিতে রয়েছে একটি সার্বজনীন বার্তা যা সব দেশের এবং সময়ের জন্য প্রযোজ্য। আগামী মাসেই শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। সামনে প্রকাশিত হতে চলছে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। যারা পরীক্ষায় আশানরূপ ফল করতে পারবে না, দয়া করে তাদের ওপর নাখোশ হবেন না, ভালো মন্দ যাই করুক সে তো আপনারই সন্তান। তাকে ভালোবাসুন, সাহস দিন এবং মন খারাপের সময়টায় তার পাশে থাকুন। নিজেকে শান্ত রাখতে না পাড়লে এ চিঠিটা পড়ুন, একবার নয়, প্রয়োজনে বহুবার।

সূত্র: ইন্টারনেট




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: