সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঘুরে এলাম স্থাপত্যশিল্পে আগা খান অ্যাওয়ার্ড পাওয়া ‘ফ্রেন্ডশিপ’ সেন্টার

মারুফ হাসান :: 

সচরাচর চোখে পড়ে না। খুব কাছে গেলেও বুঝবার উপায় নেই যে এখানে পৃথিবী খ্যাত একটি স্থাপনা লুকিয়ে আছে। প্রিয় পাঠক গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়িতে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডশিপ’ সেন্টারটির কথাই বলছি। পরিবেশ বান্ধব প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার স্থাপত্য শিল্পে সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি উজ্জল করেছে।
https://www.youtube.com/watch?v=y91skSz8g_M&feature=youtu.be

ভবনের ছাদ আর ভূপৃষ্ঠ একই লেভেলে হওয়ায় দূর থেকে ভবনটি দেখা যায় না। ছাদে সবুজ ঘাসের আচ্ছাদন থাকায় ছাদ ও গ্রাউন্ডের নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করেছে। প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার মহাস্থানগড় থেকেই নেয়া হয়েছে এর নির্মাণ শৈলীর ধারণা। মাটির নিচে নির্মিত এ ভবনটিকে উপর থেকে দেখলে অনেকটা প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের মতোই দেখায়।

২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর গাইবান্ধা-বালাসী সড়ক ঘেঁষে ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামে প্রায় ৮ বিঘা জমির মাটির নিচে ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটি গড়ে তোলা হয়। ভবনের আয়তন ৩২ হাজার বর্গফুট। স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘আরবানা কন্সট্রাকশন’ এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। নির্মাণকাজ শেষ করতে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। এতে খরচ হয়েছে প্রায় আট কোটি টাকা।

ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে ২টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, থাকার জন্য ২৪টি কক্ষ, উন্নত খাবার ব্যবস্থার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ খেলাধুলা, বই পড়ার জন্য লাইব্রেরি ব্যবস্থা আছে। আছে ইন্টারনেট সুবিধা, উন্নতমানের শব্দযন্ত্র, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর এবং নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা । এখানকার জমিতে চাষ করা হয় বিষমুক্ত সবজি।
এছাড়া এখানে আছে ঔষধি গাছের বাগান। আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতিতে প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতে একটি উঠান থাকে ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারেও তেমনি উঠানের অংশ রাখা হয়েছে। এসব তদারকির জন্য সেন্টারে মোট ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রশিক্ষণ সেন্টার হওয়ায় প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নিরিবিলি ও শান্ত একটি পরিবেশ তৈরি এবং পর্যাপ্ত আলো আর বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভবনের ছাদে সবুজ ঘাসে ঢাকা ও কক্ষগুলো মাটির নিচে থাকায় প্রাকৃতিকভাবেই অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা থাকে। চারপাশের কক্ষগুলো ছাড়া অন্য ঘরের প্রাকৃতিক আলোর উৎস স্কাই লাইট। ভেন্টিলেসন ব্যবস্থাও প্রাকৃতিক। প্রতিটি ব্লকের উচ্চতা সমান, পুরো বিল্ডিংয়ে লাইট কোর্ট ও উন্মুক্ত চাতাল আলো-ছায়ার দারুণ সমাহার তৈরি করে। ভবন এলাকায় ৫টি ওয়াটার পুল আছে। পুরো ভবনে অভিন্ন ইট আর সিমেন্টের গাঁথুনি প্লাস্টার ব্যবহার হয়নি। ছাদে যাতে কোনো পানি জমে না থাকে সে জন্য পুরো ছাদজুড়ে চমৎকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কিছু কিছু স্থানে খুব যত্ন সহকারে ড্রেনকে দৃষ্টির আড়াল করা হয়েছে।



ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের সহকারি ব্যবস্থাপক লোকমান হোসেন জানান, গতবছরের ৩ অক্টোবর আগা খান স্থাপত্য প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পায় প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বের ৬৯টি দেশের ৩৪৮টি প্রকল্প প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয় ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার। এ ছাড়া সুন্দর স্থাপত্য নির্মাণের জন্য ২০১২ সালে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্কিটেক্স রিভিউ ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটিকে ‘এআরপ্লাসডি অ্যাওয়ার্ড’ দেয়।

গড়ে তোলার লক্ষ্য : প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী মর্যাদা এবং আশা নিয়ে জীবন-যাপনের সুযোগ করে দিতেই ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ-এর যাত্রা শুরু। উত্তরবঙ্গের চর এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলের ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত এলাকার ঝুঁকিপ্রবণ মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করছে ফ্রেন্ডশিপ।
ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে সুবিধা বঞ্চিত সেই সকল জনগোষ্টিকে নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বি করে তোলা হয়। নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান তাদের সভা-সমাবেশ করার জন্য ভাড়া দেয়া হয় ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার।

যেভাবে যাবেন :
আপনাকে প্রথমে গাইবান্ধা জেলা শহরে পৌছাতে হবে। শহরের বাস টার্মিনাল থেকে ব্যাটারি চালিত টমটম অথবা সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়কে ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলে দেখা মিলবে ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের। এ ক্ষেত্রে আপনাকে ২০/২৫ টাকা ভাড়া গুনতে হবে।
মনে রাখতে হবে ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারটি জনসাধারণের জন্য উন্মোক্ত নয়। পূর্বানুমতি সাপেক্ষে এর ভেতরটা পরিদর্শন করা যেতে পারে।

তথ্যকণিকা ::
ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক : রুনা খান
স্থপতি : কাসেফ মাহবুব চৌধুরী। অধিকর্তা ‘আরবানা কন্সট্রাকশন’
ঠিকানা : গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনপাড়া গ্রামে ‘ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার’ অবস্থিত।
এলাকা : নির্মাণ এলাকা ২৮৯৭ স্কয়ার মিটার, সাইটের এলাকা ৯২১০ স্কয়ার মিটার।
প্রকল্প সমাপ্তি বর্ষ : ২০১১
ক্লায়েন্ট : ফ্রেন্ডশিপ এনজিও
ব্যায় : ৮ কোটি টাকা প্রায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: