সর্বশেষ আপডেট : ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৮ মে, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানালেন সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরুল মোমেন

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা:: জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের নতুন সিলেবাস অনুযায়ী প্রপেসর ইয়াসমিন আহমেদ ও রাখী বর্মন সংকলিত মোহাম্মদ ইকরাম উল্লাহ কর্তৃক আজিজিয়া বুক ডিপো ৩৮ বাংলাবাজার ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন” নামক একটি বইয়ের ৪৬০ পৃষ্টায় শেখ হাসিনার শাসনামল (১৯৯৬-২০০১) শীর্ষক রচনায় শেখ হাসিনা সরকারের ব্যর্থতাসমূহ উল্লেখ করতে গিয়ে ৭ নং অধ্যায়ে মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়করণ সম্পর্কে প্রকাশিত রচনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা ইউনিট কমান্ডার হাজী নুরুল মোমেন।

হাজী নুরুল মোমেন এর প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়েছেন,জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকা অনুমোদিত আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জাহান ও সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক আল-হেলাল। তারা বলেন,বিএ ক্লাসের পাঠ্য বই কিংবা গাইড বইয়ে সরকারের সফলতার পাশাপাশি সরকারের ব্যর্থতা সম্পর্কে কোন বিশেষ রচনা থাকতেই পারে। কিন্তু যেকোন ব্যর্থতার ইতিহাস হতে হবে স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন যুক্তিসঙ্গত ও নির্ভেজাল। কেননা পাঠ্য বইয়ের এ ধরনের রচনাই ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক হতে পারে। অথচ ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে একেবারে নির্জলা মিথ্যা বক্তব্য কোন মুক্তিকামী মানুষের কাম্য হতে পারেনা। তাই এসব মিথ্যা বক্তব্য পাঠ্য বইয়ের রচনা থেকে অবিলম্বে বাতিল করার দাবী জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়করণ অধ্যায়ের ৩নং লাইনে উল্লেখ করা হয়েছে “শেখ মুজিবুর রহমান স্বেচ্ছায় হানাদার বাহিনীর নিকট ধরা দিয়ে সমগ্র জাতিকে চরম বিভ্রান্তি ও বিপর্যয়ের মুখে ফেলে রেখে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। অন্যদিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্রুত স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জীবনবাজী রেখে রণক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন”।

রচনার এ বক্তব্যের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে মুক্তিযোদ্ধা হাজী নূরুল মোমেন বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান স্বেচ্ছায় হানাদার বাহিনীর নিকট ধরা দিয়ে সমগ্র জাতিকে চরম বিভ্রান্তি ও বিপর্যয়ের মুখে ফেলে রেখে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান-এমন বক্তব্য শুধু তথ্য বিকৃতিই নয় বরং ঢাহা মিথ্যাচার। এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা বক্তব্যের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতি করা হচ্ছে। কারণ গ্রেফতার হওয়ার আগেই শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাধীনতা স্বায়ত্বশাসন ও গণতন্ত্রের।

এছাড়া গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৫ মার্চ ওয়ারলেস ম্যাসেজ যোগে তৎকালীন সকল এমপিএ ও এমএনএ সাহেবদের কাছে স্বাধীনতা ঘোষনার তারবার্তা প্রেরণ করেছিলেন। গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। এবং কারাঘারে তাকে অমানবিক নির্যাতনের পাশাপাশি জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাই কোন মানুষ জেলখানায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে পারেনা। এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্রুত স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জীবনবাজী রেখে রণক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন-এ বক্তব্যের জবাবে তারা বলেন, শহীদ বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে নয় স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী মুজিবনগর সরকারের অধীনস্থ একজন মেজর অর্থাৎ সেনা অফিসার হিসেবে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মূলত এটি ছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারের পক্ষে দেয়া ঘোষণা। এই ঘোষণায় জিয়াউর রহমান নিজের কন্ঠেই বলেছিলেন “অন বেহাফ অব আউয়ার গ্রেট লীডার শেখ মুজিবুর রহমান”। সুতরাং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টির সাথে বঙ্গবন্ধুর নাম যেখানে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এহেন মন্তব্য ও বক্তব্য জগন্য মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে জগন্য মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা। উল্লেখ্য বিতর্কিত এই বইটি ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশিত হয়। এবং ২০১৫ সালের মে মাসে পুনমুদ্রণ করা হয়।

 




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: