সর্বশেষ আপডেট : ৩৪ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হামলাকারীদের সংখ্যা জানাতে পারছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক:: জনপ্রিয় লেখক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী ফয়জুল হাসানকে হাতে নাতে আটক করা হলেও আসলে হামলাকারী কতজন তা এখনও জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন হামলাকারী দু’জন ছিল। সরাসরি হামলায় অংশ নেয় ফয়জুর আর অপর ব্যক্তি হামলার পরপরই পালিয়ে গেছে।

তবে এখন পর্যন্ত এই হামলার পেছনে ফয়জুর একা না আরও কেউ জড়িত তা খুঁজে বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে এ হামলার ব্যাপারে এখনও অন্ধকারে রয়েছে প্রশাসন। ফয়জুর সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় সবাই।

এদিকে, হামলাকারীর নাম ফয়জুল হাসান ওরফে শফিকুর (২৪) আহলে হাদিস বা সালাফি মতবাদে উদ্বুদ্ধ।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, তার কুয়েত প্রবাসী দুই চাচার প্রভাবে পুরো পরিবার মসজিদে ভিন্ন পদ্ধতিতে নামাজ পড়তেও শুরু করে। এনিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে সমস্যারও সৃষ্টি হয়।
ফয়জুরদের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কালিয়ারকাপন গ্রামে। সে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শেখপাড়ার কাঁচা মঞ্জিলের স্বত্বাধিকারী হাফিজ আতিকুর রহমানের ছেলে।

ফয়জুর নগরের জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশনের দ্বিতীয় তলার মঈন কম্পিউটারে কর্মরত ছিল। তার বাবা শহরতলির টুকেরবাজার এলাকার শাহ খুররুম মখলিছিয়া হাফিজিয়া মহিলা মাদরাসার শিক্ষক। বড় ভাই এনামুল হাসান ঢাকায় থাকেন। আরেক ভাই আবুল হাসান কুয়েতপ্রবাসী। আর ছোট দুই বোন হাফসা বেগম ও হাবীবা বেগম মাদরাসায় পড়ে। হাফসা রশীদিয়া হাফিজিয়া মাদরাসায় আর হাবীবা বাবার মাদরাসায় পড়ে।

হামলাকারী ফয়জুর দিরাই ধল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করে। এরপর সিলেটে একটি মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দেয়। তবে কোন মাদরাসা থেকে পরীক্ষা দিয়েছে এ সম্পর্কে কেউ জানে না।

ফয়জুরের পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা ‘রহস্যজনক’। তারা কারও সঙ্গে মিশতো না। বাসা থেকেও খুব একটা বের হতো না। শুধু মসজিদে নামাজে যাওয়ার জন্য বের হয়। সবাই মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত। বড় ভাই হাফিজ হাসান আগে নগরের পাঠানটুলা জামেয়ায় পড়ালেখা করতো।

জানা যায়, গ্রামের বাড়ির মসজিদে ভিন্ন পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করতে গিয়ে মুসল্লিদের তোপের মুখে পড়েছিল ফয়জুর। একপর্যায়ে তাকে ও তার চাচাকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়া হয়। হামলাকারীর দুই চাচা আবদুল জাহার ও আবদুল সাদিক ২০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতে বসবাস করছেন। তার ভাই আবুল হাসান ছয় মাস আগে কুয়েত যান।

স্থানীয়রা জানান, দুই চাচা মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে সালাফি মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে পড়েন। তারপর থেকেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উগ্রভাব দেখা দেয়।

অন্যদিকে, রোববার বিকেলে এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, এ হামলার ঘটনা তদন্তে নেমেছে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট। তাদের একটি টিম রোববার সিলেটে এসেছে বলে জানা গেছে।

হামলার ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাব মিলে ফয়জুরসহ এ পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করেছে। রোববার রাতে ফয়জুরের বাবা-মাকে আটক করে পুলিশ। ফয়জুলকে আসামি করে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এখনও হামলার নেপথ্য কারণ উদঘাটন করতে না পারলেও জঙ্গিদের টার্গেট করেই এগোচ্ছে তদন্ত কার্যক্রম। শনিবার মধ্যরাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, ফয়জুরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। নিজের নামও একেক সময় একেকটি বলছে। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুর বলেছে, ‘জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু তাই তার উপর হামলা করা হয়েছে।’

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৯ এর প্রধান বলেন, ফয়জুর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী হয়েই সে এ হামলা চালিয়েছে। তবে ফয়জুর কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কীনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়াও বলেছেন, শনিবারের হামলা উগ্রবাদী গোষ্ঠির কাজ কীনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া হামলার ধরন দেখে এটা জঙ্গিদের কাজ এমন আশঙ্কা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে অতীতে এ ধরনের বিভিন্ন হামলার পর বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠি অনলাইনে দায় স্বীকার করার খবর প্রকাশ পেলেও জাফর ইকবালের উপর হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি।

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালকে হত্যার চেষ্টা চালায় ফয়জুর। হামলার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে আটক করে। জাফর ইকবাল বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় রাজধানীর সিএমএইচে চিকিৎসাধীন।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: