সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কিশোর-কিশোরীদের উৎসব মূখর নির্বাচন

মোঃ কায়ছার আলী:: “বন্ধু তোমার একটি ভোটে, যোগ্য প্রার্থী যাবে জিতে” “নাবিলার দুই নয়ন, আদর্শ স্কুলের উন্নয়ন” “ভোটে এসেছি প্রথমবার, পাশে চাই আমি সবার”। লাল, কমলা, হলুদ কাগজে হাতে লেখা এরকম শত শত রঙ্গিন পোষ্টারে দেশের ১০৪৩ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমমানসহ (৪৯৫ টি মাধ্যমিক, ৪৮৭ টি মাদ্রসা, ৬১ টি কারিগরি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ৮ই আগস্ট ২০১৫ইং শনিবার স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন প্রথম বারের মত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ২১শে মার্চ ২০১৬ সোমবার সারা দেশব্যাপী ২য় বারের মতো অবশিষ্ট মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনন্দ এবং উৎসব মুখর পরিবেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃতীয় বারের মত ৩০ শে মার্চ ২০১৭, রোজ-বৃহস্পতিবার সারাদেশে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ বছর বয়সের পূর্বেই সরকার তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোটাধিকার প্রদানের জন্য সত্যিই তারা আনন্দে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারে ভাসছে। আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তিই হল নির্বাচন এবং নাগরিক বা জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। নির্বাচন হল জনমত প্রকাশের প্রধান ও বিধি সম্মত প্রক্রিয়া এবং এর দ্বারাই প্রতিনিধি বাছাই করে তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত অবস্থা ভেদে কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সুতরাং নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না। গণতন্ত্র অব্যাহতভাবে চলতে থাকলে গ্রহণযোগ্য সাধারণেরা একসময় বিজয়ের মুকুট পরতে পারবে এটাই নিয়ম। কথায় আছে  “যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে, হবে হবেই দেখা, দেখা হবে বিজয়ে” কোন বিজয়? এদেশের আগামী নিকট ভবিষ্যতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মত , মহাবিদ্যালয়  এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল বা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয় আনার ঘ্রাণ পাচ্ছি। আমাদের এদেশে অনেক ছাত্র নেতা দেশ , জাতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তৈরি হয়েছেন। আন্দোলন, সংগ্রাম এর কেন্দ্রবিন্দু ছিল কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ সংক্ষেপে ডাকসু (জন্ম ১৯২৪ সালে সর্বশেষ নির্বাচন ১৯৯০ সালে)।

কিছু দিন আগে মহামান্য হাইকোর্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার। নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণত নেতা বা জননেতা হওয়া যায় , কিন্তু অবিসংবাদিত নেতা বা ক্যারিজম্যাটিক বা সম্মোহনি শক্তি সম্পন্ন নেতা দেশ ও জাতির প্রয়োজনে এক বারই আসে। যার নেতৃত্বে এদেশ আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম তিনি হলেন বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। পৃথিবীতে প্রতিটি দেশ ও জাতি যোগ্য নেতা বা নেতৃত্বের কারণে উন্নতি লাভ বা স্বাধীনতা অর্জন করেছে। গত ৯ আগস্ট ২০১৫ এদেশের প্রতিটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সমূহে অনিন্দ্যসুন্দর ছবি ও দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে ভিশন-২০২১ বা ডিজিটাল বাংলাদেশ সত্যিই সোনামনিদের বা কিশোর-কিশোরীদের দিয়ে পুরোপুরি গড়া সম্ভব। প্রথমেই তাদের অভিনন্দন জানিয়ে পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে কিছু কথা লিখছি। আসলে রিপোর্ট হলো তথ্যের নিমোর্হ গাঁথুনি, যাতে থাকে না অনাহুত মন্তব্য, অপ্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ অযাচিত পক্ষপাতিত্ব। এতে শুধুই থাকে তথ্যের সোজাসাপ্টা বর্ণনা। সে কারনে এটি হয়তো সুখ পাঠ্য ঠিক নয়। কিন্তু দেশ ও জাতির জন্য খুব দরকারী। এদেশ অতীশ দীপংকরের দেশ। এদেশের সোনা মাটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্য। পাহাড়পুর, মহাস্থানগড় আর ময়নামতির ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীদের হাতে  জ্ঞান আহরনের বিজয় পতাকা। বিপুল সুপ্ত সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিটি শিশু পৃথিবীতে আসে। এ সম্ভাবনা গুলো পরিচর্চা ও পরিবেশ পেলে বেড়ে ওঠে, বাস্তবতা পায়। এরকম বাস্তব দৃশ্য সারা দেশ ব্যাপী হয়ে গেল চতুর্থ বারের মত। এবার দেশের ২২৬৪৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ২৭ শে জানুয়ারি ১৬০৮৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং ২৯ শে জানুয়ারি ৬৫৫৭ টি দাখিল মাদ্রাসা। এ নির্বাচনে ১৮১১৫২টি পদের জন্য ২৮৩৩৩৯ টি শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছে। ভোট দেয় ১০৩৮৪৩৪৮ জন শিক্ষার্থী। নির্বাচনেও ভোট কেন্দ্র দখল, হানাহানি, জাল ভোটের দৌরাত্ম্য অথবা পরাজিত প্রার্থীরা নির্বাচন বয়কট করেনি। ভোটার উপস্থিতি ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ , ভোট গ্রহন চলেছে সকাল ৯ টা থেকে একটানা বেলা ২ টা পর্যন্ত। সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এবং ২০১৮ সালেও বড়দের মতো ভোট দিতে পেরে তারা বেশ আনন্দিত এবং গর্বিত।

আমিও আনন্দিত এ জন্যে যে, এ নির্বাচনে , নির্বাচন কমিশনার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার এবং আইন শৃঙ্খলা দায়িত্ব পালন করেছে কিশোর-কিশোরী বয়সের ছাত্র-ছাত্রীরা। শিক্ষক , ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং অভিভাবকেরা এ বিষয়ে সহযোগীতা করেছেন। নির্বাচনে মুদ্রিত কোন পোষ্টার ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়নি। ছাত্র পরিষদ গঠনের নীতি মালা অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ হতে ১০ম শ্রেনীর  অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা হচ্ছে ভোটার। তারা এ পাঁচটি শ্রেনী থেকে (প্রতি শ্রেণিতে কমপ্েক্ষ ১ জন৫=৫ জন এবং সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোট ৩ জন) মোট ৮ জন প্রতিনিধি সরাসরি নির্বাচিত হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছাত্র পরিষদের ১ম সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে (স্টুডেন্টস কেবিনেট) প্রথম সভা করবে। এ পরিষদকে বলা হবে ছাত্র পরিষদ। ছাত্র পরিষদ  প্রধানকে বলা হবে প্রধান প্রতিনিধি। তারা নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ৭ দিনের মধ্যে সভা করে নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব বন্টন এবং ১ম বছরের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহন করবে। কেবিনেটের মেয়াদ হবে ১ বছর, প্রতি বছর কেবিনেটের নির্বাচন হবে। তারা প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা করবে। কেবিনেট প্রধান  সভায় সভাপতিত্ব করবে। সিদ্ধন্ত গ্রহণে কেবিনেটের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হবে।  বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহযোগীতা, পরামর্শ এবং দায়িত্ব বন্টন করে দেবেন।

তাদের প্রধান দায়িত্ব ও সম্পাদিত কর্মকান্ড হল পরিবেশ (বিদ্যালয় আঙিনা ও টয়লেট পরিস্কার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) পুস্তক এবং শিখন সামগ্রী , স্বাস্থ্য , ক্রীড়া ও সংস্কৃতি , পানিসম্পদ, অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন, বৃক্ষ রোপন ও বাগান তৈরি, দিবস পালন ও অনুষ্ঠান সম্পাদনা এবং আইসিটি। নিকট অতীতে অর্থাৎ ২০১০ সালে পরীক্ষামূলক ভাবে বাছাই করা ১০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম বারের মতো এবং ২০১১ সালে ৭৪৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় বারের মতো এবং ৪ঠা ফ্রেরুয়ারী ২০১২ সালে ৩য় বারের মতো ১৩,৫৮৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের প্রতি গণতন্ত্রের চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, অন্যের মতামতের প্রতি সহিষ্ণুতা ও শ্রদ্ধা নির্দশন , বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষক মন্ডলীকে সহায়তা , ১০০ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি ও ঝড়ে পড়া রোধ, শিখন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকের সম্পৃক্ত করা, বিদ্যালয়ের পরিবেশ কর্মকান্ডে তাদের অংশগ্রহন নিশ্চিত সহ বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও নির্বাচনের আয়োজন করা । বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে তৃণমূল পর্যায়েও কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ নির্বাচন । গণতন্ত্র সর্বপ্রথম বিকশিত হয় মানুষের মনে , পবিরারে, গোষ্টিতে, স্থানীয় পর্যায়ে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর হতে হতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তা পরিপূর্ণতা লাভ করে।

বর্তমান পৃথিবীতে এ মতবাদই শ্রেষ্ঠ। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদিও প্রায় ৫১% ভোট পেয়ে ক্ষমতায় যায় আবার অন্যদিকে ৪৯% ভোট পেয়ে ক্ষমতার বাইরে থাকে। তবুও এ গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। ক্ষমতার বাইরে থাকা প্রতিনিধিরাও গণতন্ত্রকে ভালবাসে এবং পরবর্তী নির্বাচনের মেয়াদ পর্যন্ত অপেক্ষা করে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে মূল্যবোধ (ঠধষঁবং) অবশ্যই থাকতে হবে। মূল্যবোধ হল ঐরফফবহ ঞৎবধংঁৎবং এবং টহরাবৎংধষ এর তিনটি স্তর আছে ইবষরবভ, চৎড়সড়ঃব ধহফ চৎধপঃরপবং । আমরা প্রথম দুটো নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি করি কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ৩য় টি আর তা নিয়ে চুপ থাকি। যা বর্তমান সরকার চালু করেছেন। এ জন্য বর্তমান সরকার প্রধান গণতন্ত্রের মানসকণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অবশ্যই ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাই। মূল্যবোধ মহীরুহের মূল শেকড় হলে সততা ও নৈতিকতা। যার জন্ম হয় পরিবারে আর পরিচর্যা পেয়ে বড় হয়ে ওঠে শিক্ষাঙ্গনে এবং বলবান হয় সমাজ ও রাষ্ট্রের বহমান আলো ও বাতাসে। স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের মাধ্যমে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত দূরদর্শী, এবং বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন, এ প্রজন্মকে  দিয়ে আগামীতে সকল মহাবিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নৈতিক চাপে রাখতে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব আইন থাকায় তারা নানা প্রতিকুলতার কারণে নির্বাচন দেওয়ার সাহস পায় না।

তিনি বলেন, আমরা তাদের কাছে অনরোধ করতে পারি কিন্তু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারি না। তিনি গণতন্ত্রকে তৃণমূল থেকে বিকশিত বা সহনশীল করার জন্য যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তার জন্য আবারো ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। পরিশেষে শেষ প্রান্তে এসে আমি এখন মনে করছি যে, আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিজয় হয়েছিল প্রথমে এক পা ফেলে, বড় স্থাপত্য তৈরি করেছিল একটি ইট থেকে, বড় বাগানটি শুরু হয়েছিল একটি বীজ থেকে। সুতরাং কারও জন্য অপেক্ষা না করে পথ চলতে হবে, হাজার হাজার মাইলের পথ। পারি দিতে হবে দীর্ঘ, কাটাযুক্ত, আঁকা বাকা পিচ্ছিল গণতন্ত্রের পথ। গণতন্ত্র সৌন্দর্যের পূজারী, ভিন্ন মত অলংকার। এ কথা বাস্তবে রুপ লাভ করুক সর্বত্র। যদিও ছাত্র রাজনীতি বর্তমান অবস্থা ধূসর তবে এর সোনালী অতীত আবারও ফিরে আসতে শুরু করেছে ছোট্ট সোনামনিদের বা কিশোর-কিশোরীদের দিয়ে।

লেখকঃ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট  

 

 

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: