সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দেড়যুগে সুন্দরবনে ৩৫ বাঘের মৃত্যু, ১৫টি পিটিয়ে হত্যা

নিউজ ডেস্ক:: সুন্দরবনে গত দেড়যুগে কমপক্ষে ৩৫টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় অন্তত ১৫টি বাঘ মারা পড়েছে গ্রামবাসীর হাতে। সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী গ্রামে আড়াই বছর বয়সী একটি বেঙ্গল টাইগারকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী। এছাড়া শিকারি, বার্ধক্যজনিত কারণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২০টি বাঘের মৃত্যু হয়।
এদিকে, বনে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৬০ জন নারী-পুরুষ। এছাড়া আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। তাদের অধিকাংশই বনজীবী, যারা বৈধ পাস নিয়ে বনজসম্পদ আহরণে গিয়ে বাঘের মুখে পড়ে। সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের সংরক্ষিত নথি থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসানের তথ্যমতে, ২০০১ সাল থেকে চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত এই বিভাগে লোকালয়ে মোট ১৮টি বাঘ মারা পড়ে। এর মধ্যে বন সংলগ্ন মংলা ও শরণখোলা উপজেলার লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় পাঁচটি বাঘকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে অন্তত চারটি বাঘের। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের সিডরের জলোচ্ছ্বাসে একটি বাঘ মারা যায়। বাকি আটটি বাঘ চোরা শিকারিদের হাতে নিহত হয়। এই সময়ে বাঘের আক্রমণে একজন নারীসহ মোট ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান ডিএফও।
অন্যদিকে গত ১৭ বছরে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে মোট ১৭টি বাঘ মারা পড়েছে। এর মধ্যে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় আটটি বাঘ মানুষের পিটুনিতে মারা যায়। ২০০১ থেকে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সেখানে ২৩৪ জন নারী-পুরুষ বাঘের আক্রমণে মারা গেছে। তাদের অধিকাংশই বনজীবী ও সুন্দরবন সংলগ্ন নদী-খালে চিংড়ি রেণু আহরণকারী।
সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে সরকার ‘বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান ২০০৯-১৭’ বাস্তবায়ন করছে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মদিনুল আহসান বলেন, এর অংশ হিসেবে বাঘ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি, বাঘের আক্রমণ থেকে বন সংলগ্ন লোকালয়ের জানমাল এবং মানুষের হাত থেকে লোকালয়ে চলে আসা বাঘ রক্ষায় ৮৯টি টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআর) গঠন করা হয়েছে। মানুষ সচেতন হচ্ছে বলে আগের তুলনায় এখন বাঘ কম মারা পড়ছে। গত দশ বছরে ৯টি বাঘ মানুষের হাতে মারা পড়ে। কিন্তু গত ২৩ জানুয়ারি গ্রামবাসীর হাতে মারা যাওয়া বাঘটি বাঁচাতে পারেনি ভিটিআর। এ ব্যাপারে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন দাবি করেন, বাঘটি রক্ষায় তারা প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর কারণে বাঘ শাবকটিকে বাঁচাতে পারেননি। এটি খুবই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন এই বন কর্মকর্তা।
লোকালয়ে বাঘ ঢুকে পড়ার পেছনে ভোলা, বলেশ্বর ও পশুর নদীর বিভিন্ন স্থানে পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাওয়াকে কারণ বলছেন বশিরুল। তার ভাষ্যমতে, নদীতে পানি কমে যাওয়ায় সুন্দরবন সংলগ্ন বেশ কিছু এলাকার লোকালয়ে বাঘ অবাধে ঢুকে পড়ছে। এই নদীগুলো খননের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। ওই প্রকল্প সম্পন্ন হলে লোকালয়ে বাঘ আসার প্রবণতা কমে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: