সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অধ্যক্ষকে ফাঁসাতে আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘ধর্ষণ’ নাটক

নিউজ ডেস্ক:: রাজশাহীর পবা উপজেলার কাপাশিয়া এলাকার একটি কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা হেনস্থার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে ওই অধ্যক্ষকে ফাঁসাতে ‘ধর্ষণ’ নাটক সাজিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

‘মহানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট’ নামে ওই কলেজটির অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপন সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তোলেন।

 

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ রিপন বলেন, রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র চলছে। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে কলেজের স্কুল শাখার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে এলাকায় প্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলাম। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের সঙ্গে আমার মতানৈক্য তৈরি হয়। সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের হয়ে কাজ করায় ক্ষিপ্ত হয় ওই পক্ষটি। এরপর থেকেই ওই পক্ষটি আমার ও আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

অধ্যক্ষ বলেন, গত বছরের ৩১ জানুয়ারি তার কলেজের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করা হয়। সে অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ। এরপরও থেমে থাকেনি ষড়যন্ত্রকারীরা।

গত ২৬ জানুয়ারি কলেজে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে পুড়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। সর্বশেষ গত সোমবার তাকে জড়িয়ে কলেজেই এক ছাত্রীকে ধর্ষণের নাটক সাজানো হয়।

অধ্যক্ষের দাবি, ভাড়াটে লোক নিয়ে গিয়ে এ ইস্যুতে সোমবার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা হয়েছে এলাকাবাসীর নামে। তাতে অংশ নেয়নি ওই ছাত্রীর পরিবার ও এলাকার লোকজন। অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ। ওই বিক্ষোভের সূত্রে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তার এবং কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। ছাত্রীর পরিবারও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ঈর্ষণীয় ফলাফল করে আসছে। পাশের কাপাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয় তাদের প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক এ ষড়যন্ত্রে যুক্ত কাপাসিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজামাল জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ রানা, শাহাজাহান আলীসহ কতিপয় নব্য আওয়ামী লীগ নেতা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলা যুবলীগের সদস্য অধ্যক্ষ রিপন বলেন, ওই ছাত্রীর পরিবারকে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করাতে চাপ দিয়ে আসছে তার প্রতিপক্ষরা। তারা মঙ্গলবার সকালে ওই ছাত্রীর বাবাকে তুলে নিয়ে চাপ প্রয়োগ করেছেন। মেয়ের চাকরি ও মোটা অর্থের প্রলোভন দিয়েছেন। কিন্তু তাতে রাজি হননি মেয়ের বাবা। বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা অবগত আছেন বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান রাজ, মকসেদ আলী, প্রভাষক হকসাদ আলী, ইনস্ট্রাকটর আহমেদ শরীফ, রায়হানুল ইসলাম, কম্পিউটার প্রদর্শক আলী হোসেন ও সহকারী শিক্ষক ইমরান আলী সরদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ রিপনের এমন দাবির ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই ছাত্রীর চাচি বলেন, তাদের মেয়ে কারিগরি পড়তে চায় না। এ জন্য গত রোববার দুপুরে ওই ছাত্রীর ছোট চাচা কলেজে বদলি সার্টিফিকেট আনতে যান। কিন্তু অধ্যক্ষ রাজি হননি।

এ নিয়ে অধ্যক্ষর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাটিকেই একটা মহল ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে তারাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। ধর্ষণের চেষ্টার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: