সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিএনপির জন্য ইন্নালিল্লাহ পড়াই শ্রেয়

শাহ সুহেল আহমদ ::
রাজনীতির ছাত্র হিসেবে একজন নেতার গুণাবলী খুব ভালভাবে পড়তে হয়েছে। আর এই বিষয়টি আমার কাছে অনেক প্রিয়ও বটে। তাই ঘেটে ঘেটে নেতার গুণাবলী পড়ার চেষ্টা করেছি। যদি ভুল না করি তবে এটা নিশ্চিত যে, একজন নেতার গুণাবলীর তালিকায় কোথাও চোখ কোচলানোর কথা লিখা নেই। অর্থাৎ একজন নেতা কখনও প্রকাশ্যে কাঁদতে পারেন না। এতে নেতাকর্মীদের মনোবল দুর্বল হয়ে পড়ে।

বেগম খালেদা জিয়া যেদিন সেনা নিবাসের বাসা ছেড়ে দিয়ে কাঁদলেন, সেদিনই মনে হয়েছিল- এতো বড় দলের সর্বোচ্চ পদদারী একজন নেতা হয়ে যদি এভাবে ক্যামেরার সামনে কেঁদে বেড়ান, তাহলে কর্মীরা কোথায় গিয়ে মাথা গুজে দাঁড়াবে?

এরপর…!!! মীর্জা ফখরুল, রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যুতে কাঁদলেন-কাঁদালেন। ফলাফল কী দাঁড়াল? আজ বছরের পর বছর তারা কেঁদেই চলেছেন।
এখানে নেতার গুণাবলী লিখছি না। তবুও সংক্ষেপে শুধু এই কথাটা বলি- নেতা হবেন অপ্রতিরোধ্য। চরম ধৈর্যশীল আর কঠিন। তিনি কখনও কাঁদবেন না, তবে কাঁদাবেন।

আদালতে রায়ে খালেদা জিয়া জেলের বাসিন্দা, খবরটি পুরনো হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ খবর খুঁজছে- গত দু’দিন থেকে বিএনপি রাজপথে কী করছে-কী করতে পেরেছে। দলের চেয়ারপার্সন জেলবন্দি হওয়ার পর বিএনপি যা করেছে তার ফলাফল শূন্য।

বিভিন্ন কারণে শেখ হাসিনার সরকার আমার কাছে প্রিয়। তাই বলে আমি অন্ধ ভক্ত নয় মোটেও। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আদালতের রায় নিয়ে জেলে। তবে এখানে সরকারের একটা কিন্তু (?) আছে। যে যতই বলুন, এ রায় যে একেবারেই ধোয়া তুলসী পাতার মতো, তা কিন্তু নয়। এটা শুধু আমার নয়, সচেতন নাগরিক তো বটেই একজন খেটে খাওয়া মানুষের বোধগম্য। তবুও আদালতের রায় বলে কথা…! খালেদা জিয়া মেনে নিয়েছেন। বিএনপিও কি মেনে নিল?

রায়ের প্রায় মাস খানেক আগে থেকে শীর্ষ নেতারা যেসব বুলি আওড়ালেন, তার তো বিন্দুমাত্রও কোনো প্রভাব দেখি নি গত দু’দিনে। কেউ বললেন, নেত্রীর সাজা হলে গণবন্দি হবেন সবাই। কেউবা হুংকার দিলেন- নেত্রীর সাজা হলে, মুক্তি না হয় লাশ। আরো কত বাহারি রকমের ডায়লগ মারলেন নেতারা। রায়ের পর কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তো পরিস্থিতি শান্তই ছিল বলা চলে। যদিও একটা উত্তপ্ত ভাব ছিল, কখন কী ঘটে! শেষ পর্যন্ত কিছুই ঘটে নি।

সিলেটের একজন শীর্ষ নেতার কথা বলি। তিনি শার্ট পেন্ট ইনটিন করে বাসা থেকে বেরিয়েছেন। কোথায় যাবেন অথবা যেতেন তা জানিনা। বাসা থেকে বেরুনোর পরপরই পুলিশের বাধা। তিনি বাসার বাইরে যেতে পারবেন না। নির্দিষ্ট ফটোগ্রাফার সেই ছবি তুলে নির্দিষ্ট দু একটি অনলাইনে নিউজ ছেড়ে দিলেন, পুলিশের বাধায় বাসা থেকে বেরুতে পারেন নি নেতা। সাব্বাস। এই সময়ে এমন কৌশলী রাজনীতিটাই তো তৃপ্তির! অথচ, যদি দল আর নেত্রীর জন্য প্রাণ উজাড় করা ভালবাসা থাকতো তবে সামনের গেট দিয়ে নয়, পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে তিনি পেছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে মাঠে থাকতেন।

আরেকজন নেতার কথা বলি। রাজপথে কর্মীরা পুলিশ আর ছাত্রলীগের সাথে মার করছে। তিনি পাশের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে উঁকি দিয়ে পরিস্থিতি দেখছেন। এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তার কিছু ভক্ত তাঁকে রক্ষা করতে নেতা অসুস্থ বলে আলাদা স্ট্যাটাসের জন্ম দিচ্ছেন।
এই দুই উদাহরণের পর আর বাকী নেতারা কে কীভাবে বের হয়েছেন কিংবা বের হতে পারেন নি, তা আর ব্যাখ্যার প্রয়োজন মনে করছি না।

দলীয় অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের অনেক নজির বিশ্বে রয়েছে। দেশের শীর্ষ দু’দলের একদলের নাম বিএনপি। সেই দলের চেয়ারপার্সন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলবন্দি হওয়ার পর বিএনপি যা করেছে, তা নিছক একজন সাধারণ নেতার জন্যও করা হয়।
নেতারা হয়তো ধরে নিয়েছেন, এখন আর মাঠে মরে লাভ নেই। তাই তারা সাধ্যমতো! প্রতিরোধ করেছেন। যদি তাই হয়, তবে দলটির জন্য ইন্নালিল্লাহ পড়াই শ্রেয়।

লেখক : প্রবাসী সাংবাদিক

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: